ঢাকা ১৭ আগষ্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯

ভোজ্যতেল সংকটের যে কারণ জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২২ ১৪:০৯:৫৫ আপডেট: ০৯ মে ২০২২ ১৬:৩৭:৫৪
ভোজ্যতেল সংকটের যে কারণ জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

বাজারে ভোজ্যতেল সংকটের জন্য খুচরা ব্যবসায়ীদের দিকেই আঙুল তুলছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, ঈদের পর দাম বাড়বে, একথা জেনেই বেশি লাভের আশায় তারা তেল মজুদ করেছে। আর এ কারণেই ঈদের দু’দিন আগে বাজার থেকে ভোজ্যতেল উধাও হয়ে যায়।

সোমবার, সচিবালয়ে ভোজ্যতেলের দাম বাড়া নিয়ে উৎপাদকদের সাথে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। এ সময়, ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক হারে লাভ করার আহবান জানিয়ে, কারসাজি করলে প্রয়োজনে ডিলারশিপ বাতিল করা হবে বলে হুঁশিয়ার তিনি। 

তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ার কথা স্বীকার করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এদেশে মাত্র ১০ শতাংশ তেল উৎপাদন হয়। বাকিটা বাইরে থেকে আসে। জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় ভারত, পাকিস্তানসহ প্রতিবেশি সব দেশেই তেলের দাম বেড়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, সেটা সত্যি। সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে এটাও সত্যি। তবে সয়াবিন তেলের দাম না বাড়িয়ে উপায় ছিলো না। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়েও ২২ টাকা কমে তেল বিক্রি করছি আমরা।

তিনি অভিযোগ করেন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার বিষয়ে দেশের গণমাধ্যমগুলোতে সেভাবে খবর করা হচ্ছে না। টিপু মুনশি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তেলের দাম নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর ছাপা হচ্ছে। কিন্তু কোথাও বলা হচ্ছে না, বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। 

তিনি খেদের সঙ্গে বলেন, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকাসহ প্রায় সব দেশেই তেলের দাম বেড়েছে। গত এক বা দেড় মাসে গ্লোবাল মার্কেটে দামের কেমন তারতম্য সেটা নিয়ে কোনো নিউজ করা হচ্ছে না। তিনি জানান, তেল নিয়ে কোথায় কোথায় সমস্যা হয়েছে সেটা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেটি তারা প্রকাশ করবেন বলেও জানান, টিপু মুনশি।

সয়াবিন ও পাম তেলের বাজারে অস্থিরতা প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস করা তার ভুল হয়েছে। ব্যবসায়ীরা কথা রাখেননি। যে কারণে বাজার ব্যবস্থাপনায় আমি ব্যর্থ হয়েছি। 

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে তেলের মূল্যবৃদ্ধি মেনে নিন। তবে খুচরা ও পাইকারী পর্যায়ের অনেক ব্যবসায়ী এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন। তারা চিহ্নিত। যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে হবে। প্রয়োজনে র‌্যাবের সহযোগিতা নেয়া হবে।

টিপু মুনশি বলেন, তেলের উচ্চমূল্যে দরিদ্র মানুষ যাতে চাপে না পড়েন সেজন্য সরকার টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এক কোটি দরিদ্র পরিবারকে সাশ্রয়ী মূল্যে ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য পণ্য সরবরাহ করা হবে। আগামী জুন মাসেই টিসিবি এসব পণ্য সরবরাহ করবে।

আরও পড়ুন: গতিপথ বদলাতে পারে অশনি, ভারত মহাসাগরে আরেকটি নিম্নচাপ

সংবাদ সম্মেলনে তেল আমদানিকারক সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, দেশে তেলের সংকট ছিলো না, এখনো নেই। কিন্তু ভোক্তারা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ভোজ্যতেল কিনে বাসায় রেখেছে। ফলে বাজারে প্যানিক সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।



একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১৫ দিন আগে