ঢাকা ১৬ মে ২০২১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

পাথর ছুড়ে মামুনুলের মৃত্যুদণ্ডের দাবি ৫ শতাধিক শীর্ষ আলেমের

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২১ ১৭:৫৭:৪৮ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২১ ১৪:৫৪:০২
পাথর ছুড়ে মামুনুলের মৃত্যুদণ্ডের দাবি ৫ শতাধিক শীর্ষ আলেমের

হারাম ও ইসলামের দৃষ্টিতে শাস্তিমূলক অপরাধ করায় হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হককে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ৫৫১ জন শীর্ষস্থানীয় আলেম। 

একইসঙ্গে হেফাজতে ইসলামকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্তদের যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়ে শনিবার গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠান এই আলেমগণ। 

বিবৃতিতে তারা বলেন, ইসলামে নারী-পুরুষে বন্ধনের বৈধ পন্থা হল বিয়ে। আল্লাহ বিয়েকে হালাল করেছেন, বিপরীতে জেনা-ব্যভিচারসহ বিবাহ বহির্ভূত সব অবৈধ মেলামেশাকে নিষিদ্ধ করেছেন। নিকাহের বিপরীতে চুক্তিভিত্তিক সাময়িক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা সম্পূর্ণ হারাম ও ইসলামের দৃষ্টিতে তা শান্তিমূলক অপরাধ। 

আলেমরা বলেন, বর্তমানে ইসলাম রক্ষার কথা বলে হেফাজতের কিছু চিহ্নিত দায়িত্বশীল নেতা হাজার বছর ধরে প্রচলিত ইসলামের মৌলিক বিধানের ওপর হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে। হেফাজতের তথাকথিত দায়িত্বশীল নেতা মূলত নিজের কৃত জঘন্য অপরাধ ঢাকতেই ইসলামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কখনো মানবিক বিয়ে বা কখনো চুক্তিভিত্তিক বিয়ের কথা বলে নিজেকে রক্ষা করতে চাইলেও সবকিছু বিবেচনা ও পর্যবেক্ষণ করে শরীয়া মতে ফয়সালা হলো, ইসলামে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে হারাম। সুতরাং যে বা যারা এ ধরণের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে; তাদের পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে ইসলামে ফয়সালা দেওয়া হয়েছে। 

আহলে সুন্নাতের নেতারা আরো বলেন- এভাবে ইসলামের নামে সামাজিক অনাচারে যুক্ত হওয়াসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা, জানমালের ক্ষতিসাধন করাও ইসলাম সমর্থন করে না। এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা সংগঠনের কাছে দেশ কখনো নিরাপদ নয়।

২০১০ সালে হেফাজতের সৃষ্টির পর হতেই তারা সহিংসতা ছড়িয়ে দিচ্ছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, হেফাজতের সঙ্গে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের দূরতম সম্পর্কও নেই। ইসলাম হেফাজতের নামে উগ্র হেফাজতিদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের উচ্চাভিলাস ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে গোটা আলেম সমাজ আজ লজ্জিত।

বিবৃতিতে আহলে সুন্নাতের নেতারা হেফাজতকে উগ্র জঙ্গি সংগঠন আখ্যায়িত করে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। 

আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস কাজী মুহাম্মদ মুঈনুদ্দীন আশরাফী ও মহাসচিব সৈয়দ মছিহুদ্দৌলাহ স্বাক্ষরিত যুক্ত বিবৃতিতে আরও স্বাক্ষর করেন— অধ্যক্ষ মুফতি সৈয়দ অছিয়র রহমান, শাইখুল হাদিস সোলাইমান আনসারী, অধ্যক্ষ মুফতি আব্দুল বারী জিহাদি, এম এ মান্নান, অধ্যক্ষ নুরুল আলম হেজাজী, কাজী আব্দুল ওয়াজেদ, এম এ মতিন, অধ্যক্ষ মুফতি কাজী হারুনুর রশীদ, শাইখুল হাদিস আশরাফুজ্জমান কাদেরি, অধ্যক্ষ স উ ম আবদুস সামাদ, অধ্যক্ষ মুখতার আহমদ, শাইখুল হাদিস ড. আফজাল হোসাইন, অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম রেজভী, অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান, অধ্যক্ষ মুফতি আহমদ হোসাইন কাদেরী, উপাধ্যক্ষ মুফতি আবুল কাশেম ফজলুল হক, উপাধ্যক্ষ মুফতি ড. লিয়াকত আলী, ছাদেকুর রহমান হাশেমী, উপাধ্যক্ষ মুফতি জুলফিকার আলী চৌধুরি, অধ্যক্ষ মুফতি আবু বকর ছিদ্দিকীসহ আহলে সুন্নাতের দায়িত্বশীল ৫৫১ জন আলেম।

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন