ঢাকা ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯

সহজ ম্যাচে উত্তেজনা বাড়িয়ে জয় তুলে নিলো বাংলাদেশ

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৯:১২:০২ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১১:১৪:০৯
সহজ ম্যাচে উত্তেজনা বাড়িয়ে জয় তুলে নিলো বাংলাদেশ

সফরকারী আফগানিস্তানের দেওয়া ২১৬ রানের লক্ষ্য টপকাতে গিয়ে শুরুতেই মাত্র ৪৫ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ দল। ম্যাচে উত্তেজনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করতে হয় আফগানদের।

৬ উইকেট হারিয়েও আফিফ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বিপর্যয়ে পড়েও এই জুটির অসাধারণ দৃঢ়তায় ৪ উইকেটে জয় তুলে নেয় টাইগাররা।

বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মাঠে নামে দুইদল। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। ৪৯.১ ওভারে ২১৫ রানে গুটিয়ে যায় আফগানরা।

আফগানিস্তানের দেওয়া ২১৬ রানের টার্গেটকে খুব সহজ মনে হলেও শুরুতেই মহা বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।


বাংলাদেশ ইনিংসের তৃতীয় ওভারের তৃতীয় ও পঞ্চম বলে দুই ওপেনারকে হারায় স্বাগতিকরা। প্রথমে ফজলহক ফারুকির তৃতীয় বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন লিটন দাশ (১)। ঠিক তার পরের বলেই ফারুকি এলবির ফাঁদে ফেলেন তামিম ইকবালকে (৮)।

এখানেই শেষ নয়, ৩ রান করা মুশফিকুর রহিমকেও এলবির ফাঁদে ফেলে বিদায় করেন সেই ফারুকি। আর একই ওভারের শেষ বলে শূন্য রানে বোল্ড হন ইয়াসির আলী রাব্বি।  

এরপর মাঠে নামেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু ১৫ বলে মাত্র ১০ করে তিনি মুজিব উর রহমানের বলে বোল্ড হন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। অন্যদিকে ১২তম ওভারে রশিদ খান নিজের দ্বিতীয় বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ১৭ বলে ৮ রান করে ফেরেন মাহমুদউল্লা। 

শুরুতে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পরে বাংলাদেশ। এমন সময় হাল ধরেন আফিফ-মিরাজ।

ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন আফিফ হোসেন। পিছিয়ে থাকেননি মিরাজ, ওয়ানডের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। এই জুটির ব্যাট থেকেই আসে বাংলাদেশের জয়।


এর আগে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ২১৫ রানে অলআউট হয়েছে সফরকারী আফগানিস্তান। বাংলাদেশ দলের আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের সামনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি আফগানরা।  

ম্যাচের শুরুতেই ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। নিজের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে আফগান ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজকে শিকার করেন সদ্য শেষ বিপিএলের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ফিজ। মিড উইকেটে বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ক্যাচ দেন সাত রান করা গুরবাজ। ম্যাচের ১৪তম ওভারে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন শরিফুল ইসলাম। স্লিপে থাকা ইয়াসির আলিকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ২৩ বলে ১৯ রান করা ইব্রাহিম। 

তখনও আফগানিস্তানের রানের চাকা সচল রেখেছিলেন রহমত ও অধিনায়ক হাসমতুল্লাহ শাহিদি। তবে দলীয় ১০২ রানের মধ্যে এই দুই সেট ব্যাটারকে ফেরান তাসকিন ও মাহমুদুল্লাহ। নিজের ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে রহমতকে ৩৪ রানে থামান তাসকিন। আউট হওয়ার আগে ৬৯ বল খেলে ৩টি চার মারেন রহমত। ২৮তম ওভারে প্রথমবারের মত বল করতে এসেই সাফল্যের দেখা পান মাহমুদুল্লাহ। ঐ ওভারের শেষ বলটি কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়া শাহিদি করেন ২৮ রান। 


২৮ ওভার শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১০২। রান রেট ছিলো- ৩ দশমিক ৬৪। এমন অবস্থায়  রানের গতি বাড়াতে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলেন নাজিবুল্লাহ জাদরান ও মোহাম্মদ নবি। কিন্তু ৩৯তম ওভারে আক্রমনে এসে দলকে দারুন এক ব্রেক-থ্রূ এনে দেন তাসকিন। কভার দিয়ে খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ২৪ বলে ২ বাউন্ডারিতে  ২০ রান করা নবি। নবি-জাদরান পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৬৩ বলে ৬৩ রানের সংগ্রহ পায় সফরকারীরা।

৪৩তম ওভারে নাজিবুল্লাহ তার হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পেতে ৭০ বল খেলেছেন জাদরান। 


ম্যাচের ঠিক ৪৫তম ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নেন সাকিব। ঐ ওভারের তৃতীয় বলে গুলবাদিন নাইবকে ১৭ রানে ও শেষ বলে রশিদ খানকে শুন্য রানে ফিরিয়ে দেন তিনি। 

শেষ পর্যন্ত ৪৯ দশমিক ১ ওভারে ২১৫ রানে থামে আফগানিস্তান ইনিংস। আফগানদের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করা জাদরানকে ৬৭ রানে থামান শরিফুল। ৮৪ বল খেলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন জাদরান।


একাত্তর/আরবিএস  

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন