ঢাকা ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৯

নাহিদ-মোরসালিনের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে দেরি যে কারণে

নাদিয়া শারমিন, একাত্তর
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২২ ১৯:০৯:০৪ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২২ ১৯:২৬:২০
নাহিদ-মোরসালিনের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে দেরি যে কারণে

ঢাকা কলেজের ছাত্রাবাস বন্ধ থাকায় এবং অনেকে আত্মগোপন করায় নিউমার্কেটের সংঘর্ষে নিহত নাহিদ ও মোরসালিনের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে দেরি হচ্ছে। 

এমন তথ্য জানিয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, একাধিক টিম অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। 

পাশাপশি, সংঘর্ষের পুরোটা সময় লাঠিসোটা ও ছুরি নিয়ে সক্রিয় থাকার হেলমেটপরা যুবকদের সন্ত্রাসী হিসাবেও উল্লেখ করেন এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা। 

গেল ১৮ এপ্রিল নিউমার্কেটের দুটি খাবারের দোকানদারের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও নিউমার্কেটের দোকান কর্মচারীদের সংঘর্ষে মারা যায় নাহিদ ও মোরসালিন। 

সিসিটিভির ছবি ও গণমাধ্যমের ফুটেজে দেখা যায় হেলমেটধারী কিছু যুবক নাহিদকে পিটিয়ে হত্যা করে। আর ইটের আঘাতে মৃত্যু হয় মোরসালিনের। 

এই ঘটনায় নাহিদের বাবা ও মোরসালিনের ভাই আলাদা দুটি মামলা করেন। হত্যাকারীদের শনাক্তে বিভিন্ন ফুটেজ বিশ্লেষন করছে গোয়েন্দা পুলিশ। 

বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম একথা জানান। 

তিনি বলেন, ঘটনার সময় ধারণ করা ফুটজ দেখে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে নাহিদ হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। চিহ্নিতকরণের কাজ অনেক এগিয়েছে। 

তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঢাকা কলেজের ছাত্রাবাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকে বাড়িতে চলে গেছেন বা আত্মগোপনে আছেন। 

আত্মগোপনে যাঁরা আছেন, তাঁদের গ্রেপ্তারে ডিবির একাধিক টিম কাজ করছে। শিগগিরই ভালো ফল জানানো সম্ভব হবে।

দোকানকর্মী মোরসালিন হত্যার ঘটনা এখনো ‘ক্লুলেস’ বলে ডিবি কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে, মোরসালিন মূলত ইটের আঘাতে জখমপ্রাপ্ত হয়ে মারা গেছেন। এ ইট কোথা থেকে এসেছে, সেটি সুনির্দিষ্টভাবে এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। 

তবে যারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে, এ ধরনের কাজে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদেরও এর দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। এ সময় কারা নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সংঘর্ষের সময় হেলমেটধারীদের সন্ত্রাসী উল্লেখ করে তাদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। 

মাহবুব আলম বলেন, যাঁরা হেলমেট পরে মিশনে অংশ নিয়েছেন, তাঁরা অবশ্যই সন্ত্রাসী। কাউকে দলীয় পরিচয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে না। 

তিনি আরও জানান, ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগ বলতে কোনো সংগঠন নেই। কেউ যদি পরিচয় দিয়ে থাকে, সেটা হতে পারে। তবে তারা এ ধরনের কিছু পাননি। 

ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে আরও দুটি মামলা করেছে। 

দুই মামলাতেই নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী-কর্মচারী ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীসহ ১২শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

এখন পর্যন্ত এই মামলায় এক নম্বর আসামি বিএনপির নিউমার্কেট থানার সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেন ছাড়া কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। 


একাত্তর/এআর


মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

৯ দিন ২১ ঘন্টা আগে