ঢাকা ২৯ মে ২০২২, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

সলঙ্গা গণহত্যা দিবস আজ

নিজস্ব সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২২ ১২:২২:৪০ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২২ ১২:২৩:০১
সলঙ্গা গণহত্যা দিবস আজ

সলঙ্গা গণহত্যা দিবস আজ। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী সলঙ্গায় ২৫ এপ্রিল দিনটিতে চালায় বর্বর গণহত্যা। পাকিস্তানী সৈন্যরা একযোগে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে প্রায় দুই শতাধিক মুক্তিকামী ও নিরীহ মানুষকে। 

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার মধ্যপাড়া চড়িয়া, পাটধারী, কালিবাড়ী, শিকার মগড়াপাড়া, চড়িয়া শিকার দক্ষিণপাড়া, গোলকপুর, কাচিয়ায় চরে সংঘটিত হয়েছিল এ গণহত্যাযজ্ঞ।

বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল গোল চত্বরের অনতিদূরে চড়িয়া শিকার নামক স্থানে রাস্তায় ব্যারিকেডের সম্মুখীন হয়ে যাত্রা বিরতি করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। তারা সন্ধান পায় চড়িয়া শিকারের পূর্ব দক্ষিণ পাশে অন্য একটি কাশিনাথপুর গ্রামের।

এই গ্রামকেই পাবনা জেলার কাশিনাথপুর মনে করে পাক বাহিনী খুঁজতে থাকে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাটি। তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার আলবদরদের সহযোগিতায় পাক বাহিনী সন্ধান পায় চড়িয়া মধ্যপাড়ায় ডা. শাজাহান আলী, ইয়াকুব আলী ও মোহাম্মাদ আলীসহ অন্যান্যদের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ঘাটির। 

পাকি বাহিনী সূর্যোদয়ের আগে থেকে গুলি চালাতে শুরু করে এবং একটানা সকাল ৯টা পর্যন্ত গুলি চালায় নিরীহ মানুষের উপর। ভস্মীভূত করে দেয় এলাকার ঘরবাড়ী। তাদের পশুত্বের হাত হতে রেহাই পায়নি কোলের শিশু পর্যন্ত। 

পাকিস্তানী হায়েনাদের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া চড়িয়া মধ্যগ্রামের আবুল কালাম (কাঙ্গাল মণ্ডল) জানান, ওইদিন সকালে পাকিস্তানী হায়েনা বাহিনী গ্রামবাসীদের আব্দুল মজিদের পুকুরের পাশে, ইয়ার আলীর পুকুরের পাশে সারিবদ্ধ দাঁড় করিয়ে নির্মমভাবে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়। ভাগ্যের জোরে তিনি চারটি গুলি খেয়েও বেঁচে যান। 

পাক বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের শিকার হন চড়িয়া মধ্যপাড়া গ্রামের বাহাজ উদ্দিন, ইয়াকুব আলী, আদম আলীম,  ইউছুব আলী, মেছের উদ্দিন মুন্সী,  ছলিম উদ্দিন, আজিজুল হক, গগন মণ্ডল, ডা. শাহজাহান আলী, মোহাম্মদ আলী, তারা সরকার, কানছু সরকার, আবু বকর প্রামানিক, আবেদ আলী, আব্দুর কাইয়ুম, ডাঃ মুজিবর রহমান, ফজল প্রামানিক, আমানত আলী, আবু তাহের, আহসান আলী, শাহজাহান, কাফি, আবু তালেব, ছানু ফকির, কাঞ্জু প্রামানিক, আব্দুস ছাত্তার, মাহাম খা, দারোগ আলী, মজিবর রহমান, আজিজ, হাকিুমুদ্দীন, আব্দুল মজিদ, পাওমুসা, শমসের আলী, তারা প্রামানিক প্রমুখ। 

এছাড়াও ওইদিন পাটধারী গ্রামের ২৯ জন, কালীবাড়ী গ্রামের ১৩ জন, শিকার মগপাড়া গ্রামের আটজন, চড়িয়া শিকার দক্ষিণ পাড়া গ্রামের ১০ জন, গোলকপুর গ্রামের পাঁচজন, কাচিয়ার গ্রামের একজনসহ নাম না জানা অনেককে নির্মমভাবে হত্যা করে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী। 

তবে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও মধ্যপাড়া চড়িয়ার বধ্যভূমি ও শহীদ পরিবার উপেক্ষিত। যাঁদের জীবনের বিনিময়ে রক্তস্নাত স্বাধীনতা লাল সূর্য তাদের কাছে আজও কেউ আসেনি সান্ত্বনার বাণী শোনাতে।

শহীদ মিনারে স্থানীয় চড়িয়া জনকল্যাণ সমিতি দিবসটি পালনে নানা কর্মসূচী হাতে নিলেও, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কোন কর্মসূচী গ্রহণ করেনি। শহীদদের পরিবার-স্বজনদের ইচ্ছা, দিবসটি পালনে রাষ্ট্র ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যথাযথ উদ্যোগ নেবে।  


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন