ঢাকা ১২ আগষ্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তি প্রতিরোধে নিউইয়র্কে সমাবেশ

বিশেষ প্রতিনিধি, নিউইয়র্ক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২২ ১১:০৪:৪৫
বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তি প্রতিরোধে নিউইয়র্কে সমাবেশ

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তি বার বার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে দাবি করে তাদের প্রতিরোধে শুভ বোধসম্পন্ন মানুষদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানানো হয়েছে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত একটি প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে। কপালে টিপ পরা নিয়ে পুলিশের অসদাচরণ এবং মুন্সীগঞ্জের বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার ও হয়রানির ঘটনায় এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সম্প্রতি নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদ, প্রোগ্রেসিভ ফোরাম ইউএসএ ও মহিলা পরিষদের মিলিত উদ্যোগে প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

উদীচীর সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন- প্রবাসের প্রথম বাংলা পত্রিকা প্রবাসীর সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, সাপ্তাহিক আজকালের সম্পাদক মঞ্জুর আহমদ, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী, প্রোগ্রেসিভ ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খুরশেদুল ইসলাম ও জাকির হোসেন বাচ্চু, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদিকা সুদ্রিতা পাল, জাসদের সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম জিকু, উদীচী জ্যামাইকা শাখার সভাপতি বাবুল আচার্য, প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব রতন কর্মকার, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি কেন্দ্রীয় নেতা বিল্পব চাকি। সভা পরিচালনা করেন উদীচীর সাধারণ সম্পাদক আলীম উদ্দীন, লেখক সাংবাদিক রহমান মাহবুব, শেলী জামান খান, মনজুরুল হক, সৈয়দ মাসুদুল কবির।

বক্তারা বলেন, আমি কি পররো, না পরবো, কি খাবো না খাবো তা আমার ব্যক্তিগত বিষয়। মৌলবাদী গোষ্ঠী আজ এসবের গায়ে ধর্মীয় মোড়ক পরিয়ে মানুষকে ধর্মীয় অনুশাসনে আটকিয়ে নিতে চাইছে। লতা সমাদ্দার টিপ পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে রাস্তায় কর্মরত পুলিশ তার সাথে চরম অসদাচরণ করেছে। সাম্প্রদায়িক বিভেদের উস্কানিমূলক গালাগাল করেছে। পুলিশ নিজেই আজ আইনের বরখেলাফ করে সাম্প্রদায়িক বিভেদে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছে।  

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে হৃদয় মণ্ডলের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি ছিল বাংলাদেশ হবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। কিন্তু এখন যা ঘটছে এবং ঘটে চলেছে তা দেখে প্রতীয়মান হয় দেশটা আজ আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জায়গায় নেই। সমগ্র দেশ আজ মৌলবাদের, পরাজিত শক্তির করতলে চলে যাচ্ছে। 

আরও পড়ুন: আমোদিনীকে ফাঁসাতে হিজাব নিয়ে গুজব: তদন্ত কমিটি

বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মৌলবাদের প্রভাবে গ্রামে-গঞ্জে খেলাধুলা, যাত্রা, নাটক, পালাগান, কবিগান, সিনেমা বন্ধ হয়ে গেছে। তারই প্রতিফলনই আজ স্কুল-কলেজসহ সর্বত্র ঘটছে। এসব ক্ষেত্রে সরকারের নীরবতার সমালোচনা করেন বক্তারা। 

শেষে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে বক্তারা ক্ষোভ জানান।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১০ দিন আগে