ঢাকা ১৮ আগষ্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯

তরুণ উদ্যোক্তার পাতার ঝুড়ি যাচ্ছে ৩২ দেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২২ ১২:১৯:৪১ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২২ ১২:৩৪:১৭
তরুণ উদ্যোক্তার পাতার ঝুড়ি যাচ্ছে ৩২ দেশে

একজন তরুণ উদ্যোক্তার প্রচেষ্টায় হোগলাপাতার মতো পচনশীল উপাদান দিয়ে পণ্য তৈরি করে রপ্তানি করা হচ্ছে আমেরিকা, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ ৩২টি দেশে।

উদ্যোক্তা হওয়ার গল্পটা সহজ ছিল না। শুরুতে মুখ ফিরিয়ে নেয় পরিবার। বন্ধুবান্ধব ছাড়াও ব্যাংকের, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অসহযোগিতা ছিল। এখন বছরে রপ্তানি করা হয় ৩০-৩৫ কোটি টাকার পণ্য। মাত্র ৮০ হাজার টাকা দিয়ে যাত্রা শুরু করে সাড়ে চার বছরে প্রতিষ্ঠানটি দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার সম্পদে। নিজে পণ্যের বাজার নানা দেশে যেমন ঘুরেন, তেমনি প্রান্তিক পর্যায়ের কাজও তদারকি করেন। সাফল্যের এই গল্প গাজীপুরের এক তরুণ উদ্যোক্তার।

মেহেদি হাসানে বয়স ২৮। এরই মধ্যে সফল উদ্যোক্তার মর্যাদা পেয়েছেন। মাত্র ৩ জন শ্রমিক নিয়ে যাত্রা শুরু করে সাড়ে চার বছরে তার প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে এখন তার শ্রমিক সংখ্যা ৩ হাজার।


তিনি অপ্রচলিত, অনেকটা ফেলে দেওয়ার মতো পণ্য হোগলাপাতা, খেজুরপাতা, শণ বা ঝুটের সুতা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পণ্য বানিয়ে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। দেশে আসছে ৩২ দেশের মুদ্রা।

কাজের পাশাপাশি গল্প, আড্ডা চলে যেন শ্রমিক-কর্মচারীদের। বিভিন্ন ধরনের ঝুড়ি, ফুলের টব, পাপোশ, ম্যাট, বাটি, ব্যাগসহ ১৫ থেকে ২০ ধরনের ঘর সাজানোর উপকরণ তৈরি করে তারা। অন্য কাজের চেয়ে পরিবেশবান্ধব এই পণ্য বানানোর কাজ করতে পেরে খুশি তারা।


গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান বলেন, আমাদের এই জনবহুল দেশে চাকরি না খুঁজে চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করা একটা বড় বিষয়।

এই উদ্যোক্তার প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক বলছেন, এমন উদ্যোক্তার তৈরি পণ্য বিদেশে রপ্তানিসহ নানা ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিতে পড়াশোনা শেষ না করেই, পোশাক কারখানার অল্পদিনের চাকরি ছেড়ে ছাত্রজীবনে টিউশনি ও পরে চাকরি করে পাওয়া অল্প কিছু টাকা দিয়ে কাজ শুরু করেন মেহেদী হাসান। গাজীপুর মহানগরের ধীরাশ্রম এলাকায় ২০১৭ সালের শেষ দিকে ‘ন্যাচারক্রাফট বাংলাদেশ’ এই প্রতিষ্ঠানটি খুলে বসেন।


আরও পড়ুন: নিউমার্কেটে যান চলাচল কম, খোলেনি কোনো দোকান

মেহেদি হাসান শুরু করেছিলেন তিনজন শ্রমিক নিয়ে। এখন তিনটি বড় আধা পাকা ঘর। নোয়াখালী, যশোর, নরসিংদী, ময়মনসিংহ সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে সাব-সেন্টার। প্রথমদিকে কেউ একটি ভালো চোখে না দেখলেও এখন দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের আরো পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তার প্রতিষ্ঠান হতে পারে আরো মানুষের কর্মসংস্থান। দেশের অর্থনীতিতে বাড়তে হতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা।


একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১৬ দিন আগে