ঢাকা ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯

বঙ্গবন্ধু পরিবার ও ভিআইপিদের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণা

নাদিয়া শারমিন, একাত্তর
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২২ ২০:০১:৩৯ আপডেট: ১৮ মে ২০২২ ২০:২৮:২৮
বঙ্গবন্ধু পরিবার ও ভিআইপিদের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণা

বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি চক্রের দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে এনএসআই ও র‌্যাব। 

দেশে-বিদেশে চক্রটির পাঁচ থেকে সাত জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। তারা প্রভাবশালীদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার ভুয়া ছবি দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

নতুন সীম কিনে সেটির মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর তারা সেভ করতো বঙ্গবন্ধু পরিবারসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে। 

পরে সেসব নম্বরে নিজেরাই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি সেজে চ্যাট করে প্রমাণ করার চেষ্টা করতো যে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। 

এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে ফটোশপে নিজেদের ছবি বসাতো। এসব ছবি আর ভূয়া চ্যাটের স্ক্রিন শট দেখিয়ে ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিতো প্রতারকরা। 

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে সেই প্রতারক চক্রের হোতা মনসুর আহমেদ ও মহসিন চৌধুরীকে (৫৫) গ্রেপ্তার করে এনএসআই ও র‌্যাব।

পরদিন বুধবার সকালে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন রাজধানীর কাওরান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দু'জন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এই চক্রে পাঁচ থেকে সাত জন সদস্য রয়েছে। চক্রের মূলহোতা মুনসুর। 

চক্রটি বিগত প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেয়ার নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রতারিত করে আসছে। তারা প্রতারণার জন্য নতুন কৌশল ব্যবহার করত।

র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, এই চক্রের একজন সদস্য তথাকথিত সাইফুল বর্তমানে আরব আমিরাতে রয়েছে। যে নিজেকে আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি পরিচয় দিত।

সেখানে বসে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিত বলে আটক দুই জন জানিয়ছে। 

নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য তারা বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে তাদের ছবি ঐ সব আগ্রহী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেখাত।

র‌্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা নিজেদের কোম্পানিকে প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য হিসেবে উপস্থাপন করার লক্ষে হাজার হাজার কেটি টাকার ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাত। 

তারা কোনো অফিসে মিটিংয়ের সময় বেশভূষা পরিবর্তন করে দামি গাড়ি ও বডিগার্ড নিয়ে হাজির হতো। নিজেদেরকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে বিদেশ ভ্রমণের ছবি দেখাতো।

তারা সরকারি কোনো চলমান প্রকল্পের কাজ পাওয়ার যোগ্য এমন সব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে খুঁজে বের করত এবং তাদেরকে কমিশনের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখাত। 

তারা নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণের জন্য তাদের আগে থেকে নির্ধারিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাথে তাদের ভাড়া করা অফিসে মিটিং করত। 

নিজেরা ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের অফিসে যেত। সেখানে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে বলে মিথ্যা রেফারেন্স ব্যবহার করত।

এভাবে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা কার্যক্রম চালিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রটি বর্তমানে তিতাস নদী ড্রেজিং, আড়িয়াল খাঁ নদী ড্রেজিং ও নদীর তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্প, ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি করপোরেশনের ড্রেনের সংস্কার কাজ, রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি অফিস কনস্ট্রাকশনের কাজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কনস্ট্রাকশনের কাজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতারণার পরিকল্পনা করেছিল।


একাত্তর/এআর

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন