ঢাকা ১৬ মে ২০২১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

দ্বিতীয় দিনেও সারাদেশে ঢিলেঢালা লকডাউন, ছোট যানের পোয়াবারো

একাত্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২১ ১৭:৩৯:১০ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২১ ১৭:৫৪:৪৯
দ্বিতীয় দিনেও সারাদেশে ঢিলেঢালা লকডাউন, ছোট যানের পোয়াবারো


করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি থামাতে সারাদেশে লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও দেখে গেছে ঢিলেঢালাভাব। যানবাহন ও মানুষের চলাচল কমেনি। নানা অজুহাতে ঘর থেকে যেমন বের হচ্ছে মানুষ তেমনি দেখা গেছে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে উদাসীনতা। 

লকডাউনের মধ্যেও কয়েকটি জেলায় খোলা ছিলো দোকানপাট। প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে বেচাকেনা করেছে ব্যবসায়ীরা। আর স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই কেনাকাটা করেছেন ক্রেতারা।

তবে লকডাউন কার্যকর করতে কোথাও কোথাও প্রশাসন সচেষ্ট ছিলো। মাঠে নেমেছে ভ্রাম্যমাণ আদালতও। বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবার দায়ে গুণতে হচ্ছে অর্থদণ্ড।

লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সড়কের দৃশ্যপট একই রকম ছিলো। গণপরিবহণ চলাচল বন্ধ থাকলেও ছিলো রিকশার আধিক্য। নগরীর বিভিন্ন মোড়ে ছিলো কর্মজীবী মানুষ ও শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ভিড়। নগরের রাস্তায় গণপরিবহন কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানার শ্রমিকদের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই গন্তব্যস্থলে রওনা হতে দেখা গেছে। যে যেভাবে পেরেছেন গন্তব্যে ছুটেছেন। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাইতো ছিলোই না, ছিলো না প্রশাসনের তৎপরতাও। জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান জানান, নগরে ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লকডাউন কার্যকর করতে মাঠে রয়েছেন। এছাড়া নগরের তিনটি প্রবেশপথে বিআরটিএ’র ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন।  

রাজশাহীর মতো কিছু কিছু জেলাতেও সড়কে দেখা গেছে প্রশাসনের নজরদারি। বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ছিলো ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি। বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশনাসহ দেয়া হয়েছে আর্থিক দণ্ড।

ঢাকার পাশের জেলা গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চন্দ্রাসহ বিভিন্নস্থানে সকাল থেকে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্প কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে।

লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুমিল্লা নগরীসহ বিভিন্ন স্থানে ছোট ও মাঝারি যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। দোকানপাট মোটামুটি বন্ধ ছিল। তবে বাস টার্মিনালগুলো থেকে কোন যানবাহন চলাচল করছে না। মানুষকে অবাধে রাস্তায় চলাচল করতে দেখা গেছে।

ট্রেন আর দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও জামালপুর-ময়মনসিংহ ও জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ জেলাজুড়েই চলছে অন্যান্য যানবাহন। শহরে অবাধে চলাফেরা করছে সাধারণ মানুষ। দোকানপাট বন্ধ থাকলেও কাঁচাবাজারে ভিড় করছেন মানুষ। রাস্তায় বের হওয়া অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। শহরের কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা প্রশাসনের কোন টিমের দেখা পাওয়া যায়নি।

খুলনা থেকে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ছোট যানবাহনে চলাচল করছেন যাত্রীরা। খুলনা নগরীসহ আন্তঃজেলা সড়কে বিপুল সংখ্যক ছোট যানবাহনে গাদাগাদি করে চলাচল করছেন যাত্রীরা। এছাড়া সাভার, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, নেত্রকোনা, রাজবাড়ী, বরিশাল, রংপুর, শেরপুর, সুনামগঞ্জ ও সিলেটে দ্বিতীয় দিনেও ঢিলেঢালাভাবে চলছে লকডাউন। সকাল থেকেই মহাসড়কে চলছে বিভিন্ন ধরণের ছোট যান। বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহন ও লোকজনের চলাচল বাড়ছে। লকডাউন কার্যকরে সড়ক মহাসড়ক ও শহরে তৎপরতা দেখা যায়নি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।


মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন