ঢাকা ২১ এপ্রিল ২০২১, ৮ বৈশাখ ১৪২৮

কোন আকর্ষণে লঙ্কায় না গিয়ে কলকাতায় সাকিব?

খালিদ জামিল
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২১ ১৮:১৮:১৯
কোন আকর্ষণে লঙ্কায় না গিয়ে কলকাতায় সাকিব?

ক্রিকেটের সব ফরমেটেই ধুকতে থাকা বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফরে কেন দলের সেরা তারকা সাকিব আল হাসান যাচ্ছেন না, এনিয়ে এখনো চলছে বিতর্ক।

বাংলাদেশের বদলে কেন আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের জার্সিটা এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে তাঁর কাছে সেই কথাই ঘুরে ফিরে আসছে। 

কেকেআর একাদশে জায়গা পাওয়াই মুশকিল হতে পারে সাকিবের। সমালোচনার অন্ত নেই। তবে সাকিবের ব্যাখ্যা, টাকার সাথে কাজে লাগাতে চান ক্লাবটির প্রথম শ্রেণীর সুযোগ-সুবিধা।  

কলকাতার স্কোয়াডে ভারি ভারি সব বিদেশি তারকা। কাকে রেখে কাকে হবে খেলানো তা নিয়ে করতে হচ্ছে অনেক হিসেব। তবে প্রতি ম্যাচে নামানো যাবে সর্বোচ্চ চারজনকে। সাকিব কি তাদের মধ্যে থাকবেন? 

পেস আক্রমণে তাসমান পাড়ের দুই দেশের দুই বোলার প্যাট কামিন্স আর লকি ফার্গুসন। একজন তো একাদশে থাকবেনই, খেলতে পারেন দুজনেই। 

আন্দ্রে রাসেল ওদের ঘরের ছেলে, কিন্তু বয়স আর ইনজুরির ধকল, দুটোই বেড়ে যাওয়ায় ওর বিকল্প হিসেবে আরেক অলরাউন্ডার বেন কাটিংকে ভেবে রেখেছে কেকেকআর ম্যানেজমেন্ট। 

ওদিকে বিদেশি কোটায় জায়গা দিতে হবে ওয়েন মর্গানকেও। বিশ্বকাপজয়ী ক্যাপ্টেনকে কলকাতার দায়িত্বও দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। 

বড় সময় ধরে সার্ভিস দেয়া স্পিন অলরাউন্ডার সুনিল নারিনের জায়গাও বলতে গেলে পাকা। কিন্তু এই স্পিন অলরাউন্ডারের ব্যাটিং ফর্মটা যাচ্ছে না ভালো। 

সাকিবের আশা ওখানেই। কিন্তু নারিন ফর্মে ফিরলে তার একাদশে ডাক পাওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে৷ তারপরেও কেন বাজিটা ধরলেন সাকিব? 

এমন সিদ্ধান্ত অবশ্য সাকিবের জন্য নতুন না। একটু পেছনে ফেরা যাক। ২০১৯ আইপিএলটা সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সাইডবেঞ্চেই কাটছিল সাকিবের। 

এ সময় ঘোষণা হয় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াড। সাকিব হন সহ অধিনায়ক। শুরু হয় প্রস্তুতি ক্যাম্প। কিন্তু টাইগার অলরাউন্ডার থেকে যান অরেঞ্জ আর্মির দুর্গেই। সেখানেই নেন বিশ্ব কাপের প্রস্তুতি। 

সেবার হায়দরাবাদের হয়ে মোটে তিন ম্যাচে নামার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু ২০১৯ ইংল্যান্ড ওয়ার্ল্ডকাপ প্রস্তুতি যে ঠিকঠাক হয়েছে, আট ম্যাচে ছয়শোর বেশি রান আর দশটার বেশি উইকেট তারই তো প্রমাণ দেয়। 

হবেই বা না কেন, সাকিব আইপিএলে ম্যাচ না পেলেও ম্যাচ ডে’তে পাচ্ছেন অনুশীলনের সুযোগ। ভালো মানের নেট বোলার থাকছে। 

আর টিম প্র্যাকটিসের সময় সামলাচ্ছেন বিশ্বখ্যাত বোলারদের, সামনের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যারা হবে সাকিবের প্রতিপক্ষ। 

শুধু তাই না, কিউই লিজেন্ড ব্র্যান্ডন ম্যাককালামের অধীনে ওয়ার্ল্ড ক্লাস কোচিং প্যানেল সাহচর্য মিলছে, সাথে রয়েছে দারুণ স্পোর্টিং উইকেটে খেলার সুযোগ। বাংলাদেশে যে সারফেস খুবই বিরল। 

২০১৯-এ সাকিবে ভরসা করে ঠকেনি বাংলাদেশ। একুশে এসে সেই সাকিব যদি সেই আইপিএলে নিজেকে প্রস্তুত করতে চায় ওকে সেই ছাড় দেয়া দোষে কী? 

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন