ঢাকা ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৯

১০ হাজার কোটি টাকার বেশি লোপাট করেছেন পিকে হালদার

জেমসন মাহবুব, একাত্তর
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২২ ১৭:৩৬:১৭ আপডেট: ১৫ মে ২০২২ ২২:২৩:২০
১০ হাজার কোটি টাকার বেশি লোপাট করেছেন পিকে হালদার

পিকে হালদার ওরফে প্রশান্ত কুমার হালদার। বাংলাদেশের আর্থিক খাতে বর্তমানে একই সঙ্গে আলোচিত এবং সমালোচিত নাম। হাজার হাজার কোটি পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত।

এতোদিন অভিযোগ ছিলো এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এই সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিভিন্ন কৌশলে কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছেন।

কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আশোকনগর থেকে গ্রেপ্তার হবার পর পিকে হালদার সম্পর্কে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য, আপরাধের আরো কাহিনী।

নিজ সিন্ডিকেটের প্রধান সহযোগী ও কতিপয় সদস্যসহ বর্তমানে তিন দিনের রিমান্ডে থাকা পিকে হালদারকে নিয়ে চোখ কাপলে তোলা তথ্য দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, পিকে হালদার সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা নয়, তার আত্মসাৎ ও পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকার উপরে

প্রভাব খাটিয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পিকের লাগামহীন দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক। সেসসব তথ্য দেখা গেছে পিকে হালদার অস্তিত্বহীন ৩০-৪০টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ঋণ জালিয়াতি করেছেন।

এভাবে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও পিপলস লিজিং থেকে তিনি আত্মসাৎ করেছেন প্রায় ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে ২,৫০০ কোটি, এফএএস থেকে প্রায় ২,২০০ কোটি, রিলায়েন্স প্রায় ২,৫০০ কোটি ও পিপলস লিজিং থেকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

এসব ঋণের বিপরীতে জামানত নেই বললেই চলে। তদন্তে দেখা গেছে, আত্মসাৎকৃত বিরাট অংকের এ অর্থ আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। পিকে এসব টাকা পাচার করেছেন বিভিন্ন দেশে।

দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান বলছেন, পিকে হালদারের অর্থ আত্মসাতের নেপথ্যে যারা আছে, তাদের সবাইকেই আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

শনিবার অশোকনগর থেকে পিকেসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রনালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-ইডি

সেদিনই রাতেই ইডির আবেদনের পরিপেক্ষিতে পিকেসহ ছয়জনকে ১৭ মে পর্যন্ত হেফাজতে নেয়ার নির্দেশ দেন কলকাতার ব্যাংকশাল আদালতের বিচারক।

এরইমধ্যে দেশে তার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের ৩৪টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক সেসব মামলায় আসামি ৮০ জন

আর এখন পর্যন্ত পিকে হালদার ও সহযোগীদের প্রায় ১০০ কোটি টাকার স্থাবর অস্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে ফ্রিজ করা হয়েছে ৮৩ জনের একাউন্ট

বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে ৬৫ জনের বিরুদ্ধে এসব মামলায় গ্রেফতার ১৩ জনের মধ্যে ১১ জন দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন

দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান বলছেন, এমএলআর- এর ভিত্তিতেই ভারতের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করছে পিকে হালদারকে

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার দিঘিরজান গ্রামে জন্ম হওয়া পিকে হালদার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক

পরে এমবিএ শেষ করার যোগ দেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইআইডিএফসিতে ২০০৮ সাল পর্যন্ত উপব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকার এক বছরে রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি বনে যান তিনি।

এরপর ২০১৫ সালের জুলাইয়ে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি পদে যোগ দেন। সেখান থেকেই পিকে হালদারের বড় রকমের উত্থান শুরু।

নিজের উচ্চাকাঙ্খা, অর্জিত জ্ঞান আর অর্থ ব্যবস্থার নানা ফাঁকফোকর নিয়ে ধীরে ধীরে নিজেকেই নিজে ছাড়িয়ে যান পিকে হালদার।

ভারতে গ্রেফতার হওয়া পিকে হালদার দেশের আর্থিক খাতের শীর্ষ দখলদার ও খেলাপিদের একজন। সমসাময়িক তো বটেই, দেশের ইতিহাসেই তার মতো চরিত্র বিরল। 


একাত্তর/এআর

 

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

১০ দিন ৯ ঘন্টা আগে