ঢাকা ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

চালককে খুন করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ে গ্রেপ্তার চার

নিজস্ব প্রতিনিধি, নাটোর
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২২ ১৮:৫২:৪৪ আপডেট: ১৭ মে ২০২২ ১৯:২০:২৯
চালককে খুন করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ে গ্রেপ্তার চার

নাটোরের লালপুরে চালককে খুন করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাইকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৫ মে) সন্ধ্যায় লালপুর উপজেলার ঘাটচিলান গ্রামের একটি আখ ক্ষেত থেকে চালকের মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের দায়ের করা হত্যা মামলায় সোমবার (১৬ মে) চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

গ্রেপ্তার হওয়া আসামীরা হল: জেলার লালপুর থানার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মো. সজিব হোসেন (১৯) ও মো. রবিউল ইসলাম (২৩), কাফুরিয়া গ্রামের মো. মেহেদী হাসান (২২), সদর থানার দস্তানাবাদ গ্রামের মো. সাগর আলী (৪০)। 

নিহতের পিতা ফখরুল ইসলাম জানান, তার ছেলে খোরশেদ আলম মিলন (৩২) একজন ইজিবাইক চালক। তিনি বড়াইগ্রাম ও লালপুর থানা এলাকায় ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। শনিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি বেরিয়ে আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি। এসময় তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে পরিবারের লোকজন ও মিলনের বন্ধুসহ নিকট আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ করে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন তিনি। 

তিনি আরও জানান, রোববার (১৫ মে) সন্ধ্যায় এক নিকট আত্মীয় লালপুর থানাধীন ঘাটচিলান গ্রামে রাস্তার পাশে একজোড়া স্যান্ডেল ও রাবারের ফিতা পড়ে থাকতে দেখে মিলনের বাবাকে সংবাদ দেয়। খবর পেয়ে মিলনের বাবাসহ নিকট আত্মীয়রা উক্ত স্থানে হাজির হয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে একটি আখ ক্ষেতের মাঝামাঝি মুখে মাটি ভরা অবস্থায় মিলনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। 

পরে লালপুর থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং ওই রাতেই লালপুর থানায় অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও দায়ের করেন বলে জানান তিনি।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, ঘটনা জানার পরপরই পুলিশের ছয়টি টিমের নিরলস পরিশ্রমে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার সাথে জড়িত আসামী সজিব হোসেনকে (১৯) কে সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে অপর আসামীদের সাথে মিলে মিলনের ইজিবাইকটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তারা হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। 

পুলিশ সুপার জানান, সোমবার (১৬ মে) সজিবকে আদালতে তোলা হলে সে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন তিনি। পরবর্তীতে সজিবের দেয়া তথ্যানুযায়ী রাতেই অভিযান চালিয়ে রবিউল ইসলাম ও মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রবিউল এবং মেহেদীর দেয়া তথ্যের সূত্র ধরে সেই রাতেই আসামী সাগর আলীর হেফাজত হতে তার নিজ বাড়ি থেকে ছিনতাইকৃত ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয় এবং সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয় বলেও জানান তিনি। 


একাত্তর/জো 

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

৪ দিন ১৫ ঘন্টা আগে