ঢাকা ০৬ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

করোনায় আব্দুল মতিন খসরুর জীবনাবসান

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২১ ১৮:০২:৫৬ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২১ ১৪:২৯:০৬
করোনায় আব্দুল মতিন খসরুর জীবনাবসান

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু মৃত্যুবরণ করেছেন। 

তাঁর ভাগ্নে তাসলিম আহমেদ খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বুধবার (১৪ এপ্রিল) বিকালে তাঁর মৃত্যু ঘোষণা করেছেন চিকিৎসকরা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

এর আগে গত মঙ্গলবার অবস্থার অবনতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল মতিন খসরুকে।  

আব্দুল মতিন খসরু আইনমন্ত্রী থাকাকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করা কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হয়। ‘দি ইনডেমনিটি রিপিল অ্যাক্ট-১৯৯৬’ নামে একটি বিল সংসদে উত্থাপন করেন তিনি যা ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ সংসদে পাস হয়। এর মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ খোলে। 

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ার পর গত ১৬ মার্চ থেকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন আব্দুল মতিন খসরু। রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়ায় গত ২৮ মার্চ আইসিইউতে নেওয়া হয় তাঁকে। পরে অবস্থার উন্নতি হলে গত ৩১ মার্চ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় ছয়দিনের মাথায় গত ৬ এপ্রিল তাকে ফের আইসিইউতে নেওয়া হয়। 

আব্দুল মতিন খসরু কুমিল্লা-৫ সংসদীয় আসন থেকে পাঁচবার নির্বাচিত হন। ১৯৯৬-২০০১ আওয়ামী লীগ সরকারে তিনি আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৭৮ সালে কুমিল্লা জজ কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত হন আব্দুল মতিন খসরু। পরে ১৯৮২ সাল থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে নিয়মিত প্র্যাকটিস শুরু করেন।

তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন।

আব্দুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে পৃথক বাণীতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন