ঢাকা ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

সুনামগঞ্জে বন্যা দুর্গত এলাকায় বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ

শামস শামীম, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ২১ মে ২০২২ ২৩:১৫:৩৫
সুনামগঞ্জে বন্যা দুর্গত এলাকায় বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ

বৃষ্টি আর উজানের ঢলে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির এখনও উন্নতি হয়নি। পানিবন্দি হয়ে আছেন পাঁচ উপজেলার মানুষ। শুধু পৌর শহরেই পানিবন্দি আছেন ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

চলমান বন্যায় দুর্গত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটও বাড়ছে। সময় বাড়ার সাথে সাথে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি গত দুদিন ধরে কমতে থাকলেও নতুন করে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে সুনামগঞ্জের পুরাতন সুরমা ও নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদী।

শনিবার সকাল ৯টায় সুরমা নদী সিলেটের কানাইঘাট পয়েন্টে গতকালের চেয়ে ১৩ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

একই সময়ে সুরমা নদী সিলেট নগরী পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপরে এবং সুনামগঞ্জ সদরে বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শনিবার সকাল ৯টায় পুরাতন সুরমা দিরাই পয়েন্টে বিপৎসীমার আট সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমেশ্বরী কলমাকান্দায় বিপৎসীমার চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী পাঁচ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি বেড়েছে শান্তিগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা ও জগন্নাথপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলে। জগন্নাথপুর এলাকার চিলাউড়া-হলদিপুর, রানীগঞ্জ ও পাইলগাঁও এই তিনটি ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক ডুবে গেছে।

চারদিন ধরে পানি সরছে না সুনামগঞ্জ পৌরশহরের কালিপুর ওয়েজখালি, বড়পাড়া, হাজীপাড়া, তেঘরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার। পানিবন্দি হয়ে মানবেতর দিন কাটছে ৬০ হাজারেও বেশি মানুষ।

শহরের স্বচ্ছল পরিবারগুলো নিজের বাড়িতে থাকলেও হতদরিদ্ররা আশ্রয় নিয়েছেন আশ্রয় কেন্দ্রে। এ অবস্থায় খাবার, পানি ও স্যানিটেশন সমস্যায় পড়েছেন বন্যাকবলিতরা।

অনেকেই গৃহপালিত পশু পাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। নষ্ট হয়েছে বীজতলা। কোথাও কোথাও পাকা ধানক্ষেতও তলিয়ে গেছে।

সদর উপজেলার বন্যা কবলিত আবাসিক এলাকার পৌর নাগরিকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এই এলাকাগুলোর সড়ক প্লাবিত হওয়ায় চলাচলও বিঘ্নিত হচ্ছে।

সদর উপজেলা ছাড়াও বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও দোয়ারাবাজার এলাকায় পানিবন্দি হয়ে আছেন মানুষ। অনেক এলাকায় সড়ক ডুবে থাকায় এবং ছাতক ও দোয়ারাবাজারে সেতু ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। ১৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন বন্যাদুর্গতরা।

জেলা শহরের সুনামগঞ্জ বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, ছাতক উপজেলার কৈতক ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ও তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলায় পানি ওঠায় রোগী ও চিকিৎসকগণ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।

আরও পড়ুন: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলেই গ্রেফতার নয়: আইনমন্ত্রী

জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, আশ্রয় কেন্দ্রে আসা মানুষদের ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। বন্যাকবলিতদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি বাড়ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে পদ্মা নদীর পানিও বাড়ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।


একাত্তর/আরবিএস 

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

৪ দিন ১৬ ঘন্টা আগে