ঢাকা ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

মুকিতের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২২ ২৩:০০:৫৩
মুকিতের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন

গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতির ব্যক্তিগত সহকারী মুহিবুল হাসান মুকিত মুক্তিযোদ্ধাকে হুমকি দেয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা।

শনিবার (২৮ মে) গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে একাত্মতা প্রকাশ করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধারা বক্তরা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সন্তান মুকিতের পক্ষে বক্তব্য আদায়ে এক মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিলের হুমকি প্রদানের বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না।  

বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধা। এখন যেই ব্যক্তিকে নিয়ে কথা হচ্ছে, মুকিত, সে জামায়াত পরিবারের সন্তান। মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী শক্তি। এই বিষয়টি আমরা কোনদিন মেনে নিতে পারি নাই আর মেনে নিতে পারবোও না। আর এ কারণেই মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি আমরা।

তিনি বলেন, যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছে, তাদের ছেলে আওয়ামী লীগে এমন পদে বসছে, মুক্তিযোদ্ধাকে হুমকি দিচ্ছে, তা কোনভাবেই মেনে নেবো না। প্রয়োজনে আমরা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবো।

মুকিতকে আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি না মানা হলে আরো বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা কনক। 

তিনি বলেন, আমাদের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুকিত আমাদের দলে কিছ নয়, বরং জামায়াত পরিবারের সদস্য এবং স্বাধীনতা বিরোধী ঘরের ছেলে। এমন মানুষকে স্থায়ীভাবে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করতে হবে। 

এর আগে গাইবান্ধা পলাশবাড়ী উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান মুকিতের বাবার মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার প্রমাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে অপর এক মুক্তিযোদ্ধাকে ‌‘হুমকি ও ব্লাকমেইলের’ অভিযোগ উঠে।

অভিযোগ, ‘মুকিতের বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন’ -এমন বক্তব্য আদায় করার জন্য গাইবান্ধার গোবিন্দঞ্জ এলাকার নাসির উদ্দিন নামে এক মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট বাতিল ও ছিনিয়ে নেয়ার হুমকি দেওয়া হয়। 

নাসের উদ্দিন সরকার নামের এই মুক্তিযোদ্ধা গণমাধ্যমকে জানান, ‘আমাকে ব্লাকমেইল করে কথাগুলো বলিয়ে নিয়েছে। হাবিবুর রহমান (মুকিতের বাবা) মুক্তিযোদ্ধা নয়, আমি জানি। আমাকে দিয়ে জোর করে কথাগুলো বলিয়েছে। গাইবান্ধার দুইজন এমপির কথা বলে ভয় দেখানো হয়েছে।’

উল্লেখ্য মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে আমিনুল ইসলাম নামে গাইবান্ধা পলাশবাড়ীর স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি বরাবর এক অভিযোগপত্র প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে কেন্দ্রের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করে গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ তথ্যানুসারে সেই তদন্ত প্রতিবেদন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে প্রেরণ করেছেন।

জানা যায়, কেন্দ্রের কাছে প্রেরিত প্রতিবেদনে ২৮ জন সাক্ষীর কেউই 'মুকিতের পরিবার জামায়াত সংশ্লিষ্ট নয়' বলে মন্তব্য করেনি। বরং আধিকাংশ সাক্ষী মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন নতুন তথ্য প্রদান করেছেন। এমনকি মুকিতের বাড়িতে থাকা শিবিরের লজ বা মেস থেকে ২০১৩ সালে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় হামলা চালানোর অভিযোগও পাওয়া যায় সাক্ষীদের কাছ থেকে।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন