ঢাকা ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে আত্মঘাতী: এফবিসিসিআই

জাহেদুল ইসলাম, একাত্তর
প্রকাশ: ২১ মে ২০২২ ২২:২০:৫৩ আপডেট: ২১ মে ২০২২ ২৩:০৫:২৪
গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে আত্মঘাতী: এফবিসিসিআই

করোনা মহামারীর ধকল কাটিয়ে উঠে মানুষ যখন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে ঠিক তখনই এক সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগকে আত্মঘাতী হিসাবে উল্লেখ করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। তারা মনে করছে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম যুগপৎ বাড়ানো হলে পণ্যের উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ বাড়বে। যা মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাবে। রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও হারাবে বাংলাদেশ। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এমন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে এফবিসিসিআই। 

শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎের দাম বাড়বে কি না, এ সিদ্ধান্ত আসতে হবে রাজনৈতিকভাবে; আমলাদের থেকে নয়। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে মূল প্রবন্ধ তুলে ধরে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, করোনার পর যখন অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে তখনই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। আছে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা। এমন অবস্থায় গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি হবে অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী।

তিনি বলেন, এই সময়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে এখন সরকারের উচিত হবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের আমূল সংস্কার আনা। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা। বিদ্যুতের অতিরিক্ত উৎপাদন বন্ধ করে অহেতুক খরচ কমিয়ে আনা। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া। 

ব্যবসায়ীদের নেতা বলেন, কুইক রেন্টালের একসময় প্রয়োজন ছিল। এখন আর তার প্রয়োজনীয়তা নেই। অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ করা উচিত। গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। সরকার সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। 

তিনি বলেন, আমরা যদি ১৩ টাকা গ্যাসকে ২৮ টাকা করে দেই, তাহলে গ্যাস হয়তো থাকবে। তবে ইন্ডাস্ট্রি থাকবে না। দাম বাড়ালে উৎপাদন খরচও বাড়ানো হবে, এতে আমরা দুর্বল পরিস্থিতির শিকার হব। আমাদের ব্যবসায়ের ব্যয় ও উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি জানান, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যবসায়ীরা যে হারে ভর্তুকি দিচ্ছে সেটা সমন্বয় করা গেলে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হয় না। তিনি অভিযোগ করে বলেন দাম বাড়ানো হলে উন্নয়ন বন্ধ হয়ে সরকার বেকায়দায় পড়তে পারে।

গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বহুমুখী নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার উদ্ভব হবে জানিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, এর প্রভাবে কৃষি, শিল্প, সেবা এবং সার্বিকভাবে জনগণের জীবন-জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা দেখা দেবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের চলমান ধারা মারাত্মক বাধার মুখোমুখি হবে। 


বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিয়ের সভাপতি আনোয়ার উল আলম বলেন, দেশে এখন ডলার সঙ্কট চলছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। এখন যদি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়, উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে ভোক্তার ওপর।

আরও পড়ুন: মেট্রোরেলের সমন্বিত চলাচলের পরীক্ষা শুরু আগস্টে

ব্যবসায়ীরা জানান, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এমন সময় গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ালে পণ্যের দাম আরও বাড়বে। জ্বালানি খাতের পরিচালনা দক্ষতা, ন্যূনতম ব্যয় এবং বিতরণে আন্তর্জাতিক মান ও কৌশল অনুসরণ করা হয়নি। 

তারা আরও জানান, করোনা ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, শিপিং ও পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে জাতীয় অর্থনীতিতে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পোশাক শিল্পের কঠিন হয়ে পড়বে। ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে এফবিসিসিআইয়ের কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন এফবিসিসিআই সভাপতি। এসবের মধ্যে আছে বার্ক আইনের উদ্দেশ্য পূরণ কল্পে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা আমূল সংস্কার করা। 

অনিয়ম, অপচয়, অবৈধ সংযোগসহ যাবতীয় অপব্যবস্থা জরুরি নিরসন করা। অদক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ করা। অহেতুক খরচ কমিয়ে আনা। বিদ্যুৎ ক্যাপাসিটি চার্জ বাতিল করে অলস উৎপাদনকারীকে অর্থ পরিশোধ বন্ধ করা। 

ভর্তুকি পাওয়া জ্বালানি খাতের ওপর শুল্ক মূসক প্রত্যাহার করা। গ্যাসের মূল্য সব খাতের জন্য সাধারণ হারে নির্ধারণ করা। সরবরাহ মূল্য বিদ্যমান হারে বজায় রেখে বাড়তি ব্যয় সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে সমন্বয় করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান ও আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, সাবেক সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন, এমসিসিআইর সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ব্যারিস্টার নিহাদ কবির, বিএসএমএর সভাপতি মনোয়ার হোসেন, বিসিএমএর সভাপতি আলমগীর কবিরসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

৪ দিন ২৩ ঘন্টা আগে