ঢাকা ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

নির্বাচন কমিশনকে মানে না বিএনপি, সংলাপেও যাবে না

শফিক আহমেদ, একাত্তর
প্রকাশ: ২২ মে ২০২২ ১৮:৫৫:০০ আপডেট: ২২ মে ২০২২ ২১:৫৮:৩৪
নির্বাচন কমিশনকে মানে না বিএনপি, সংলাপেও যাবে না

বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে মানে না বিএনপি। তাই নির্বাচন কমিশনের ডাকা সংলাপে না যাবার সিদ্ধান্তও নিয়েছে দলটি। বিএনপি নেতাদের দাবি, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দরকার বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর। 

সেই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গঠিত হবে নতুন নির্বাচন কমিশন। আর, সম্ভাব্য সেই নতুন কমিশনের সঙ্গেই জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংলাপে বসবে বিএনপি। বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির নেতারা দলটির এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান। 

শুক্রবার ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্বোধন করতে গিয়ে সাভারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, শিগগিরই সব রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ আয়োজন করবে কমিশন। আর সেই সংলাপে বিএনপিকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে।  


নির্বাচন কমিশনের এই বক্তব্যে সেদিন তাৎক্ষনিকভাবেই ‘না’ বলেছিলো বিএনপি। রোববার এক অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও জানান, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্যই এই কমিশন। তাই তাদের মানে না বিএনপি। 

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বিএনপি আয়োজিত গণমাধ্যম সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে বসার প্রশ্নই ওঠে না। এই কমিশনকে দুই পয়সারও দাম দেয় না বিএনপি। 

বিএনপি স্থায়ী কমিটি এই সদস্য বলেন, সরকার যখন রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে নাটক করে নির্বাচন কমিশন করে, ওই নাটকে বিএনপি অংশগ্রহণ করে নাই। আমরা জানি না এই নির্বাচন কমিশনে কারা। তাদেরকে কোনো রকমের রিকগনাইজ করি না।


আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে না পারলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বিএনপি বারবার বলে আসছে, দাবি একটাই, সেটা হলো বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকার গঠন।

আর সেই সরকারের অধীনে গঠিত নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনে হলে তাদের সঙ্গে বিএনপি ভোট নিয়ে আলোচনায় বসতে পারে বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। 

দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকে গোটা জাতি বিপন্ন ও বিপদগ্রস্ত। জাতি বা রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে একটা ইস্পাত দৃঢ় ঐক্য জনগণের মধ্যে সৃষ্টি করতে হবে। তা না পারলে এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ নেই।

ক্ষমতার পরিবর্তনে আশাবাদ ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ কখনো পরাজিত হয়নি। আমরা সব সময় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছি, করে যাচ্ছি। সরকারে যখন ছিলাম তখনো করেছি, সরকারে নেই এখনো করছি। 

আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের বিজয় অবশ্যই অর্জিত হবে। নিজেকে রক্ষার জন্য, মানুষকে রক্ষার জন্য, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে জেগে উঠতে হবে। পরাজিত করতে হবে বর্তমান ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী শক্তিকে।

আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ সব ধরনের নিবর্তনমূলক আইন ও অধ্যাদেশ বাতিল করবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার গঠন করলে মুক্ত গণমাধ্যমের অন্তরায় ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট’সহ সব ধরনের নিবর্তনমূলক আইন ও অধ্যাদেশ বাতিল করবো। গণমাধ্যমে প্রকাশিত যে কোনো বিষয় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা সংস্থা প্রেস কাউন্সিলে ফয়সালা না করে কোনোভাবেই যেন আদালতে মামলা দায়ের করতে না পারেন সেটা নিশ্চিত করা হবে।

ক্ষমতায় এলে সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড সব গণমাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন বিএনপি মহাসচিব।

আরও পড়ুন: হাজী সেলিমের আত্মসমপর্ণ, যেতে হচ্ছে কারাগারেই

মির্জা ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি এম আবদুল্লাহ, সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, দিনকালের সম্পাদক ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার, এমএ আজিজ, নুরুল আমিন রোকন, এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, কামাল উদ্দিন সবুজ, বাকের হোসাইন, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সরদার ফরিদ আহমদ, কাদের গনি চৌধুরী, ইলিয়াস খান, শহীদুল ইসলাম, ইলিয়াস হোসেন, রফিকুল ইসলাম আজাদ, মুরসালিন নোমানী, শফিক আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

৪ দিন ২৩ ঘন্টা আগে