ঢাকা ১২ আগষ্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

ঈদ পর্যন্ত ভোজ্যতেলের দাম আর বাড়ছে না

সুশান্ত সিনহা, একাত্তর
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২২ ২০:৫২:৪৮ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২২ ২২:৩৭:২১
ঈদ পর্যন্ত ভোজ্যতেলের দাম আর বাড়ছে না

ঈদ পর্যন্ত দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহে ঘাটতি হবে না। দামও বাড়বে না। এমন আশ্বাস দিয়েছে সয়াবিন তেল উৎপাদক কোম্পানিগুলো। 

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার কারণে দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তারা। 

এদিকে ডিলারদের কারসাজি ঠেকাতে শিগগিরই অভিযান করবে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। 

বাজারে সয়াবিন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়ে খুচরা থেকে পাইকারি, এমনকি মিলগুলোতেও অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। 

প্রায় মাসখানেকের এই অভিযানের সাথে সরকার ভ্যাট প্রত্যাহার করায় ভোজ্য তেলের বাজার পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক। 

১৬০ টাকায় ১ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে। ৭৬০ টাকায় মিলছে পাঁচ লিটারের বোতল। ঈদ পর্যন্ত এই দাম আর বাড়বে না। চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহের আশ্বাস দেন ভোজ্য তেলের মিল মালিকদের প্রতিনিধিরা।

বুধবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজার ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে ভোজ্যতেল মিল মালিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তারা জানান, দেশে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে এবং সরবরাহে কোন ঘাটতি নেই। তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি করছে।

তবে কোথাও কোথাও ডিলারদের বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ আসছে। তাই ডিলার পর্যায়ে শিগগিরই অভিযানে নামার কথা জানান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

তিনি বলেন, সাপ্লাই অর্ডারে (এসও) দাম উল্লেখ করার পাশাপাশি সরবরাহে কোন ধরনের অনিয়ম করলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিছু মিল মালিকের বিরুদ্ধে আগে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। তবে আগামীতে কোন ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে ছাড় দেওয়া হবে না।

সফিকুজ্জামান বলেন, মিল মালিকরা চাহিদামত তেল উৎপাদন করার পাশাপাশি সাপ্লাই অর্ডারে দাম উল্লেখ করছে কি না সেটা আমরা মনিটরিং করছি। এসও অনুযায়ী মিল মালিকরা ১৫ দিনের মধ্যে তেল সরবরাহ করছে কি না সেটাও দেখছি। 

বৈঠকে জানানো হয়, প্রতিদিন দেশে পাঁচ হাজার মেট্রিকটন ভোজ্য তেলের চাহিদা রয়েছে। আর এর যোগান হিসেবে পর্যাপ্ত মজুদ মিল মালিকদের নিকট রয়েছে। 

তবে সরকারের নির্ধারিত মূল্য অর্থাৎ ভ্যাট প্রত্যাহারের সময় ১৬ মার্চ প্রতি টন অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম ছিল ১ হাজার ৪০৭ মার্কিন ডলার, তা এখন সময়ের ব্যবধানে ১ হাজার ৮৮০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। বাড়তি দামে তেল আমদানির ফলে আমদানিকারকদের মধ্যে দাম বাড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা রোজার ঈদের পর মে মাসে সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছে ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

এ সময় ভোক্তা অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ‘দেশের ৯৫ ভাগ ব্যবসায়ী সাধু, আর ৫ ভাগ অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। 

ভোক্তা অধিদপ্তর চাচ্ছে সুষম বাজারব্যবস্থা, যাতে সব আমদানিকারক ও মিল মালিকরা আইনের মধ্যে থাকেন। যখন সরকার থেকে যে সিদ্ধান্ত দেয়া হয় তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করেন। 

এর মধ্যে অনেক সমস্যা থাকবে যা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে। আর যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠকে সিটি গ্রুপ, টি কে গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, এস আলম, বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে ভোজ্য তেলের বাজার সমন্বয় করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানান। দ্রুত সময়ে বাজার সমন্বয় না হলে বাজারে সমস্যা তৈরি হবে বলে তারা মত দিয়েছেন।

তবে ভোক্তার মহাপরিচালক সফিকুজ্জামান জানান, সরকার ইতোমধ্যে আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট রেখে, অন্যান্য সব ভ্যাট প্রত্যাহার করেছে। 

ফলে নতুন আমদানিতে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এ ক্ষেত্রে প্রতি লিটার তেলে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনায় করে রোজার ঈদের পরে মে মাসে সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে ভোজ্য তেলের জাম সমন্বয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।


মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১০ দিন আগে