ঢাকা ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯

শ্রমিকদের জন্য রেশন নয়, নগদ সহায়তার পক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী

কাবেরী মৈত্রেয়, একাত্তর
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২২ ২০:৪৫:৪৩
শ্রমিকদের জন্য রেশন নয়, নগদ সহায়তার পক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী

বাজেটে শ্রমিকদের জন্য রেশন, আবাসন, চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ চান শ্রমিক সংশ্লিষ্টরা। এ দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন পোশাক খাতের মালিকরাও। 

তবে পরিকল্পনামন্ত্রী মনে করেন, রেশনিং কিংবা অন্যান্য খাতে বরাদ্দে অর্থ লোপাট হতে পারে। তাই প্রযুক্তির মাধ্যমে নগদ সহায়তা কার্যকর হবে। বরং সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। 

দেশের ৪২টি শিল্প খাতে শ্রমজীবী সাড়ে ছয় কোটি মানুষ। এদের একশো জনের মধ্যে ৮৫ জনই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। 

কঠোর শ্রমের পরও স্বল্প আয় বা কম মজুরির পেয়ে নিত্যপণ্যের চড়া দামের সাথে প্রতিনিয়তই লড়ে যাচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ। পাশাপাশি শিক্ষার সুযোগ না পাওয়া এবং ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় থেকেও শ্রমিকরা অর্থনীতির উচ্চ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করছেন। 

শনিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ টেক্সটাইল-গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আয়োজনে শ্রমিকদের বাজেট কেমন হতে পারে এমন এক আলোচনায় বক্তারা জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর বাজেটের আকার ৮৬৫ গুণ বাড়লেও এদেশে শ্রমিকদের সুবিধা জেলখানার একজন কয়েদির চেয়েও খারাপ। তাই আসছে বাজেটে শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান শ্রমিক নেতারা। 

এসময় অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা বললেন, টেকসইভাবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হতে হলে শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নের বিকল্প নেই। 

এসময় পোশাক কারখানা মালিকদের নেতা বলেন, ব্যবসার পরিবেশে সেভাবে উন্নতি না না হওয়ায় শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা যাচ্ছে না। 

শ্রমিকদের ন্যায্য বা পর্যাপ্ত মজুরি না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন খোদ পরিকল্পনামন্ত্রী । তবে তার শঙ্কা ভিন্ন পদ্ধতিতে বরাদ্দ হলে লুটপাট হতে পারে। নগদ সহায়তাই ভালো পন্থা। 

মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি; শ্রমিকদের পুরো পাওনা দেওয়া হচ্ছে না। তবুও যদি শ্রমিকদের প্রাপ্যটা যাতে আরেকটু ন্যায্য ও হকভিত্তিক করা যায় সেটা আমরা চেষ্টা করবো।

তিনি আরও বলেন, রেশনিং বিরাট একটা ব্যবস্থাপনার বিষয়। আমাদের দেশে যত বেশি প্রসার, তত বেশি লিকেজ, এটা আমরা স্বীকার করি। এই যে প্রণোদনা হিসেবে সরকার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল, সেটা পদে পদে, চুইয়ে চুইয়ে শেষ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। 

রেশনিংয়ে একটা কল্যাণ আছে, আমি মানি। কিন্তু এটাকে প্রান্তিক পৌঁছানোর ব্যাপারে আমার সংশয় আছে। আরও সহজ উপায় আমার মাথায় আছে বলে যোগ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

মন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে যেসব বিধান রয়েছে, সেগুলো আমরা অনেক সময় প্রয়োগ করতে পারি না। শ্রমিকের পূর্ণ পাওনা আমরা দিচ্ছি বলে আমি বিশ্বাস করি না। অবিশ্বাস্য। একদমই বিশ্বাস করি না। যেটা আছে সেটা একটা আপসমূলক অবস্থা। এই আপসমূলক অবস্থাকে আর একটু মসৃণ ও টেকসই করার চেষ্টা আমরা করছি।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম-ঢাকা নৌপথ খনন ও টার্মিনাল নির্মাণে চুক্তি সই

স্বাস্থ্যখাতে দেশের অনেক বড় কৃতিত্ব অর্জন হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, ১২১টি দেশের মধ্যে আমরা পঞ্চম স্থানে রয়েছি। কোভিড ম্যানেজমেন্টে বাংলাদেশের অর্জন অনেক বড়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য উন্নত দেশ হয়েও হিমশিম খেয়েছে। এ অঞ্চলের আটটি দেশের মাঝে আমরা প্রথম হয়েছি। যেখানে ভারত, পাকিস্তান আমাদের কাছেও নেই।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, পলিটিকাল আনরেস্ট, ইউক্রেন, কোভিড, শ্রীলঙ্কা, চায়না লোন, বিশ্ব-ব্যাংক এসব বিষয় আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। এসব আমাদের পরিচিত। বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে এই অঞ্চলে আমরা সবচেয়ে স্থিতিশীল পরিবেশে আছে। এ অঞ্চলের নেপাল, মায়ানমার এবং মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশ থেকে আমরা স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আছি।

এম এ মান্নান বলেন, অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কা না থাকলেও শ্রীলংকাকে তুলনা করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির শঙ্কা আছে।


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

৩ দিন ২ ঘন্টা আগে