ঢাকা ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

শিশুদের কল পেয়েও দেরি করেছে টেক্সাসের পুলিশ

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২২ ২২:৩৬:১৫
শিশুদের কল পেয়েও দেরি করেছে টেক্সাসের পুলিশ

আমেরিকার টেক্সাসে একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠার পাশাপাশি সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই ঘটনায় পুলিশের একের পর এক ভুল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করায় তোপের মুখে পড়েছে রাজ্যটির পুলিশ বিভাগ। 

তদন্ত বেরিয়ে এসেছে, স্কুলে বন্দুকবাজির সময় ক্লাসরুম থেকে কমপক্ষে ডজনখানেক নাইন ওয়ান ওয়ানে কল পাওয়ার পরও পুলিশের ২০ জন সদস্য স্কুলে হলওয়েতে অপেক্ষায় ছিলো এবং বন্দুকধারীতে থামাতে প্রায় এক ঘণ্টা পর ভেতরে প্রবেশ করে। 


হামলার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী সাহায্য চেয়ে বারবার ৯১১ নাম্বারে ফোন করেছিল। পুলিশ সেই ডাকে সাড়া দিলেও দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সে সময় উপস্থিত পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তা দরজার চাবির জন্য স্কুলের দারোয়ানের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কারণ তিনি ভেবেছিলেন যে হয়তো কোনো শিশু ঝুঁকির মধ্যে নেই অথবা কেউ আর জীবিত নেই।

শুক্রবার টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক কর্নেল স্টিভেন ম্যাকক্রো জানান, গেলো মঙ্গলবার ১৮ বছরের সালভেদর র‌্যামোস একটি সেমি অটোমেটিক এআর ফিফটিন রাইফেল নিয়ে স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করার পর চতুর্থ শ্রেণীর ক্লাসরুমের সঙ্গে লাগানো দুই টেলিফোন থেকে কমপক্ষে দুই শিশু নাইন ওয়ান ওয়ানে কল করেছিলো। 

তিনি আরও বলেন, কেউ একজন ৯১১ নাম্বারে কয়েকবার ফোন করে। সেই কলে কয়েকজন শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার কথা জানানোর পাশাপাশি আট থেকে ৯ জন জীবিত আছে বলে জানানো হয়। এক শিক্ষার্থী ১২:৪৭ মিনিটের দিকে ফোন করে দ্রুত পুলিশ পাঠাতে অনুরোধ করে।

এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, পুলিশ কর্মকর্তারা ১২:৫০ মিনিট পর্যন্তও শ্রেণিকক্ষে ঢোকেননি। পরে আমেরিকারর বিশেষায়িত সীমান্ত প্রহরা টীমের সদস্যরা একটি চাবি ব্যবহার করে শ্রেণিকক্ষের দরজা খোলে এবং ভেতরে ঢুকে রামোসকে হত্যা করে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ম্যাকক্রো জানান, ঘটনাস্থলে থাকা কমান্ডারদের শ্রেণিকক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা না করে বাইরে বিশেষ বাহিনীর জন্য অপেক্ষায় থাকা ‘ভুল সিদ্ধান্ত ছিল’। যদি শ্রেণিকক্ষে আগে প্রবেশ করলে প্রাণহানি এড়ানো যেতো আর সেটি করতে না পারার জন্য দুঃখপ্রকাশও করেন টেক্সাসের জননিরাপত্তা প্রধান।

তিনি নিশ্চিত করেন, রব এলিমেন্টারি স্কুলে পুলিশের যাওয়া এবং বন্দুকধারী যে শ্রেণিকক্ষে ছিল সেখানে আক্রমণ চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়ার মধ্যে ৪০ মিনিটের ব্যবধান ছিল। ঘটনাস্থলে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্কুলের দারোয়ান চাবি নিয়ে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ তারা ভেবেছিলেন, হয় তখন স্কুলের ভেতরে কেউই ঝুঁকিতে নেই, না হয় কেউই বেঁচে নেই। ওই মুহূর্তেও যে হামলা চলছিল, তা তারা বুঝতে পারেননি।  


গত মঙ্গলবার রব এলেমেন্টারি স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী র‌্যামোস গুলিতে স্কুলের ১৯ শিক্ষার্থী ও দুই শিক্ষক প্রাণ হারান। তিনি স্কুলটিতে যাবার আগে নিজেদের বাড়িতে দাদিকে গুলি করেন। এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময় সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও ভয়াবহ বন্দুকবাজির ঘটনা হিসাবে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের জন্য আমেরিকাজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। পাশাপাশি স্কুলের ভেতরে বন্দুকধারী থাকা অবস্থাতেই বাইরে থাকা আতঙ্কিত অভিভাবকদের হ্যান্ডকাফ পরিয়ে সামাল দেয়ার যে ভিডিও ফুটেজ দেখা গেছে, তাতে আরও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে দেশটি জনগণের কাছ থেকে।

নির্বিচার গুলিবর্ষণের ওই ঘটনায় টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি থেকে আসা সবশেষ বিস্তারিত দাপ্তরিক বিবরণের সঙ্গে বৃহস্পতিবার দেয়া পুলিশের ভাষ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। 


পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাড়িতে নিজের দাদিকে গুলি করে গাড়ি চালিয়ে হামলাকারী সালভাদর রামোস স্কুলের কাছে আসেন। যখন তিনি দৌড়ে স্কুলটির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন স্কুলভিত্তিক এক পুলিশ কর্মকর্তার মুখোমুখি হয়েছিলেন।

কিন্তু পরের দিন শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে জননিরাপত্তা বিভাগ জানায়, বন্দুকধারী সালভাদর গাড়ির কাছেই কোনো কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার পর, বিনা বাধায় স্কুল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। এর ১২ মিনিটের মাথায় হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। রামোস যখন স্কুলটিতে হাজির হন, তখন সেখানে কোনো সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন না।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

৪ দিন ২৩ ঘন্টা আগে