ঢাকা ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

‘মৃত্যুর পর মানুষ হিসেবে বাঁচতে চাই’

তানভীর আহমেদ
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২২ ২১:২৩:০৮ আপডেট: ২৫ মে ২০২২ ২১:২৩:৫২
‘মৃত্যুর পর মানুষ হিসেবে বাঁচতে চাই’

১৯ মে সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথম ফোনটি পেলাম যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মাহমুদ শরিফ ভাইয়ের কাছ থেকে। সুলতান ভাই কাঁপা কাঁপা কন্ঠে আমাকে দুঃসংবাদটা জানালেন। 

প্রিয়জনের মৃত্যু সংবাদ কাউকে জানানো বোধ করি কঠিন কাজগুলোর একটি, আর শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সুলতান ভাইয়ের জন্য এই কাজটি করা ছিলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সুলতান ভাই বললেন, ‘তানভীর, আমি খুব অসুস্থ্য, কিছুই করতে পারছি না। খবরটা আমি হাইকমিশনারকে জানিয়েছি আর এখন তোমাকে জানালাম। সবাইকে একটু জানানোর ব্যবস্থা করো।’ 

আমি তখন ইতালির রাজধানী রোমে। বিঅনটিভি রোম প্রতিনিধি জহুরুল হক রাজু হোটেলে বসে আছে। ভ্যাটিকান সিটিতে মিউজিয়াম দেখতে যাওয়ার কথা ছিলো আমাদের। রাজুকে বললাম, সব অনুষ্ঠান বাদ দিতে হবে, গাফফার ভাই আজ সকালেই আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। হোটেলে বসেই কিংবদন্তী লেখক ও সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরীর মৃত্যু সংবাদ দিয়ে প্রথম ব্রেকিং নিউজটা পাঠালাম একাত্তর টেলিভিশনের জন্য। 

আরও পড়ুন: ধর্ম, আইন ও মানববোধে বহুবিবাহ

ফেসবুক স্ট্যাটাস পোস্ট করতেই মুহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেলো সংবাদটি। ঢাকা থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের একের পর এক কল আসতে থাকলো, কারো কল ধরতে পেরেছি, কারোটা পারিনি। কথা হলো, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, গাফফার ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহচর, মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল আলীর সাথে। 

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ ফারুক ভাই ততক্ষণে বার্নেট হাসপাতালের পথে রওয়ানা হয়েছেন; আমাকে জানালেন, ‘আজ মরদেহ পাওয়া যাবে না, তবে আগামীকাল শুক্রবার ব্রিকলেইন মসজিদে নামাজে জানাজার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’ 

একাত্তরের বার্তা বিভাগ থেকে শাকিল আহমেদ ভাই ও সুজন কবির ভাই, ফারজানা রুপা আপা কল করে চিন্তিত হয়ে পড়লেন, ‘গাফফার ভাইয়ের মৃত্যুর সময় আপনি ইতালি, কিভাবে নিউজ করবো আমরা?’ আমি শাকিল ভাইকে বললাম, ‘আমি যেখানেই থাকি সংবাদে পিছিয়ে থাকবে না একাত্তর’। 

যুক্তরাজ্যে চ্যানেল এস টেলিভিশনের আমার সহকর্মী মেহেদী ভাই ও মৃধা ভাইকে অনুরোধ করলাম তারা যেন সংবাদ সংগ্রহের জন্য হাসপাতালে চলে যান। হাসপাতাল থেকে সারোয়ার আর মৃধা ভাইয়ের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও দিয়ে ইতালির রোমে বসেই প্রতি ঘন্টায় ঢাকায় নিউজ পাঠাতে থাকলাম। 

হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম ছুটে গেছেন বার্নেট হাসপাতালে। মিনিস্টার প্রেস আশেকুন্নবী চৌধুরী ভাই ব্রিকলেইন মসজিদে নামাজে জানাজা ও আলতাব আলী পার্কে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর প্রস্তুতির তথ্য সহ হাই কমিশনার সাঈদা মুনার একটি ভিডিও বার্তা পাঠালেন, সেই তথ্য দিয়ে নিউজ পাঠালাম একাত্তর টিভিতে। 

ঢাকায় কল করে সুজন ভাইকে নিশ্চিত করলাম রাতের ফ্লাইটে লন্ডন ফিরেই দুপুরে জানাজার নামাজ ধরতে পারবো। লন্ডনের ফিরতি ফ্লাইট ধরে বাড়ি ফিরতে বেজে গেলো ভোর চারটা। সকাল থেকেই অঝোর বৃষ্টি, বৃষ্টি মাথায় নিয়েই এক হাতে ছাতা আরেক হাতে মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে আলতাব আলী পার্কে গিয়ে প্রথম লাইভ করলাম গাফফার ভাইয়ের শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের প্রস্তুতি নিয়ে। সকালের টানা বৃষ্টি দেখে মন খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। 

সৃষ্টিকর্তাও আসলে বোঝেন কখন বৃষ্টি থামাতে হবে, জুম্মার নামাজের সময় ঘনিয়ে আসতেই আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনার আলোকিত করে উঁকি দিলো ঝকঝকে রোদ। দুপুরে ব্রিকলেইন মসজিদ থেকে গাফফার ভাইয়ের জানাজার নামাজের প্রথম লাইভটিও প্রচার করে একাত্তর টেলিভিশন।

গণমাধ্যমকে দেওয়া গাফফার ভাইয়ের শেষ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারটিও নেয়ার সৌভাগ্য হয়েছিলো আমার। চলতি বছর ফেব্রুয়ারীতে একাত্তর টিভির জুলহাজ নূর ভাই বলছিলেন, ‘একুশের গানের ৭০ বছর পূর্তি হচ্ছে দেখেন গাফফার ভাইয়ের যদি একটা সাক্ষাৎকার নেয়া যায়’। 

গাফফার ভাইয়ের কিডনি দুটো এতটাই অকেজো হয়ে গিয়েছিলো যে ডায়ালিসিস করা সম্ভব হচ্ছিলো না, ডাক্তাররা ছয় মাসের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে আবার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন গাফফার ভাই, তাই হাসপাতাল আর বাসায় আসা যাওয়া করছিলেন। 

টেলিফোনে পাওয়া দূরুহ হয়ে যাচ্ছিলো। কথা ছিলো যদি সুযোগ হয় সংবাদের জন্য একটা সাক্ষাৎকার নেবো, কিন্তু আমি জানতাম এটিই হয়তো আমার শেষ সাক্ষাৎকার। তাই সংবাদের একটু গভীরে গিয়ে ১৬ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলাম একুশের গান রচনার প্রেক্ষাপট নিয়ে যার অংশ বিশেষ ‘৭০ বছরে একুশের গান শিরোনামে’ প্রচারিত হয়েছিলো একাত্তর টেলিভিশনে।  

গাফফার ভাই শুরু করেছিলেন রবীন্দ্রনাথের উদ্ধৃতি দিয়ে। ‘লেখকের চাইতে যদি লেখার দাম বেশি হয়ে উঠে তাহলে বুঝতে হবে লেখকের মেধা অথবা প্রতিভা ওই লেখার মধ্যে বিকশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আগ পর্যন্ত গীতাঞ্জলির কবি হিসেবে পরিচিত ছিলেন, নোবেল পাওয়ার পরে তিনি হয়ে উঠলেন বিশ্বকবি। আমার একটি মাত্র পরিচয় আছে এখন- একুশের গানের রচয়িতা। আমি যে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর সাংবাদিকতা করেছি, গল্প লিখেছি, উপন্যাস লিখেছি, নাটক লিখেছি তা সব তলিয়ে গেছে। যেখানেই যাই আমার পরিচয় দেয়া হয় একুশের গানের রচয়িতা। গানটি আমি গান হিসেবে লিখি নাই, কবিতা হিসেবে লিখেছিলাম ৫২'র গুলি বর্ষনের পর। শহীদ রফিকের মরদেহ দেখার পর’।

গাফফার ভাইয়ের মেয়ে বিনীতা চৌধুরী টেলিফোনটি গাফফার ভাইয়ের মুখের সামনে ধরে আছেন, বিছানায় শুয়ে ঘাড়ের নিচে একটা বালিশ দিয়ে মাথা উঁচু করে গাফফার ভাই বলে যাচ্ছেন, আমি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম। প্রচন্ড জীবনীশক্তি না থাকলে এমন শরীর নিয়ে কেউ টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দেয়!

 

একজন তরুণ সাংবাদিক হিসেবে আমি অনেক সৌভাগ্যবান যে আমি একজন ভাষা সৈনিকের মুখে শুনেছি ৫২'র ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, যিনি নিজে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। ঢাকা কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় ভাষা আন্দোলনের মিছিলের পেছনের দিকে ছিলেন। 

আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, ভাষা শহীদদের যখন গুলি ছোঁড়া হয়েছিলো সেই গুলির শব্দ তিনি শুনেছিলেন কিন্তু কাউকে নিহত হতে দেখেন নি। পরে জানতে পারেন মেডিক্যাল কলেজের আউটডোরের ফ্লোরে একজনের মৃতদেহ পড়ে আছে। 

অধ্যাপক রকিকুল ইসলাম ও যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান সহ কয়েকজন বন্ধু মিলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের আউটডোরে গিয়ে একটি খুলি উড়ে যাওয়া লাশ দেখে এই কবিতাটি লিখেন। মৃতদেহের ছবিটি তুলেছিলেন রফিক সাহেব। 

সেখান থেকে ফিরে এসে একটি কবিতা লিখেন আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি। তখন আবদুল্লাহ আল মুতি শরফুদ্দীন একজন এ্যাকটিভিস্ট ছিলেন পরে অধ্যাপক হয়েছিলেন। 

তিনি এই কবিতাটি নেন। পরে সুর শিল্পী আবদুল লতিফের হাতে গেলে কবিতায় তিনি সুর দেন, এটি ৫২ সালের কথা। ৫৩ সালে আমার বন্ধু শহীদ আলতাফ মাহমুদ এই গানে আবার সুর দেন, তাঁর সুরেই গানটি বিখ্যাত হয়ে উঠে। ১৯৫৪ সালের পর থেকে গানটি প্রভাতফেরীর গান হয়। 

সাক্ষাতকারটি নেয়ার দু'মাস পর গাফফার ভাইয়ের মেয়ে বিনীতা চৌধুরী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। গাফফার ভাই আসলে এই ধকলটা আর শেষ পর্যন্ত সহ্য করতে পারেন নি, মেয়ের মৃত্যুর চার সপ্তাহ পর গাফফার ভাইও চলে গেলেন।

লন্ডনে আসার পর গত দেড় যুগে অগণিত, অসংখ্যবার গাফফার ভাইয়ের সাথে দেখা হয়েছে, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের জন্য বহু সাক্ষাৎকার গ্রহণের সৌভাগ্য হয়েছিলো আমার। 

'৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার সংগ্রামী জীবনের উপর ভিত্তি করে নির্মিত তথ্যচিত্র' দ্বিতীয় যুদ্ধের শুরু'তে গাফফার চৌধুরী বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের তদন্ত করতে ব্রিটেন থেকে স্যার উইলিয়াম কিউসি বাংলাদেশে যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু সেই সময়ে জিয়াউর রহমান সরকার ব্রিটিশ এই আইনজীবীকে বাংলাদেশে যাওয়ার ভিসা দেয়নি। 

লন্ডনের এজওয়্যারের গ্ল্যানগোল রোডের নিজ বাড়িতে আপেল গাছের নিচে বসে গাফফার ভাই আমাকে এই সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন। ব্রিটেনের পাঁচটি শহীদ মিনারের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র 'ভাষা আমার অহংকার' এ গাফফার ভাই বলেছিলেন, 'বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক ভাষা করতে হলে বর্তমানে এর আঞ্চলিকতার দোষ থেকে মুক্ত করতে হবে। 

বাংলা ভাষাকে আধুনিক প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, মেডিসিন, চিকিৎসা ও সব রকম পেশার জন্য ব্যবহার যোগ্য করা দরকার। আমাদের বাংলা ভাষা অত্যন্ত উন্নত হয়েছে সাহিত্যের ভাষা হিসেবে, সাহিত্যের ভাষা হিসেবে আমরা নোবেল প্রাইজও পেয়েছি আর কোন কিছুতে নয়। 

এখন আমাদের খুঁজতে হয়, নোবেল পুরস্কার যদি দিতে হয় তাহলে কিসে দিবে?  'শান্তি'। ড. ইউনূসকে শান্তিতে নোবেল দেওয়া হয়েছে, এটা একটা বিমূর্ত ব্যাপার। বাংলা ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে না পারলে আমরা শিকড় হারাবো, জাতি অস্তিত্ব হারাবে। 

ভাষাকে সংরক্ষণ করাই বড়ো কথা নয়, ভাষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে। অনেক ভাষা আছে যেমন সংস্কৃত বা ল্যাটিন ভাষা এখন ধর্ম প্রচার বা ক্লাসিক্স পড়া ছাড়া আর কোন কাজে লাগে না। সাধারন মানুষের জন্য ক্লাসিক্সর ততটা প্রয়োজন হয় না। 

বাংলা ভাষা যেন এমন অবস্থায় না যায়- শুধু বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ বা শরৎচন্দ্র পড়ার জন্য বাংলা ভাষা শিখতে হবে। দৈনন্দিন চিঠি পত্র, ওষুধের প্রেসক্রিপশন লেখা বা বানিজ্যের ভাষা হিসেবে ব্যবহার যোগ্য করতে হবে। বাংলা ভাষাকে বড়ো ধরণের সংস্কারের জন্য বাংলা একাডেমী পন্ডিতদের নিয়ে গবেষণা করতে পারে, পথ বাতলাতে পারে।

ব্রিটেনে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক যে কয়েকটি প্রামাণ্যচিত্র আমি নির্মাণ করেছি সব কয়টিতে গাফফার ভাইয়ের সাক্ষাতকারের কারণে তথ্যচিত্রগুলো পূর্ণতা পেয়েছিলো। গাফফার ভাই যখন কথা বলতেন তখন দিন, তারিখ ও স্থান উল্লেখ করে বলতে পারতেন। 

অসম্ভব শার্প ছিলো তার স্মৃতি শক্তি, আড্ডায় আর গল্পে মাঝে মাঝে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্যও দিতেন। ২০১৮ সালের ঘটনা, সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে আপত্তিকর মন্তব্য করে ব্যরিস্টার মঈনুল হোসেন তখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। গাফফার ভাই এসেছেন ব্রিক লেইনে বঙ্গবন্ধুর সিক্রেট ডকুমেন্ট বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে। 

আরেকটি কমিটমেন্ট থাকার কারণে ওই অনুষ্ঠানে একটু দেরীতে গিয়েছিলাম আমি, অনুষ্ঠান ততক্ষণে প্রায় শেষ। গাফফার ভাই তখন চা খাচ্ছিলেন, চেয়ার টেনে সামনে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে রসিয়ে রসিয়ে গল্পের প্রসঙ্গ তুললাম। গাফফার ভাই বললেন, ‘'ইত্তেফাকে চাকরি করার সময় এই ব্যারিস্টার মঈনুলের কারণেই আমি চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম’। মইনুল আমার লেখা এডিটোরিয়াল বদলে দিয়েছিলো। 

বঙ্গবন্ধু হত্যার আগে ও পরে ডক্টর কামাল হোসেনের ভূমিকা নিয়েও বোমা ফাটানো তথ্য শেয়ার করেছিলেন গাফফার ভাই। চার জাতীয় নেতা হত্যাকান্ডে আভাস পাওয়ার পরও ড.কামালের নিরবতা নিয়ে একটি অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার এখনো রয়েছে আমার কাছে আছে, সময় করে একদিন লিখবো সেই গল্প।

এমন কিংবদন্তীর নিশ্চয় কিছু সমালোচনাও থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। দোষে-গুণে মিলেই মানুষ।

প্রখ্যাত লেখক হুমায়ুন আহমেদের মৃত্যুর পর একদল মানুষ হুমায়ুন আহমেদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে যতটা আগ্রহী ছিলেন তারচেয়ে বেশী কৌতুহলী ছিলেন হুমায়ুন-শাওন প্রেম, গুলতেকিনের সাথে বিচ্ছেদ আর শিলা আহমেদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে। 

পাঠক ভেদে মানুষের চাহিদার ভিন্নতা থাকে, আর ব্যক্তি যদি হন হুমায়ুন আহমেদ বা গাফফার চৌধুরীর মতো বরেণ্য কেউ, তাহলে তাদের সৃষ্টি ও সমালোচনা দু'টি বিষয় নিয়েই মানুষের আগ্রহ থাকবে এটি স্বাভাবিক। 

তবে গাফাফার চৌধুরীর সমালোচকরা চাইলেই তাদের লেজ লুকয়ি রাখতে পারবেন না, যারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে না তারাই মূলত গাফফার চৌধুরীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। 

তবে সমালোচকদের জন্য ব্যক্তি গাফফার ভাইয়ের নিজের মুল্যায়নটিই মনেহয় যথেষ্ট। সৈয়দ শামসুল হকের সাথে আলাপচারিতায় আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেছিলেন, ‘মৃত্যুর পর আমি একজন মানুষ হিসেবে বাঁচতে চাই। আমি একথাও বলবো না আমি একজন সৎ মানুষ ছিলাম বা অসৎ মানুষ ছিলাম। ফরাসী দার্শনিক আঁদ্রে জিতের সেই কথাটা আমি বিশ্বাস করি, আমি যা তার জন্য নিন্দিত হতে রাজি আছি; আমি যা নই তার জন্য প্রশংসিত হতে রাজি নই।


লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক এবং লন্ডন প্রতিনিধি, একাত্তর টেলিভিশন।

ইমেইল: [email protected]



একাত্তর/এআর

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন