ঢাকা ১৭ আগষ্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯

রক্ষক হয়েছে ভক্ষক, এই নীতি ভয়ংকর: রাজী হাসান

কাবেরী মৈত্রেয়, একাত্তর
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২২ ১৪:২৬:৪১
রক্ষক হয়েছে ভক্ষক, এই নীতি ভয়ংকর: রাজী হাসান

দেশের আর্থিক খাতে কেলেংকারির অন্যতম হোতা প্রশান্ত কুমার হালদারকে ওরফে পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারের পর তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রনালয়ের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। 

পি কে হালদারের পাচার করা হাজার হাজার কোটি টাকা ও সমুদয় সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে একাত্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সাবেক প্রধান আবু হেনা মোহা রাজী হাসান। তার সঙ্গে সাক্ষাৎকারের চৌম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।

একাত্তর: আপনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পিকে হালদার নিয়ে তদন্ত করে অর্থ গোয়ন্দা সংস্থা  বিএফআইইউ। এখন তো অবসরে আপনি। নিশ্চয় আপনার জন্যও বড় সাফল্যের এই ঘটনা। এখন ভারতে আটক পি কে হালদারকে দেশে ফেরাতে কি উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে?

রাজী হাসান: ভারতের নিশ্চয় কোন আইন আইন আছে এববং সে আইন অনুযায়ী তাঁর বিচার হবে। পাশের দেশ ভারত ছাড়াও অন্য কোন দেশে যদি তার অবৈধ সম্পদ বা জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকত্বের চেষ্টা করে থাকেন তিনি, তাহলেও তাঁকে ফিরিয়ে আনা যায়। 

যেহেতু পিকে এখনও বাংলাদেশি ও এদেশের আর্থিক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত তাই বাংলাদেশও চাইবে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে। রাষ্ট্রীয় আইনে আছে কিভাবে ফেরত আনা যায়। এর আগেও আনা হয়েছে। সেভাবেই তাঁকে ফেরত আনা যাবে। এ জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ লাগবে।

একাত্তর: দুদক কিংবা বিএফআইইউ, ভারত, কানাডা, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশে যে পি কে হালদার অর্থ পাচার করেছেন তা বারবারই বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে। এসব টাকা দেশে আনার জন্য কি করা প্রয়োজন?

রাজী হাসান: সব দেশের নিজস্ব আইন আছে টাকা ফেরত পাওয়া ও দেয়ার বিষয়ে। আমরাও এর আগেও ২০১২-১৩ সালে টাকা ফেরত পেয়েছি। এখনো অনেক দেশ টাকা ফেরত পাচ্ছে। তবে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা সময়সাপেক্ষ। সাধারণত পাচার হওয়া অর্থ দেশে আনতে ৫-৩০ বছর সময় লেগে যায়। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া টাকা ফেরত আনা যায় না। অনেক দেশ বছরের পর বছর চেষ্টা করে যাচ্ছে, তবে টাকা ফেরত পাচ্ছে না। 

একাত্তর: চারটি নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুটের টাকায় পি কে হালদার দেশে যে সম্পদ গড়েছেন, তা বিক্রি করে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়া কি সম্ভব?

রাজী হাসান: দেশের বিদ্যমান আইন দিয়ে সম্পদ জব্দের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়করণ করে সেসব বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেয়া সম্ভব। এ জন্য যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। সব সংস্থা মিলে উদ্যোগ নিলে দ্রুতই সমাধান করা যাবে। তবে প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় একটু সময় লাগবেই।

একাত্তর: পি কে হালদার বেনামে আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখল করে লুট করেছেন। আবার বেনামে সম্পদ গড়েছেন। ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরা জমা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। এ জন্য কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে?

রাজী হাসান: আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আইন অনুযায়ী এসব টাকা ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করবে। প্রতিষ্ঠানগুলো সেই চেষ্টা করে যাচ্ছে। আইনের হাত অনেক লম্বা। নিশ্চয়ই রাষ্ট্র আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। অবস্থা বিবেচনায় বিশেষ কমিশন, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারে। 

কারণ এটা দেশের বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির একটি। এ জন্য গ্রাহকের টাকা ফেরাতে কমিশন গঠনের বিষয়টি রাষ্ট্র ভেবে দেখতে পারে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ হলো আমানতকারীদের স্বার্থ দেখা।

একাত্তর: পি কে হালদারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সাবেক ডেপুটি গভর্নর, একজন নির্বাহী পরিচালক ও চার কর্মকর্তা দুদকের মুখোমুখি হয়েছেন। এগুলোকে কিভাবে ব্যাখা করবেন?

রাজী হাসান: রক্ষক হয়েছে ভক্ষক এই নীতি তো ভয়ংকর। সবারই দায়িত্ব ছিল বিষয়টি দেখার। অনেক সময় এমন হয়, অপরাধীরা সময়ে–সময়ে ভিন্নরূপে অপরাধ করে থাকেন। ফলে বুঝে উঠতেও সময় লাগে। এটা শুধু আমাদের দেশে নয়, সব দেশের এমন অভিজ্ঞতা আছে। বিষয়গুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানিয়েছে।


একাত্তর/এআর

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১৫ দিন আগে