ঢাকা ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

উপাদানের দাম বাড়ায় অস্তিত্বের চ্যালেঞ্জে বেকারি শিল্প

অনুপ অধিকারী তরুণ, একাত্তর
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২২ ১৪:১৭:০৫
উপাদানের দাম বাড়ায় অস্তিত্বের চ্যালেঞ্জে বেকারি শিল্প

আটা-ময়দা-তেল-মশলার পর বাদামেরও দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে বেকারি শিল্প। পণ্যের দাম বাড়ায় কমে গেছে বিক্রি। ব্যবসায়ীরা কেউ কেউ দাম বাড়িয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। 

কেউ বা দাম ঠিক রেখে পরিমাণ কমিয়ে সমন্বয় করার চেষ্টা করছেন। তার ওপর গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে, ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে বলে শঙ্কায় বেকারির মালিকরা। 

জীবন আর ভাগ্যের চাকা যেন এখন উল্টো ঘুরছে বেকারি শিল্পে। আটা ময়দা তেল বাদাম আর মশলার মতো বেকারি শিল্পে ব্যবহৃত প্রায় সব পণ্যে দামই দফায় দফায় বেড়েছে। 

বেকারি পণ্যের সবচেয়ে বড় উপাদান আদা-ময়দার দাম বাড়ছে। সেই সঙ্গে পামতেল ও ডালডার দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর, এতে বেকারি শিল্পের টিকে থাকাটাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


গত ৯ মাসে ময়দার দাম বস্তাপ্রতি এক হাজার ৮০০ টাকা থেকে তিন হাজার ২০০ টাকা হয়েছে। পামওয়েল তেলের দাম মণ প্রতি চার হাজার ২৫০ টাকা থেকে ছয় হাজার ৮৩০ টাকা হয়েছে। 

ডালডার দাম কার্টুন প্রতি এক হাজার ৯২৫ টাকা থেকে দুই হাজার ৯৪৫ টাকা হয়েছে। এভাবে প্রতিটি পণ্যে দাম বেড়েই চলছে।

গেলো দুই বছরের করোনার ধাক্কা সামলে এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যখন ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছিলেন তখনই তাদের সব রকম কাঁচামালের দাম বাড়ছে দফায় দফায়। 

এতে, তাদের উৎপাদন যেমন কমেছে তেমনি আয়ও কমে গেছে। তারা বলছেন ভালো মানের পণ্য তৈরি হলে ভালো উপাদান প্রয়োজন। কিন্তু বাজার পরিস্থিতি সেটি সম্ভব হচ্ছে না। 


আদা-ময়দা ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ায় বেকারি পণ্য তৈরিতে খরচ বেড়ে গেছে অনেক। দাম বাড়িয়েও সেটা সমন্বয় করা যাচ্ছে না। আবার দাম বাড়ালে বিক্রিও কমে যায়। 

তবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বেকারি পণ্যে দাম বাড়াচ্ছেন কেউ কেউ। আবার অনেকে দাম ঠিক রেখে কমিয়েছেন পণ্যে ওজন বা আকার। এছাড়া অন্য কোন উপায় দেখছেন না তারা। 

ক্রেতা ধরে রাখতে দাম-আঁকার দুই-ই ধরে রেখেছেন কোন কোন বেকারি মালিক। তবে শঙ্কায় আছেন এভাবে কতোদিন ব্যবসা করতে পারবেন; নাকি গুটিয়ে নিবেন। 


এক ব্যবসায়ী জানান, দাম বাড়ানো কারণে তাদের ক্রেতা সংখ্যাও প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ব্যবসা ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

আরও পড়ুন: মগবাজার মোড়ে গ্যাস লিকেজ বন্ধ করেছে তিতাস

বেকারি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন এমনিতেই কাঁচামালের দাম বাড়ায় তারা বিপাকে। তার ওপর কারখানার উনুন জ্বালানোর গ্যাস বা বিদ্যুতের দামও যদি বাড়ে তাহলে বন্ধ হবে বহু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ব্যবসা। কাজ হারাবে এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করা বহু শ্রমিক। 


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

৪ দিন ১৬ ঘন্টা আগে