ঢাকা ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯

গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরির ভিডিও শেয়ার করে ধরা খেলো চোর চক্র

নাদিয়া শারমিন, একাত্তর
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২২ ২০:১৮:৩১ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২২ ২৩:২০:৪৭
গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরির ভিডিও শেয়ার করে ধরা খেলো চোর চক্র

গাড়ির চোরাই যন্ত্রাংশ কিনে আবার সেই চুরির সিসিক্যামের ভিডিও ফেসবুক গ্রুপ থেকে নিয়ে নিজের ওয়ালে শেয়ার দিয়েছিল স্বয়ং চোরাই মালের এক ক্রেতা। 

আর সেই ফেসবুক শেয়ারের সূত্র ধরে খোঁজ মেলে গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরির এক চক্রের। চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। 

গ্রেপ্তাররা হলেন- এনামুল মোল্লা (৩৫), এনামুল হক এনাম (৪৭), বকুল চৌধুরী (২৪), শরিফ আহম্মেদ কালু (৪০), বিল্লাল হোসেন (২৮), ইকবাল হোসেন পলাশ (৩৪), ইকবাল খান (৩২)।

মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বুধবার দুপুরে মিণ্টু রোডের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।

৯ এপ্রিল দুপুরে মিরপুরের এক রাস্তায় নিজের গাড়িটি পাকিং করেছিলেন আরিফুজ্জামান। এক মিনিটের মাথায় তার গাড়ির ডান পাশের কাঁচ চুরি করে পালায় কালো পোশাকের এক লোক। 

সেই কাঁচটি সে বিক্রি করে গুলশান বারিধারার গাড়িচুরি চক্রের ক্রেতা এনামুল হকের কাছে। ১৬ এপ্রিল ফেসবুকের এক পেজে সেই আয়না চুরির সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে পান এনামুল।

সেই গ্রুপে দেখে সেটি নিজের ওয়ালে শেয়ারের লোভ সামলাতে পারেনি ক্রেতা এনামুল। এর পরই পুলিশের নজরে পড়ে সে। অবশেষে ধরা পড়ে এনামসহ গাড়ি চুরি চক্রের সাত জন।

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম জানান, তারা পরস্পরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গাড়ির চোরাই যন্ত্রাংশ বেচা-কেনা করে আসছিল।

কার প্লাস মার্কেটের কালু, বিল্লাল, স্কাউট মার্কেটের চুন্নু, পলাশ, বারিধারার ইকবাল, মহাখালী জেবা মার্কেটের নাহিদ, পরান, মামুন ও ধোলাই খালের সানাল ক্রেতা হিসেবে এমন অনেকের নাম পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। মিলেছে কমপক্ষে সাতটি দোকানের খোঁজ।

মাহবুব আলম জানান, প্রাথমিকভাবে চোরাই যন্ত্রাংশ বিক্রি করে এমন সাতটি দোকানের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পল্টন স্কাউট মার্কেটে দুটি দোকান, মহাখালী জেবা টাওয়ারে তিনটি দোকান, ধোলাইখালে একটি দোকান এবং বারিধারা জে-ব্লকে একটি দোকান রয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে তারা যে মালিকের পার্টস চুরি করে, দোকানদার সেই পার্টস পুনরায় উচ্চ দামে ঐ মালিকের কাছেই বিক্রি করে। কারণ অনেক গাড়ির নতুন পার্টস মার্কেটে আলাদাভাবে আমদানি করা হয় না বা কিনতেও পাওয়া যায় না।

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার বলেন, চুরির পরপরই চোরের ওস্তাদের মাধ্যমে তা পার্টসের দোকানে কম দামে বিক্রি করে দিতো। তাদের নামে আগেও গাড়ির চোরাই যন্ত্রাংশ কেনা-বেচার মামলা রয়েছে। তারা ৭ থেকে ৮ বছর ধরে গাড়ির চোরাই যন্ত্রাংশ বেচা-কেনার সঙ্গে জড়িত।

ছোট ঘটনা, তাই সহজে মামলা করে না ভূক্তভোগীরা। এই চক্রকেও তাই গ্রেপ্তার করতে হয়েছে কোন ভূক্তভোগীর মামলা ছাড়াই। 

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন মডেলের প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও জিপ গাড়ির সাইড লুকিং মিরর-১২৪ পিস, সাইড মিররের কভার-১৯ পিস, লুকিং গ্লাসের কর্নার বিট-১০৭ পিস, হেরিয়ার জিপ গাড়ির গ্রিল লোগো ২ পিস, কমপ্লিট মিরর-১২ পিস, এক্সিও প্রাইভেটকারের দরজার বিট-৩০ পিস, কমপ্লিট সাইড মিরর ১৮ পিস, বাম্পার ক্যাপ-৬ জোড়া, ২৬ পিস গাড়ির পেছনের ডালার বিট জব্দ করা হয়।


একাত্তর/এআর


মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

১০ দিন ১০ ঘন্টা আগে