ঢাকা ০৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯

বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প হতে চায় আমেরিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলা নববর্ষ, ঈদ পুনর্মিলনী উদযাপন

বিশেষ প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২২ ১৩:৪৬:৫৬
বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প হতে চায় আমেরিকানরা

আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে যেনো এক টুকরো বাংলাদেশ দেখলেন দেশ-বিদেশের অতিথিরা। শুক্রবার বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রাণের মেলায় উৎসবের আমেজে আর বিপুল উদ্দীপনায় বাংলা নববর্ষ আর ঈদপুনর্মিলনী উদযাপন করলেন আগত অতিথিরা। 

আর এই মিলন মেলায় প্রধান অতিথি হিসাবে যোগ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া ও জনকূটনীতি বিষয়ক মার্কিন উপ সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত কেলি কেইডারলিং জানালেন, আমেরিকানরা বাংলাদেশের সাফল্যের গল্পের অংশ হতে চায়। 

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে কেইডারলিং তার বক্তৃতায় বলেন, লাখ লাখ বাংলাদেশি দারিদ্র্য সীমা থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং বাংলাদেশ এখন মধ্যমে আয়ের শ্রেণিতে প্রবেশ করেছে।

তিনি আরও বলেন, তার দেশ এমন একটি দেশের সাফল্য গাঁথার অংশ হতে চায় যে দেশ অর্থনৈতিক শক্তিধর একটি দেশ হয়ে উঠছে।

এই প্রাণের উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অপরাজিতা হক এবং এডিটরস গিল্ডের সভাপতি ও একাত্তর টেলিভিশনের এডিটর-ইন-চিফ মোজাম্মেল বাবু। 

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, মার্কিন সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী আনন্দঘন এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম বাংলা নববর্ষ উদযাপনের বর্ণাঢ্য ইতিহাস বর্ণনা করে বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং জাতির সর্বজনীন উৎসব।

তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে ঈদুল ফিতর সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব; যা তাদের আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা ও দানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

তিনি জানান, এই দুটি উৎসব স্বাধীনতা যুদ্ধের মৌলিক মূল্যবোধ উদযাপনের জন্য, যেখানে সব ধর্ম ও জাতির মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতির সাথে বসবাস করবে। যেমনটি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি সমাজের অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল নীতিকে সমুন্নত রাখতে অটল রয়েছেন এবং তার দল আওয়ামী লীগ সমাজে ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থানের বিরুদ্ধে অবিরাম সমর্থন দিয়ে আসছে।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলো একটি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যার মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ ও ঈদুল ফিতর উদযাপনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের চার কর্মকর্তা বাংলায় কবিতা ও ছড়া আবৃত্তি করেন। বাংলাদেশের প্রখ্যাত গায়িকা আনিলা চৌধুরীর গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এই পর্ব শেষ হয়।

এই উৎসবে চ্যান্সেরি প্রাঙ্গণ থেকে একটি ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ বের হয়। ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রাটি দূতাবাসের পার্শ্ববর্তী সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশী খাবার পরিবেশন করা হয়; যা বিদেশি অতিথিদের কাছে দারুণভাবে প্রশংসিত হয়েছে। 


একাত্তর/এআর

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

৩ দিন ১৫ ঘন্টা আগে