ঢাকা ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯

পিকে হালদারকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিতে চায় ভারতও

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ মে ২০২২ ২২:২২:৩৬ আপডেট: ১৬ মে ২০২২ ১১:৩৩:১০
পিকে হালদারকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিতে চায় ভারতও

বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা টাকা হাপিশ করে দেয়ার পর বিদেশে পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদারকে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দিতে চায় ভারতের ডিরেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্ট- ইডি।

দিল্লির সূত্রে এমন খবরই জানিয়েছে ভারতের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। শনিবার পশ্চিমবঙ্গের অশোকনগর থেকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে পিকে হালদারকে হেফাজতে নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রনালয়ের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি।

বাংলাদেশও পিকে হালদারকে ফেরতে পেতে উদ্রগ্রীব হয়ে আছে। দুদক, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় থেকে শুরু করে প্রধান আইন কর্মকর্তাও এ ব্যাপারে সদিচ্ছার কথা জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারত থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য পেলেই পিকেকে ফেরানো হবে।

প্রশান্ত কুমার হালদারকে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে আইনি পথেই দেশে ফেরানোর আশা করছে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। তাকে দেশে ফেরানোর সব প্রক্রিয়া শেষ হতে কমপক্ষে তিন মাসের মত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবীরা।

ভারতের সঙ্গে ২০১৩ সালে একটি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি করেছিলো বাংলাদেশ। সেই চুক্তির আওতায় দুই দেশ বন্দি বিনিময় করে থাকে।

এর আগে এই চুক্তি সইয়ের পরেই বাংলাদেশে আটক ভারতের উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিলো। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলায় আলোচিত আসামী নূর হোসেনকেও এই আইনে ফিরে আনা হয়।

এদিকে, রোববার সকালে হেফাজতে পেয়েই কলকাতায় পিকে হালদারকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করছে ইডি। যা চলবে আরও দুই দিন। জানা গেছে জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতেই পিকে ভেঙ্গে পড়েছেন। তার কাছে বিম্তারিত জানতে চাইছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

তদন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই-কে যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের উপর ভিত্তি করে পিকে হালদারের জন্য ৫০টি প্রশ্ন তৈরি করেছে ইডি।

দিল্লি সূত্র জানাচ্ছে, পিকে হালদারকে বাংলাদেশের কাছে তুলে দেয়ার দুইটি কারণ রয়েছে। এর একটি হলো বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক ইনটেলিজেন্স ইউনিট ও দুদকের অনুরোধ। দ্বিতীয়টি, তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে সেগুলো সেখানকার ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে, ভারতে অনুপ্রবেশ এবং অবৈধভাবে ভোটার আইডি কার্ড, পারমানেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বর কার্ড ও আধার কার্ড সংগ্রহ করে ভারতীয় নাগরিক হওয়ার কারণে পিকে হালদারের শাস্তি হতে পারে। এক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের করতে হবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে।

রোরবার প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ইডি জানিয়েছে, পি কে হালদারের কাছে বাংলাদেশ, ভারতের পাসপোর্টের পাশাপাশি গ্রেনাডার পাসপোর্টও পাওয়া গেছে। এক বিবৃতিতে ইডি বলে, বাংলাদেশ ও ভারতীয় পাসপোর্ট ছাড়াও তার কাছে গ্রেনাডার পাসপোর্টও পাওয়া গেছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের অধীনে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ। কারণ প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ হাজার কোটি বাংলাদেশি টাকা আত্মসাতের এবং বাংলাদেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে পাচারের অভিযোগ আছে।

গত জানুয়ারিতে ইন্টারপোল বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ জারি করে। পিকের সঙ্গে তার আরও পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে ইডি। তাদের একজন পিকের ভাই।

গ্রেপ্তারের পর শনিবার এক বিবৃতিতে ইডি জানায়, পিকে ও সহযোগীরা বাংলাদেশে কোটি কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত। তারা কয়েক হাজার কোটি বাংলাদেশি টাকা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন।

এতে আরও বলা হয়, পি কে হালদার জালিয়াতির মাধ্যমে ভারতের সরকারি রেশন কার্ড, ভারতীয় ভোটার আইডি কার্ড, পারমানেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বর (প্যান) ও আধার কার্ড তৈরি করে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক শিবশঙ্কর হালদার নামে পরিচয় দিতেন।

ইডির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পি কে হালদারের সহযোগীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এই বাংলাদেশি নাগরিকরা জালিয়াতির মাধ্যমে সংগ্রহ করা পরিচয় দিয়ে কলকাতার অভিজাত এলাকাসহ বিভিন্নস্থানে স্থাবর সম্পত্তি কিনেছেন।

পিকে হালদারকে গ্রেপ্তার করা ইডি মূলত ভারতের মানি লন্ডারিং ও বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের বিষয় তদন্ত করে। পিকেকে গ্রেপ্তারের একদিন পর ইডি ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তাকে বিভিন্ন স্থানে নেয়া হতে পারেও জানা গেছে।

হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করার পর পিকে হালদার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা ঘুরে ভারতে গা ঢাকা দেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে ভারতে ঢোকেন তিনি। নাম পাল্টে তিনি নিজের নাম দেন শিবশঙ্কর হালদার।

 

 

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

৩ দিন ৩ ঘন্টা আগে