ঢাকা ১২ আগষ্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

বিশেষ সাক্ষাতকার

এটি বিশেষ সময় তাই রুটিন বাজেট করে লাভ নাই: ড. সালেহউদ্দিন

জুলিয়া আলম, একাত্তর
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২২ ২০:২০:৫৭ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২২ ২৩:২৮:৩৫
এটি বিশেষ সময় তাই রুটিন বাজেট করে লাভ নাই: ড. সালেহউদ্দিন

শ্রীলংকায় অর্থনৈতিক বিপর্যয় বাংলাদেশেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সরকার বলছে না বাংলাদেশ শ্রীলংকা হবেনা। এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএনপি আমলের গভর্নর ড. সালেহউদ্দিনও বলছেন, আমাদের অবস্থা তেমন হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নাই। তবে দুনীতিতে ডুব দেয়া শ্রীলংকার জাতীয়তাবাদী ও ক্ষমতাসীন রাজনীতিকদের অর্থনৈতিক ব্যর্থতা থেকে শিখে সতর্ক হতে হবে। কারণ আমদের দেশেও মূল্যস্ফীতি আছে, দুনীতি আছে লুটপাট আছে আর্থিক খাতে যেখানে ব্যবসায়ীরা কিনা ব্যাংক মালিক। রাশা-ইউক্রেইন যুদ্ধ বিশ্বের রাজনৈতিক অর্থনীতিই পাল্টে দেবে সেটিও খেয়ালে রাখতে হবে।

জুলিয়া আলমের সাথে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে রাখঢাক ছাড়াই এমন অনেক বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি এবং আসন্ন বাজেটে কি কি করা জরুরি এসব নিয়েও কথা বলছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। 

জুলিয়া: আপনার পর্যবেক্ষণে ম্যাক্রোকোনোমি বা সামষ্টিক অর্থনীতি কেমন আছে? কোন সূচকগুলো ঝুঁকিতে আছে? কেন?

ড. সালেহউদ্দিন: সার্বিকভাবে এখন পর্যন্ত সামষ্টিক সূচকগুলো সন্তোষজনক। যদি পার্শ্ববর্তী ভারতের সাথে তুলনা করি তবে বাংলাদেশ ভাল আছে। আমরা ৫-৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বলয় থেকে বেরিয়ে ৭ বা এর বেশিতে পৌঁছেছি। গ্রোথ সন্তোষজনক, ফরেন রিজার্ভ মোটামুটি বেশ ভাল, রপ্তানি আয় প্রবাসী আয়ও ভাল। মূল্যস্ফীতি ইদানিং আর বেড়েছে তবে ওভার অল এখনো মোটামুটি ঠিক আছে।ভাল সূচকগুলো সুসংহত করে সামনে এগুতে পারলেই ভাল। তবে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। সেক্টরাল চ্যালেঞ্জ হলো আমাদের এক্সপোর্ট একটিমাত্র খাতে-আরএমজি। উই হ্যাভ পুট অল এগ ইন ওয়ান বাস্কেট-এক ঝুড়িতে সব ডিম রেখেছি। ডাইভারসিফেকশন হয়নি। যদি বিশ্বে বড় কিছু একটা ঘটে তখন কি হবে? রেমিটেন্সও কয়েকটা দেশে সীমাবদ্ধ। ক্লাইমেট চেঞ্জও বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের দেশ দুর্যোগের দেশ এবং অনেক লোক মার্জিনাল লোক উপকূলে থাকে বাধ্য হয়ে। সেখানে নোনা পানি ঢুকে যায় তারপর আছে বন্যা- এগুলো কন্ট্রোল করা যাবে না, আপনি বন্ধ করতে পারবেন না, ম্যানেজ করতে হবে। ঢাকার আছে বায়ুদূষণ, শব্দদুষণ, বিশুদ্ধ পানির অভাব আর্সেনিক সমস্যা এখনো আছে।

জুলিয়া: সব মানুষের কথা বিবেচনায় আনলে এখন অর্থনীতির সবচেয়ে  সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ? 

ড. সালেহউদ্দিন: দেখুন দেশে গ্রোথ হচ্ছে, ইনকাম বাড়ছে, নিম্নমধ্যমআয়ের দেশের তালিকায় যাচ্ছি ভালো কথা কিন্তু এর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না, এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আয়ের বৈষম্য অর্থের বৈষম্য দিন দিন বাড়ছে, সম্পদের বৈষম্য তো আরো প্রকট, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে, সমতাভিত্তিক উন্নয়নের দিকে যেতে হবে। আর আমরা যে মধ্য আয়ের দেশের তালিকায় যাব এর সাসটেইনেবিলিটি ধরে রাখতে হবে। আমাদের পলিসিগুলো খুব একটা খারাপ না। কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছেনা। এই দায়িত্ব তো সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের; সেখানে ইনইফিসিয়েন্সি, সিনসিয়ারিটি, মনিটরিংও জবাবদিহীতার অভাব। দ্বিতীয়ত ইনস্টিটিউশন ক্যাপাসিটি দুর্বল। যেমন বাজার; রোজাসহ নানা সময়ে পণ্যের দাম বাড়ছে, কারণ জায়গার জায়গায় চাঁদাবাজি, মনিটরিং হয় না। প্রতিষ্ঠান কাজ না করলে  ভাল পলিসিতে লাভ হবেনা। আমাদের বিশাল জনশক্তিকে কর্মক্ষম করা, প্রশিক্ষণ দেয়া, দক্ষ করা, আত্মকর্মসংস্থানের বিষয়গুলোও দেখতে হবে। দেখুন জাতিসংঘ ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকও ইকোনোমিক ভলনাবিলিটিতে জোর দিয়েছে মানে ওরাও বলছে যেকোনো সময় স্লিপ করার  ঝুঁকি আছে। মধ্যম আয়ের দেশ তো ব্রাজিল বহু আগেই হয়েছে ভারতও। এখন বেরুতে পারছে না। এটা ট্র্যাপ বলি আমরা। এমন ফাঁদে যেনো বাংলাদেশ না পড়ে।

জুলিয়া: শ্রীলংকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন দক্ষিণ এশিয়ায় আতংক। বাংলাদেশকে সতর্ক করছেন অনেক মহল। সরকার বলছে বাংলাদেশ কোনক্রমেই শ্রীলংকা হবেনা । বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর এবং একজন সক্রিয় অর্থনীতিবিদ হিসেবে আপনি পরিস্থিতিকে কিভাবে দেখছেন?

ড. সালেহউদ্দিন: দেখেন দুটা এক্সট্রিম ভিউ; একটি হলো শ্রীলংকার মতো একেবারে হবেই না আবার কেউ বলছে হবে। আমার মনে হয় যে শ্রীলংকার সাথে বাংলাদেশের তুলনা সরাসরি করা যাবে না। বাংলাদেশ বিশাল জনসংখ্যার দেশ, ভূখণ্ড ছোট। তবে আমরা মোটামুটি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ যদিও গ্যাপ আছে কিছুটা আর গ্রোথও মোটামুটি ঠিক আছে।তাই শ্রীলংকায় যেমন ধস নেমেছে, বাংলাদেশে হঠাৎ তা হবে তা নয়।তবে শ্রীলংকার ইনসিডেন্ট অনেকে ভাবে হঠাৎ করে হয়েছে তা নয়। তবে এখানে আমাদের একটু সাবধান হতে হবে। শ্রীলংকায় সিভিল ওয়ারদমনের পরে জাতিগত হারমনি আনার কথা ছিলো, যেটি নেলসন মেন্ডেলা করেছে সবাইকে নিয়ে একসাথে চলেছে দক্ষিণ আফ্রিকায়, শ্রীলংকা সেটি করে নাই। সিংহলি এবং তামিলদের মধ্যে রিলেশন ভালো না, এখনো না। তামিলরা এখনো এক্সপ্লোয়েটেড। মুসলিম ব্যবসায়ীরা খুব মেধাবী ও দক্ষ তাদেরও টেনশন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।২০১৯ এ ইস্টারে বোমা হামলা হলো তা সংখ্যালঘুর উপর বিরাট হামলা, তারপর গির্জায় হামলা হলো এগুলোতে টেনশন বেড়েছে। সুশাসন এবং ডেমোক্রেসিরও অভাব আছে। ২০১৪-এ থেকে একই ফ্যামিলি বার বার আসছে, সব কুক্ষিগত করে রাখছে। ওদের পার-ক্যাপিটা ইনকাম ভাল, হেলথ ইনডিকেটর ভাল, ওদের শিক্ষিতের হার সবচেয়ে বেশি তাই সুশাসন এবং গণতন্ত্র চর্চা শ্রীলংকায় বেশি হওয়ার কথা ছিল।

দেখেন শ্রীলংকায় এখন খাবারের অভাব, শিক্ষার অভাব, চিকিৎসার অভাব, ওষুধপত্র নেই সবদিকেই অব্যবস্থাপনা। আমার মনে হয় না চটকরে একেবারে শ্রীলংকার মতো হয়ে যাবে তবে শিক্ষা নেয়ার ব্যাপার আছে। শ্রীলংকার প্রবলেম ওরা বিদেশি ঋণ নিয়েছে প্রচুর, ঋণ নেয়া খারাপ না তবে ইউটিলাইজেশনে প্রজেক্ট সিলেকশন এবং ইমপ্লিমেনটেশন যথাযথ হয়নি অনেক কষ্ট ওভাররান হয়েছে, করাপশন হয়েছে প্রচুর ওগুলোর বেনিফিট তো ইকনোমি এখন পাচ্ছে না।এগ্রিকালচার সেক্টর ওদের বিরাট কিন্তু এখন বলছে আমরা অরগানিক মেনু ব্যবহার করবো তার মানে কি লোকজনকে বোঝানো, সার আনার টাকা নাই। এটা তো বলতে পারবে না যে ফরেন এক্সচেঞ্জ নাই অতএব এখন তোমরা গোবর দিয়ে দিয়ে চাষ করো। সবমিলে গত  ৯, ১০ বছরে ওদের একেবারে ডিজাস্টার। ম্যানেজমেন্ট, করাপশন, সোশাল হারমনির অভাব। ট্যুরিসটদের ইমপ্রেশনও এখন একটু খারাপ শ্রীলংকার উপরে। কমিউনাল হারমনি না থাকায়  মিস ম্যানেজমেন্ট। ট্যুরিসটরা চায় একটা দেশে যাবো যেখানে লোকজন ভালো। পাকিস্তানে একই অবস্থা ইনফ্লেশন ভেরি হাই।

বাংলাদেশে এখন সোশ্যাল সেক্টরে ভালো করছে তবে কোভিড অভিজ্ঞতায় আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হবে। গরীবদের শুধু টিকা ইনজেকশন দিলেই তো লাভ হবেনা ওদেরও তো ক্যানসার হয়, ওদেরও কিডনি প্রবলেম আছে। ডিসেন্ট্রলাইজড করে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। সামাজিক দিকে কোয়ালিটি অফ লাইফ যদি বলি এখন তা নেই। বাংলাদেশকেও সুশাসনের অভাব মিস ম্যানেজমেন্ট আর করাপশনও আছে। বাংলাদেশে প্রজেক্ট ওভার রান হয়, ৫ বছরের জায়গায় ১০ বছর লাগছে, খরচ বাড়ছে। রাস্তাঘাট হচ্ছে তবে কোয়ালিটি ভালো না। আমাদের চ্যালেঞ্জগুলো একেবারে ছোট না কিন্ত। একটা কথা আছে ইংরেজিতে বিশেষ করে ব্যাংকের ক্ষেত্রে ইটস টু বিগ টু ফল-বড় ব্যাংক কোনদিন ফেল করেনা। কিন্তু বড় ব্যাংক ফেল করেছে আমেরিকাতে ম্যারিল লঞ্চ ফেল করেছে। তাই টু বিগ কান্ট্র্রি অনেক অর্জন আমাদের ফেল করবে না এটা ঠিক না; ফেল করতে পারে যদি না আমরা ঠিকমতো সামাল না দিতে পারি।


জুলিয়া: ডলারের বিপরীতে শ্রীলংকান রুপির অবমূল্যায়নে বাইরে থেকে শ্রীলংকায় দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী মনে হচ্ছে। আপেলের কেজি হাজার রুপি, চালের কেজি পৌনে ৩শ রুপি এমন অনেক কিছু।বাংলাদেশি টাকার শক্তি এখন আপনার দৃষ্টিতে কেমন আছে।অবমূল্যায়নের ঝুঁকি দেখছেন কি?

ড. সালেহউদ্দিন: শ্রীলংকায় যেটা হচ্ছে সেটা কিন্তু অভূতপূর্ব। প্রথম কারণ ফরেন রিজার্ভ নেই। মানে ফরেন রিজার্ভ তো একটা দেশের কারেন্সির ব্যাকআপ। ওরা ইমপোর্ট করতে পারছে না অনেক কিছু, ওষুধপত্রও। ভারতকে রিকোয়েস্ট করছে ওষুধের জন্য, খাদ্যের জন্য।সাপ্লাই কমে গেলেও বাজারে মিনিমাম ডিমান্ড থাকে। তাই সেদেশে দাম বেশি। বাংলাদেশে ওরকম ডিজাস্টার হবে চালের কেজি ৩’শ টাকা হয়ে যাবে আমি ওটা দেখছি না। বাংলাদেশে ফরেন রিজার্ভ এখনো মোটামুটি সন্তোষজনক কিন্তু চ্যালেঞ্জ হলো ইমপোর্টে মাসে ৫-৬ বিলিয়ন। আমার সময় ছিল ২ বিলিয়ন। কয় মাস আগে রিজার্ভ ছিলো ১০-১২ মাসের এখন আছে ৮ মাসের মতো। ধীরে ধীরে কমছে রিজার্ভ। আমাদের টাকার কিছুটা অবমূল্যায়ন হয়েছে ডলার ৮৫-৮৬ টাকায় উঠেছে বা্ইরে৯২ হয়েছে। সেটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটু নজর দেয়া উচিত।ডলার বিক্রি করে বাগে রাখা যাবেনা এটা মার্কেটই বলে দিবে শ্রীলংকার মতো।  অতএব এক্সপোর্ট  বাড়াতে হবে, রেমিটেন্স বাড়াতে হবে, ইমপোর্ট রেশনালাইজড করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংককে ফরেক্সের দিকে একটু খেয়াল রাখতে হবে। কারেন্ট একাউন্ট ব্যালেন্স নেগেটিভ বেশ নেগেটিভ আবার ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট ওভার অল নেগেটিভ তার মানে ইনফ্লো অব রিসোর্সেস কম এফডিআইও কম। আউট ফ্লো বেশি। আউট ফ্লো হচ্ছে সেটা তো আপনারা জানেন মুদ্রা পাচার কিভাবে হচ্ছে এটা বিপদজনক, রোধ না করলে হবে না।আমাদের ইনফ্লেশন রেট অফিসিয়ালি যা বলছে তার চেয়ে বেশি। বাজারে তাই দেখা যাচ্ছে।সেটার মূল কারণ আমি বলবো সাপ্লাই সাইড। বগুড়ার ৫ টাকার বেগুন ঢাকায় এসে ৪০ টাকা কেন হবে? দাউদকান্দির ৭-৮ টাকার মরিচ ঢাকায় আপনি ১০০ টাকায় কেন কিনবেন। তার মানে ঘাটে ঘাটে প্রবলেম হচ্ছে। ট্রান্সপোর্ট কষ্ট বাড়ছে এগুলো দূর করা সহজ এবং সম্ভব।এগুলো বিরাট প্রব্লেম না, সলভ করা যায়। শ্রীলংকা পারেনি তাই এই পর্যায়ে এসেছে। বাংলাদেশে এখনই সাবধান হতে হবে। 

জুলিয়া: সম্প্রতি ব্যাংকিং চ্যানেলে দেড় টাকা বেড়ে প্রতি ডলার সাড়ে৮৬তে উঠার অজুহাতে আমাদানি করা পণ্যের দামও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মুদ্রা ব্যবস্থাপনা কেমন হওয়া দরকার?

ড. সালেহউদ্দিন: মুদ্রা ব্যবস্থাপনা মনিটারি পলিসি এখন হতে হবে ডিমান্ড ম্যানেজমেন্ট। মানে সাপ্লাই একটি বড় অস্ত্র।  সেটা কমালে কিন্তু আঘাত আসবে বিজনেসের উপর। তবে একটু রেশনালাইজড করতে হবে।  বাংলাদেশ ব্যাংককে লক্ষ করতে হবে ক্রেডিট বাড়ালেও স্মলমিডিয়াম ইন্ডাস্ট্রির দিকে যেগুলো প্রোডাকশন ওরিয়েন্টেড এবং এমপ্লয়মেন্ট বেশি। বড় বড় শিল্পেই আপনি দিয়ে দেবেন ১০ হাজার কোটি টাকা, ৫০হাজার কোটি টাকা তা ঠিক না। বড় শিল্পের দরকার আছে কিন্তু সেখানে এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন বেশি হয় না। ১০০ কোটি টাকার শিল্পে ৫০জনের বেশি লোক লাগবে না। আর ১০০ কোটি টাকা যদি এসএমইতে দেন কাজ পাবে ৫০০ লোক বা ১ হাজার লোক। আমাদের স্মল মিডিয়ামশিল্প এটেনশন কম। ফিসক্যাল পলিসি ও মনিটরি পলিসির মধ্যে হারমনি রাখতে হবে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের টারগেট বেঁধে দেয়া ক্রেডিট, ইনফ্লেশন, এগুলো বেশিরভাগই অ্যাচিভ হয়না। এখন বিশেষ সময় নন কনভেনশনাল মানে ভিন্ন রকম প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনিটর করবে ব্যাংক কি করছে, তহবিল ইউজ করছে কিনা, রিপোর্টিংগুলো ঠিক হচ্ছে কিনা ক্রেডিট যথাস্থানে যাচ্ছে কিনা এগুলো আরো বেশি করে মনিটর করা উচিত। বড় করে টার্গেট দিলাম এই হবে সেই হবে এই আশা করছি এতে মনে হয় কাজ হবে না। একটু ননকনভেনশনাল একটু বক্সের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরো প্রো একটিভ হতে হবে সুপারভিশন, মনিটরিং করতে হবে।

জুলিয়া: ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ ৬০দশমিক ১৫ বিলিয়ন। ৭ বছরে বেড়েছে ২৫ বিলিয়ন। সরকার বলছে বৈদেশিক ঋণ এখনো ঝুঁকিতে পড়েনি। গত সপ্তায় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ঋণের পরিমাণ ঝুঁকি সীমার নীচে রাখতেই হবে। এনিয়ে আপনার মত ও পরামর্শ কি?

ড. সালেহউদ্দিন: এটা যথার্থ যে ঋণের পরিমাণ ঝুঁকির নিচে রাখতেই হবে। সেটা তো আমরা ক্লাসিক এক্সাম্পল দিয়েই দিয়েছি শ্রীলংকা ও পাকিস্তান একই অবস্থায়। এর আগে গ্রীস ও  পর্তুগালেও একই অবস্থা হয়েছে ঋণ বেশি। তবে বাংলাদেশের সার্বিকভাবে সরকারের ঋণ অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশি মিলে জিডিপির ৪০ শতাংশের কাছাকাছি যা মোটামুটি সহনীয়। এখনো এলার্মিং নয় তবে ডিপেন্ড করে ক্যাপাসিটি টু রিপে। বিশেষ করে ফরেন লোনটা। দেশের লোনের একই অবস্থা। ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেটে সুদ কমিয়ে ম্যানেজ করছে আরও কমাতে গেলে ঝামেলা হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো যে ঋণটা আমরা নিচ্ছি তা রিপে করা। বাংলাদেশ একবারও ফেল করে নাই। ইন্টারন্যাশনাল লোনে ট্র‍্যাক রেকর্ড ভালো  কিন্তু ঋণ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। গতবারের আগের বাজেটে ছিল ৬ শতাংশের মতো, এর আগেরবার ১২ পারসেন্ট। এইবার হয়তো আরো বেশি হতে পারে। অনেক দেশেতো অনেক বেশি, ১০০ পারসেন্টেরও বেশি সিংগাপুরেও। সবচেয়ে বড় সূচক হচ্ছে ক্রাইটেরিয়াটা হলো ইফিকেসি আপনি ইউটিলাইজটা কোথায় করছেন। প্রজেক্ট সময় মতো শেষ করছেন কিনা। যেমন প্রাইভেট ঋণের মতো ৫ কোটি টাকা দরকার, নিয়ে গেলেন ১০ কোটি টাকা ফ্লাট কিনলেন ৫ কোটি টাকায়। শোধ জীবনেও করতে পারবেন না। অতএব প্রজেক্টগুলো সিলেক্ট করতে হবে। আমার পারসোনাল মত, এডিপিতে এতো প্রজেক্ট নেয়ার দরকার নাই সরকারের।যেগুলো নেবে সেগুলো যেন বৃহৎ জনগোষ্ঠীর উপকারে আসে বা প্রাইভেট সেক্টরে হেল্প করে। ইনফ্রাস্ট্রাকচার করেন রোডস, টেকনোলজিক্যাল, আইটি, গ্যাস, ইলেকট্রিসিটি এগুলোর দরকার আছে কিন্তু সময় মতো শেষ করবেন। আর্থ সামাজিক প্রকল্প বেশি করে করেন যেখানে এডুকেশনে সবচেয়ে বেশি রিটার্ন আসবে ভবিষ্যতে এনভারনমেনট ম্যানেজমেন্ট, ছোট ছোট শিল্পে। স্বাস্থ্য খাতে আমরা বাজেটের ৫ পারসেন্ট দেই। এই যে কোরিয়া, থাইল্যান্ড আমরা উদাহরণ দেই তারা ১২-১৩পারসেন্টের  বেশি ইনভেসট করে। খালি এক্সামপল দিলে লাভ আছে নাকি! কোরিয়া এই করেছে আমরা এগিয়ে যাবো থাইল্যান্ড সেই করেছে আমরাও সেদিকে চলে যাবো। সে অনুযায়ী কাজতো করতে হবে। কোরিয়া একটা ক্লাসিক এক্সামপল এডুকেশন। ঋণের টাকা এনে যদি ওখানে খরচ করে তবুও ভাল। ফেরত দেয়ার সামর্থ না থাকলে ঋণে বিপদ হবে, ক্রেডিট রেটিং কমে যাবে। কমে গিয়ে শ্রীলংকা ডুবছে। পাকিস্তানও যেমন। এডিবি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক হয়তো কিছু দিবে মালটিলেটারাল। বাইলেটারাল দ্বিপাক্ষিক অনেকে কাছে আসতেই চাইবে না। অতএব এই বিষয়ে আমাদের একটু সতর্ক হতে হবে। ঋণের দিকটা ভেরি ইমপোর্টেন্ট। বেছে বেছে কোথায় ঋণ নিবো, কোথা থেকে আনবো, সুদের হার কতো শর্ত কি এগুলো কিন্তু দেখতে হবে। প্রাইভেট সেক্টরও একই অবস্থা শুধু সরকারেরটা দেখলে তো চলবেনা ওরা কোথা থেকে ঋণ আনছে দিতে পারবে কিনা। ফরেন এক্সচেঞ্জে রিস্কও আছে আনলেন৮০ টাকা দিয়ে পরে যদি দেড়শ টাকা হয়ে যায় কিভাবে শোধ দিবেন।এগুলো দেখা খুব কঠিন জিনিস না। ঋণ করে ঘি খাই কথায় বলে, স্বপ্নে পোলাও খাওয়া। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা যেটা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেনট বলি মানে শুধু এনভায়রনমেনট না এইডেভেলপমেন্ট যেন ভবিষ্যতের জন্য হেল্পফুল হয় সেটা দেখতে হবে।ঋণ এখনো ডেঞ্জার লেভেলে চলে যায় নাই কিন্তু একটু সাবধান থাকতে হবে। আর সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট আনা পছন্দ না। এটি টাইট লোন। বিদেশে থেকে আনবেন ওদের ডিসবারমেনট সিডিউলে ডিপেন্ড করতে হবে যেমন ভারত বিরাট একটা লোন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কিন্তু স্লো ডিসবারসমেনট  কতযুগ যে লেগে যাবে ঐ টাকা আসতে তারপর আবার কিনতে হবে ওদের জিনিষপত্র । বেটার মালটিলেটেরাল লোন নেয়া।দ্বিপাক্ষিক অনেক সময়  । জাপান ইজ এ গুড এক্সাম্পল, নর্থ আমেরিকা, ইউরোপ অলসো। তাই যাচাই বাছাই করে ঋণ নেয়া উচিত

জুলিয়া: আপনার পর্যবেক্ষণে ব্যাংকিং খাত এখন কেমন আছে? অর্থনীতিতে বেসরকারি ব্যাংকগুলো এবং ব্যাংক মালিকদের অবদান কেমন?

ড. সালেহউদ্দিন: ব্যাংক ও  আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমি যা বলবো তা খুবসুবিধার না। মোটামুটি একটা সংকটময় খাত। অব্যবস্থাপনা, খেলাপি ঋণ, করাপশন এবং ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট বিশেষ করে বোর্ড অব ডিরেক্টরস এবং ম্যানেজমেন্ট যেভাবে কাজ করার কথা, ব্যাংকের রুলস এবং নর্মসগুলো পালন করার কথা সেখানে যথেষ্ট দুর্বলতা আছে। এভাবে যদি চলতে থাকে তাড়াতাড়ি সমাধান না করি তবে আমাদের বিপদ হবে অন্য অর্জনগুলো নষ্ট হবে। কারণ ফিন্যান্সিয়াল সেক্টরবডি নার্ভের মতো। সবচেয়ে বড় বিষয়, ইমিডিয়েটলি সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে। শুধু সেন্ট্রাল ব্যাংকের উপর নির্ভর করলে হবে না।আমাদের কমপ্লায়েনন্স ও নর্মগুলো আছে এগুলো ভালো এবং ইন্টারন্যাশনাল মানের- ব্যাসেল ১, ব্যাসেল ২, 

ব্যাসেল ৩ কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের রুলস ও ব্যাংকিং কোম্পানি আইনে অনেক দুর্বলতা আছে। আইন পরিপালনও হয়না। এই যে সেন্ট্রাল  ব্যাংক কয়দিন পরপর নোটিশ দেয়, চেঞ্জ করে ঘন ঘন। এতো নোটিশ দিতে হবে কেন,  রিমাইন্ডার দিতে হবে কেন? ব্যাংকাররা পরিপালন করছে না এবং সেন্ট্রাল ব্যাংকও শাস্তি দিচ্ছেনা। এটি ইনস্টিটিউশন প্রব্লেম, ইমপ্লিমেনটেশন প্রব্লেম। একটা আরেকটার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।ঋণ খেলাপি হলে ব্যাংকগুলো প্রভাবিত হয় ব্যাংকের ক্যাপিটাল বেজ নষ্ট হয়। ঋণ দেয়ার সক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এতে লেবেল প্লেইং ফিল্ড থাকেনা। যারা সৎ যারা উদ্যোগী ব্যবসায়ী খেলাপি না তারাও তো কম্পিটিশনে পারবে না কারণ খেলাপিরা একজনকে হায়ার করবে লাখ টাকায় যার বেতন ৫০ হাজার টাকা। এটাতো আমরা দেখছি প্র্যাকটিক্যালি। আমি না বললেও আপনারা জানেন খেলাপিরা কি করে।এখানে অনেকগুলো ফ্যাক্টর জড়িত। সার্বিকভাবে ব্যাংকের অবদান ভালো। অর্থনীতি এপর্যন্ত আসছে ব্যাংক আর আর্থিক প্রতিষ্ঠান না হলে এতদূর আমরা এগুতে পারতাম না। নিঃসন্দেহে তারা প্রশংসা পাওয়ার দাবি রাখে। কিন্তু এখন বেশকিছু প্রবলেম চলছে। সেন্ট্রাল ব্যাংককে আরেকটু শক্ত হতে হবে। শক্ত রোল নিতে হবে । কেন্দ্রীয় ব্যাংক আছে কিন্তু আদেশ না মানলে নির্দেশ না মানলে সেটা যেন কেমন।

ব্যাংকগুলোতে সুশাসনের অভাব কারণ ব্যাংক বেশিরভাগ ওউন করে ব্যবসায়ীরা। তারা ব্যাংক কন্ট্রোল করা ঠিক হবে না। পৃথিবীর কোনো দেশেই কিন্তু ব্যক্তি ব্যবসায়ীরা এভাবে ব্যাংক মালিক না। ইন্ডিয়াতে দেখেন কয়জন ব্যবসায়ী, টাটা বিড়লারা কি ব্যাংক ওউন করে নাকি?  এখন চেয়ারম্যান ডিরেক্টররা স্বার্থ খুঁজে নিজের ব্যাংক থেকে লোননিতে পারবে না আরেকটা ব্যাংকতো আছে; তুমি আমাকে দাও আমি তোমাকে দেই। এটা আমাদের প্রব্লেম। প্রথমত ব্যাংক এতোগুলো দেয়াই ঠিক হয় নাই। ব্যাংকিং সেক্টরে ইমিডিয়েটলি কিছু রির্ফম লাগবে। দেখুন-গরু বা মহিষকে হ্যান্ডেল করতে হলে শিংয়ে ধরতে হয় লেজ নিয়েনাড়ানাড়ি করলে হবে না


জুলিয়া: সরকারের চলমান অর্থনৈতিক নীতি ও ব্যবস্থাপনা কেমন?  বৈষম্য এখন আলোচনার শীর্ষে। এনিয়ে আপনার মত কি?

ড. সালেহ উদ্দিন: সার্বিকভাবে অর্থনীতির যে রুলস বাংলাদেশের যেনেক্সট ফাইভ ইয়ার প্ল্যানটা করা হয়েছে এর প্রেক্ষিত ও পরিকল্পনায় সবকিছুই ভালো। কিন্তু ব্যাপার হলো এটার জন্য অর্থের প্রয়োজন, এটার জন্য দরকার দক্ষ লোকের, ইমপ্লিমেন্টেশনে নজরদারিও দরকার, মনিটরিং, ইভাল্যুয়েশন দরকার। সেইগুলো যথেষ্ট না। আমাদের প্রকল্পগুলা মনিটরিং করে আইএমইডি- তারা মন্ত্রণালয়ে খালি ঘোরাঘুরি করে দেখে কত টাকা ব্যয় হয়েছে; রাস্তায় বিটুমিন দিলেন না বালু দিয়ে ভরিয়ে দিলেন সেটাতো দেখে না। অতএব এগুলো যদি ঠিক না করি কিভাবে হবে। এমনিতে ঘোষিত নীতিগুলো তো ভালোই; বৈষম্য থাকবে না, গ্রোথ হবে কিন্তু  বৈষম্য তো হচ্ছে। বৈষম্যের কারণগুলো খুঁজে বের করেন কেনো হচ্ছে। যাদের অর্থ আছে তাঁরাই পাচ্ছে। নতুন ছোট কোন উদ্যোগী, কোন ছোট সংস্থা অর্থ আনতে যান, মহিলা এন্টারপ্রেনার অনেকে টাকাই পায়না। এমন চললে তো ডিফিকাল্ট। তার মানে আপনার রুল অফ ল”এবং নর্মস নিয়মকানুন যদি পালন করেন কোন ডিসক্রিশনারি পাওয়ার যদি না থাকে, পলিটিক্যাল কানেকশন যদি কনসিডার করা না হয়, আমলাতন্ত্রিক জটিলতা না হয়, আমলাদের সাথে যোগাযোগ কনসিডার না হয় ডেফিনেটলি এই নীতিগুলো বেশি ফলপ্রসূ হবে। আর অনেক বড় নীতিমালা কাজে দেয়না। সমবায়  আইন ফেল করেছে কারণ ৯০ পৃষ্ঠার আইন ১০০ পৃষ্ঠার বিধিমালা।আর দেখেন কোরিয়ার কো অপারেটিভ ল” আছে ১৫-২০ পৃষ্ঠা ।আইন আছে ইনপ্লিমেন্টেশন নাই তাহলে তো আইনে লাভ নাই।

জুলিয়া: অর্থনীতির সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং নিকট আগামী মাথায়রেখে আসন্ন বাজেটের জন্য সরকারের প্রতি অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিনের পরামর্শ কি কি? 

ড. সালেহউদ্দিন: বাজেট একটা গাণিতিক হিসাব; কতো আয় করবো, কতো ব্যয় করবো, কতো ঋণ নেবো দেশ থেকে, দেশের বাইরে থেকে, ডিফিসিট কতো। সুন্দর অংক। এটা ফেলে দিতে পারবো না।  কিন্ত রেশনাল কি বাজেট, মূল কৌশল কি? আলোচনা ততো হয়না।আলাপ হয় শুধু কয়েকটা চেম্বার বডির সাথে টু বি ভেরি ফ্র্যাংক বাকিরা আসে যায়, চা টা খেলো আর কি!

বাজেটে এখন মানুষের কোয়ালিটি অফ লাইফ দেখতে হবে, বৈষম্য করা যাবে না, ইনসেনটিভ দেন কিন্তু  খালি দিতেই থাকবেন একটা সেক্টরে, প্রণোদনা ভর্তুকি দিতেই থাকবেন আর কৃষিতে কমাবেন সেচের দামবাড়াবেন বলছেন, পানির দাম বাড়াবেন বলছেন এগুলোতো ঠিক না।এ টি বিশেষ সময় তাই রুটিন বাজেট করে লাভ নাই, একটু নন-রুটিনবাজেট, বিশেষ বাজেট লাগবে বাজেট একটু বড় হোক তাতে আমার আপত্তি নেই বাজেট ডেফিসিটও একটু বাড়তে পারে আপত্তি নাই।বাজেট সবাইকে প্রভাবিত করে; আপনার আমার জীবন, ব্যবসায়ীর ব্যবসা সমস্ত দেশের । অতএব এটা একটু কেয়ারফুলি করতেই হবে। মেইন প্রজেক্টগুলো বাজেটে বিস্তারিত থাকতে হবে। যথেষ্ঠ আলোচনাকরতে হবে।

জুলিয়া: অর্থনীতিবিদ হিসেবে ইউক্রেন-রাশিয়া চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং প্রভাব কিভাবে দেখছেন? বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অর্থনীতির পরিমন্ডলে এই যুদ্ধ কি প্রভাব রাখবে? 

ড. সালেহউদ্দিন: রাশা-ইউক্রেন  যুদ্ধ কোভিডের পরে সারাবিশ্বের জন্য বিরাট ঘটনা। নিঃসন্দেহে সারাবিশ্বের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে। প্রথমত কিছু পোলারাইজেশনতো হবেই। বাংলাদেশকে তা ওয়াচ করতে হবে। আমরা অর্থনৈতিক দিকে এগিয়ে যেতে চাইছি রাজনৈতিক অ্যামবিশন নাই গ্লোবাল লিডার হতে হবে ইমিডিয়েটলি এমন না। তাই আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে আমাদের জনগণের সুবিধা এবং আমাদের স্বার্থের দিকে। এই যুদ্ধ বিশ্বের পলিটিক্যাল অর্ডার চেঞ্জ করবে আর গ্লোবালাইজেশন এন্ড গ্লোবাল ট্রেডও চেঞ্জ করবে। লোন আনার ব্যাপারে ইকোনোমিক রিলেশনশিপের ব্যাপারে  পলিটিক্যালি এটি বিরাট ইস্যু হবে। পেমেন্ট সিস্টেমে এবং ইন্টারন্যাশনাল কারেন্সি সিস্টেমে প্রভাব পরবে। রাশিয়া চায়না চেষ্টা করছে, চায়না তো বহু দিন আগে থেকেই করছে। ডি-ডলারাইজেশন বা ডি-লিংকিং ফ্রম দ্য ডলার। ডলারের উপর ডিপেনডেন্ট হবে না। আবার ওরা চাচ্ছে সুইফট থেকে বেরিয়ে আরেকটা করার। এসবের  ইমপ্লিকেশন হবে আমরা কোনদিকে যাবো? আমাদের টাকা কনভারটেবল ডলারে বেশি করবো না রুবলে করবো না চাইনিজ ইউয়ানে করবো?  এগুলো লক্ষ রাখতে হবে। এখনো রাশা বিরাট দেশ, ইউক্রেনেরও অনেক সম্পদ আছে যেগুলোর প্রাইস দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে ওটার এফেক্ট অলরেডি পড়ছে। ছোট দেশ হলেও বিশাল জনসংখ্যার দেশ হিসেবে আমাদের লক্ষ রাখতেই হবে। এখনি খুব সুইপিং রিমার্ক না করে আমি আশা করবো আমাদের নীতিনির্ধারকরা অনেক রকম সুইপিং রিমার্ক করে ফেলে তা না করে সবার  মতামত নিয়ে  দেশের স্বার্থের জন্য গভীরভাবে চিন্তা করে দেখতে হবে। তবে বিশ্বায়ন ও ট্রেড রেজিম চেঞ্জ হতে যাচ্ছে সেদিকে ওয়াচ রাখতেই হবে ।আমি আশা করি সরকার এবং বেসরকারি খাতের লোকজন সরকারকে হেল্প করতে এটি ওয়াচ করবে আর বলবে কি কি করা দরকার ভবিষ্যতে।প্রস্তুতির বিকল্প নেই সোজা কথা অর্থনৈতিক প্রস্তুতি নিতে হবে, রাজনৈতিক এবং বৈদেশিক বিষয়গুলোতেও প্রস্তুতি নিতে হবে।  এভাবে হলেই বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে

জুলিয়া: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

ড. সালেহউদ্দিন: আপনাকে, একাত্তর পরিবার ও এর দর্শকদেরও অনেক ধন্যবাদ।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১০ দিন আগে