ঢাকা ২৯ মে ২০২২, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

ত্রিপুরায় মুখ্যমন্ত্রী বদল, বিজেপি অফিসে কান্নাকাটি-ভাঙচুর

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২২ ২১:৫১:১১ আপডেট: ১৪ মে ২০২২ ২১:৫১:২৫
ত্রিপুরায় মুখ্যমন্ত্রী বদল, বিজেপি অফিসে কান্নাকাটি-ভাঙচুর

দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে পদত্যাগ করেছেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত ত্রিপুরায় আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তার আগেই এ নাটকীয় পরিস্থিতির কারণে বিভাজন দেখা দিয়েছে গেরুয়া শিবিরে।   

বিপ্লব কুমার দেব জানান, ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার রাজভবনে রাজ্যপাল এস এন আর্যর সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

এর আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিপ্লব। কখনো বলেছেন, মহাভারতের যুগে ইন্টারনেট ছিল বা কৃত্রিম উপগ্রহেরও অস্তিত্ব ছিল। আবার কখনো বলেছেন, 'চাকরির জন্য নেতাদের পিছনে ঘুরে লাভ কি? স্নাতকদের উচিত গরু পালন করা। গরুর দুধ বেচে তারা ১০ বছরে ১০ লক্ষ টাকা আয় করতে পারবেন।' তার এসব মন্তব্যের কারণেও নিজ দলে জনপ্রিয়তা হারান বিপ্লব। 

এদিক সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি জানিয়েছে, মানিক সাহা হচ্ছেন ত্রিপুরার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি নিউজ জানায়, শনিবার (১৪ মে) দলীয় বৈঠকে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মানিক সাহার নাম ঘোষণা করেন সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। 

তবে মানিক সাহার নাম ঘোষণার পরপরই তুমুল হট্টোগোল শুরু হয় গেরুয়া শিবিরে। বৈঠকের মধ্যেই মন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল এ নিয়ে আপত্তি জানান। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতেই হাতাহাতি শুরু হয়ে যায় অফিসে।  

ক্ষোভে চেয়ার আছড়ে ফেলে, কান্নাকাটি শুরু করেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল। তাতে যোগ দেন বিজেপি'র আরও কয়েকজন নেতা। 

অন্যদিকে ত্রিপুরা তৃণমূল নিজেদের টুইটার হ্যান্ডেলে পর পর দু’টি ভিডিও পোস্ট করেছে। তার একটিতে দেখা যাচ্ছে, রাগে একটি চেয়ার আছড়ে ভাঙছেন রামপ্রসাদ। অন্য ভিডিয়োতেও দেখা যাচ্ছে বিজেপি কার্যালয়েই রাগে ফেটে পড়ে চিৎকার করছেন তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যাচ্ছে রামপ্রসাদকে। 

ওই ভিডিও'র জেরে রাজ্য বিজেপিকে কটাক্ষ ছাড়েনি তৃণমূল। সামাজিক মাধ্যমে বিজেপির কড়া সমালোচনা করে মমতার দল তৃণমূল। 

তৃণমূল বলছে, বিপ্লবের জায়গায় রামপ্রসাদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু মানিকের নাম ঘোষণায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন রামপ্রসাদ। 

আরও পড়ুন: সিঙ্গাপুরের কথা বলে চট্টগ্রামের বিমানে তুলে টাকা নিয়ে হাওয়া

বিজেপি বিধায়ক পরিমল দেববর্মার অভিযোগ, মানিককে মুখ্যমন্ত্রী করার ব্যাপারে কারও মতামতের তোয়াক্কা করেনি নেতৃত্ব।

পশ্চিম ত্রিপুরার সূর্যমণিনগরের বিজেপি বিধায়ক রামপ্রসাদ। তিনি বিপ্লবের মন্ত্রিসভার সদস্য। এর আগে রামপ্রসাদ ত্রিপুরা বিজেপির সহ-সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

২০১৮ সালে ত্রিপুরায় বামফ্রন্টের ২৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে দেবকে মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়েছিল। 


একাত্তর/আরবিএস 

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন