ঢাকা ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯

কিডনি বিক্রি চক্রের সাত দালাল গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি, জয়পুরহাট
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২২ ১৫:৫২:৩৪
কিডনি বিক্রি চক্রের সাত দালাল গ্রেপ্তার

জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে কিডনি ক্রয়-বিক্রয় চক্রের সাতজন দালালকে গ্রেপ্তার করেছে। 

শনিবার (১৪ মে) দুপুর দেড়টায় জয়পুরহাট পুলিশ লাইন সভাকক্ষে পুলিশ সুপার মাসুম আহাম্মদ ভূঞা সংবাদ সম্মেলন করে জানান, জেলার কালাই থানা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও গরীব লোকজনদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মানব কিডনি বিক্রিতে প্রলুব্ধ করে আসছে।

প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা পরবর্তীতে দালালে পরিণত হন এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার নিরীহ গরীব লোকজনদেরকে কিডনি বিক্রির জন্য বিভিন্ন প্রলোভন দেখান। 

পরে তাদের অভাব অনটনের সুযোগ নিয়ে দালাল চক্রের সক্রিয় সদস্যরা প্রাথমিক অবস্থায় ১৫-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ধার দেয়ার কিছুদিন পরই তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক টাকা ফেরত চান। 

টাকা ফেরত দিতে না পারলে কিডনি বিক্রির জন্য বাধ্য করে সংঘবদ্ধ দালাল চক্র কতিপয় অসাধু ডাক্তারের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেশের ভেতরে এবং বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে তাদের কিডনি অপসারণ করান। পরে নামমাত্র চিকিৎসা শেষে তাদের হাতে এক থেকে দুই লাখ টাকা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। 

এই দালাল চক্রকে সনাক্ত করার জন্য জয়পুরহাট জেলা পুলিশ গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, সাম্প্রতিক সময়ে কালাই থানা এলাকা থেকে কয়েকজন লোক নিখোঁজ হন এবং বর্তমানে তারা কালাই এলাকার কিডনি চক্রের প্রধান দালাল জনৈক কাওছার এবং সাত্তার এর মাধ্যমে দুবাই ও ভারতে অবস্থান করছেন। 

এছাড়াও সম্প্রতি কালাই থানা এলাকার পাশাপাশি পাঁচবিবি থানা এলাকাতেও কিডনি বিক্রির জন্য অসহায় গরীব লোকজনকে প্রলুব্ধ করছে মর্মে গোয়েন্দা তথ্যে পাওয়া যায়। 

কিডনি দালাল চক্রকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জয়পুরহাট ডিবি পুলিশের একটি দল কালাই থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের প্রধান কাওছার এবং সাত্তার এর সহযোগী সাহারুল, ফরহাদ হোসেন চপল (৩১), মোশাররফ হোসেন (৫৪), শাহারুল ইসলাম (৩৫), মোকাররম (৫৪), সাইদুল ফকির (৪৫) ও সাদ্দাম হোসেনকে (৪০) গ্রেপ্তার করে। 

আরও পড়ুন: এখন আর ঘূর্ণিঝড় আতঙ্কে থাকতে হয় না যাদের

এদের মধ্যে মোশাররফ হোসেন ২০০৯ সালে, শাহারুল ইসলাম ২০০৯ সালে, মোকাররম ২০০৬ সালে, সাইদুল ফকির ২০১৬ সালে তাদের কিডনি বিক্রি করেন এবং ফরহাদ হোসেন চপল, সাদ্দাম ও শাহারুল কিডনি বিক্রির জন্য ভারতে গেলেও তারা ভয় পেয়ে  কৌশলে পালিয়ে আসেন। 

পরবর্তীতে একই প্রক্রিয়ায় তাদের সবাই কিডনি বিক্রি চক্রের দালালে পরিণত হন। তারা এলাকার অসহায় গরীব লোকদের সংগ্রহ করে ঢাকায় কাওছার ও সাত্তারের কাছে পাঠান।

পুলিশ জানিয়েছে, দালাল চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

৩ দিন ৩ ঘন্টা আগে