ঢাকা ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯

নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে কর ও শুল্ক সুবিধার পরামর্শ

কাবেরী মৈত্রেয়, একাত্তর
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২১:২৬:২৮ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ২১:৫৫:০৩
নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে কর ও শুল্ক সুবিধার পরামর্শ

নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে দেশীয় ও আমদানি পর্যায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে কর ও শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবার পরামর্শ দিয়েছেন, অর্থনীতিবিদরা। একই সাথে, রাজস্ব আদায় বাড়াতে করের আওতা বাড়ানোর কথা বলেছেন তারা। এদিকে কর আদায় ও কর হার কমানোর চাপে সংকটে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। 

আসছে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আহরণ নীতি কেমন হওয়া উচিত তা জানতে এরই মধ্যে স্টেক হোল্ডারদের মতামত নেয়া শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। 

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার অর্থনীতি উন্নয়নে ভূমিকা রাখে এমন সাত গবেষণা সংগঠনের সাথে বৈঠকে বসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর। 

শুরুতেই মতামত তুলে ধরেন পিআরআই নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, অর্থনীতির আকার বাড়লেও, বাড়ছে না রাজস্ব আহরণ। কারণ হিসাবে অদক্ষতাসহ নানা অসংগতি তুলে ধরেন তিনি। 

আগামী অর্থবছরেও করোনা প্রকোপ থাকবে, এমনটা বিবেচনায় নিয়ে রাজস্ব নীতিকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বান্ধব করার পরামর্শ দেন বেশিরভাগ বক্তা। 

এ সময় কর্পোরেট কর হার কমানো, বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে ৪৪ শতাংশের ওপরে ভ্যাট ট্যাক্স যৌক্তিকীকরণ, করের আওতা বাড়াতে গ্রামের দিকে নজর দেবার পরামর্শ দেন তারা।

আরও পড়ুন: সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা সম্পর্কে যা জানা গেলো 

এ সময় মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে নিত্যপণ্যে ভ্যাট ও শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেন কেউ কেউ। এ পর্যায়ে রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স আরোপের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের সংস্কৃতি বন্ধ করে ধনীদের ওপর যুক্তিসঙ্গত চাপ প্রয়োগের পরামর্শও দেয়া হয়।

অর্থনীতি সমিতির নেতারা বলেন, করোনার কারণে তৈরি হওয়া বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে জাতীয় বাজেটের জন্য সম্পদ আহরণ করতে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে ধনী ও সম্পদশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, যারা সম্পদ-আয় ও মুনাফার অর্থমূল্য কম প্রদর্শনের মাধ্যমে সঠিক কর দেয় না, তারা যেন সঠিকভাবে কর দেয় তা নিশ্চিত করতে হবে। 

সমিতি বলছে, লকডাউন ও বিধি-নিষেধে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে আয়-সম্পদ-স্বাস্থ্য-শিক্ষা বৈষম্য হ্রাসের যত পদ্ধতি আছে, তা প্রয়োগ করে সবার আগে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হবে।

আলোচনায় এনবিআর জানায়, কর হার কমানো এবং সর্বোচ্চ রাজস্ব আহরণের চাপে রীতিমতো সংকটে পড়েছেন তারা। বলেছে, এরপরও এবারের বাজেটে সব স্টেক হোল্ডারের মতামত নিয়ে জনবান্ধব রাজস্ব নীতির উদ্যোগ নেয়া হবে।

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন