ঢাকা ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯

নির্বাচনে কাউকে ফোর্স করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না: সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২২ ১৪:৫৮:৪৯ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২২ ১৮:৪৭:৩৩
নির্বাচনে কাউকে ফোর্স করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না: সিইসি

'নির্বাচনে কে অংশ নেবে আর কে নেবে না, সেটা ফোর্স করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তবে দায়িত্ব থাকবে আহ্বান করা, যে আপনারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনে অংশ না নিলে কিন্তু গণতন্ত্র বিকশিত হবে না। গণতন্ত্র বিকশিত হয় নির্বাচনের মাধ্যমে। সকলকে চেষ্টা করতে হবে একটা সুন্দর গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য। আমরা অর্থহীন সংলাপ করছি না।'

সোমবার (১৮ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশন ভবনে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রধান নির্বাহীসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের নিয়ে ইসির চতুর্থ ধাপের সংলাপ শেষে এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

সিইসি বলেন, সংলাপে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে কথা এসেছে। আমরা ইতিমধ্যে এ নিয়ে কয়েকটি মিটিং করেছি। বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু ইভিএমের সুবিধা সম্পর্কেও অনেকে কথা বলেছেন। ইভিএমের ব্যবহার পেশি শক্তির ব্যবহার হ্রাস করতে পারে। যেখানে সিল দিয়ে ব্যালট বাক্স পূরণ করা যায় না। কাজেই ইভিএমেরও ভাল দিক আছে। আমরা ইভিএম নিয়ে স্টাডি করছি।

তিনি বলেন, কেউ কেউ বলেছেন নির্বাচনে কেউ আসল কি আসল না এটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয়। দলগুলো যদি তাদের লোকবল দিয়েই ভারসাম্য করতে পারে, নির্বাচনে যদি দু’টো পক্ষ থাকে, তবে দু’টো পক্ষকে খেলতে হবে, তাহলে নির্বাচনটা ওইদিক থেকে সহজ হয়।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, স্বচ্ছতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভেতরে ক্যামেরা নিয়ে যদি আপনরাদের (সাংবাদিকদের) দেখাতে পারি, কেন্দ্রের ভেতরে যদি ক্যামেরা থাকে, বাইরে যদি মনিটরে দেখা যায়, এগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। এগুলো নিয়ে আমার সহকর্মীরাও বিশ্বাস করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিচরণ যদি থাকে, তারাও রিপোর্ট করতে পারবেন। একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এই সমস্ত বিষয়ের প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি। আমাদের সাধারণভাবে ওপেন হতে হবে। তথ্য দিতে হবে বলে মনে করি।

সিইসি বলেন, আমাদের সৎভাবে দায়িত্ব পালনের স্প্রিহা, চেষ্টা আছে, থাকবে। ব্যাপক অনিয়মের তথ্য আমাদের কাছে আসলে, সাহস নয়, আমাদের দায়িত্ব হয়ে যাবে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়ার। অনেক বিধান আমাদের অনুকূলে থাকলেও তা প্রয়োগের হার বাড়াতে হবে। নির্বাচনকে হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে যা যা করতে হয়, তা তা করতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করা। অনেক সময় কারচুপির হয়, সেটা রোধ করতে হবে। আমরা আমাদের সামর্থ্য, দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টা করবো। জাতিটা সকলের। আপনারাও আমাদের সহায়তা করবেন।

বেলা ১১টা ৮ মিনিটে শুরু হওয়া সংলাপে অংশ নেন  একাত্তর টিভি প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক, এনটিভির বার্তা প্রধান জহিরুল আলম, এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুন, চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, আরটিভির সিইও সৈয়দ আশিক রহমান, একুশে টিভির হেড অব নিউজ রাশেদ চৌধুরী, বাংলাভিশনের হেড অব নিউজ আব্দুল হাই সিদ্দিক, মাইটিভির হেড অব নিউজ শেখ নাজমুল হক সৈকত, সময় টিভির হেড অব নিউজ মুজতবা দানিশ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির চিফ নিউজ এডিটর আশিস সৈকত, মাছরাঙ্গা টিভির হেড অব নিউজ রেজোয়ানুল হক রাজা, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী পরিচালক তালাত মামুন, দেশ টিভির চিফ নিউজ এডিটর বোরহানুল হক সম্রাট, নিউজ২৪ এর এক্সিকিউটিভ এডিটর রাহুল রাহা, ডিবিসি নিউজের সিইও মঞ্জুরুল ইসলাম, বাংলা ট্রিবিউন এর বার্তা প্রধান মাসুদ কামাল, গ্লোবাল টিভির এডিটর সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ, নাগরিক টিভির হেড অব নিউজ দীপ আজাদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজী খালিদী, যমুনা টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ, স্পাইস টিভির এডিটরিয়াল হেড তুষার আব্দুল্লাহ, জাগোনিউজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কে এম জিয়াউল হক প্রমুখ।


একাত্তর/ এসএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন