ঢাকা ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

নদী ভাঙনে বিপর্যস্ত ‘চালিতাবুনিয়া’, পদক্ষেপ নেয়ার দাবী

নিজস্ব সংবাদদাতা (রাঙ্গাবালী) পটুয়াখালী
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২২ ১১:৪৩:২৭ আপডেট: ২৯ মে ২০২২ ১৯:৩৯:২৯
নদী ভাঙনে বিপর্যস্ত ‘চালিতাবুনিয়া’, পদক্ষেপ নেয়ার দাবী

ভয়াল আগুনমুখা, ডিগ্রি ও রাবনাবাদ নদী ঘেঁষা ইউনিয়নের নাম ‘চালিতাবুনিয়া’। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা সদর থেকে নদীপথে প্রায় ২০ কি.মি দূরেই এর অবস্থান। প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার মানুষের বাস এখানে।   

কিন্তু বহুবার নদী ভাঙনের শিকার এখানকার মানুষজন। একদিকে নদীর ভাঙন, আরেকদিকে ভিটেবাড়ি হারিয়ে নি:স্ব হবার আশঙ্কা।  

স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, ২০১৩ সাল থেকে চালিতাবুনিয়ায় নদী ভাঙন শুরু হয়। এই দশ বছরে কয়েক শ’ বসত বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু ভাঙন ঠেকাতে কোন সমাধান দিতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। 

নদীর ভাঙনে নি:স্ব প্রায় এখানকার মানুষ। কেউ হারিয়েছে সম্বলের কৃষি জমি, কেউ হারিয়েছে একমাত্র বসতভিটাটুকুও। আবার অনেকেই সব ছেড়ে চলে গেছে অন্য এলাকায়। 

আর যেসব লোকজন সব কিছুকে উপেক্ষা করে টিকে আছে তারা বলছেন, তাদের ভরসা বেড়িবাঁধ। 

কিন্তু সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এবং এর আগের ঝড়ে ওইসব বাঁধের কোথাও ভেঙে যায়, কোথাও আবার হয় ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে অরক্ষিত হয়ে পড়েছিল চালিতাবুনিয়ার বেশ কয়েকটি গ্রাম। আর জোয়ারের পানি বাড়লে তলিয়ে যায় বাসাবাড়ি, ফসলি জমি। 

নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন বলছেন, তারা জোয়ারে ডোবেন আর ভাটায় ভাসেন। ভাঙনের কবলে পড়ে কেউ কেউ নিঃস্ব হয়েছেন। আবার কারও কারও প্রায় তিন থেকে চারবার  বাড়িঘর বদল করতে হয়েছে। তাই ভাঙন ঠেকাতে টেকসই পদক্ষেপের দাবী জানান তারা। 

এদিকে, চলতি বছরে প্রায় দুই কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিবির হাওলা, উত্তর-মধ্য চালিতাবুনিয়া, উত্তর চরলতা ও গরুভাঙা গ্রামের ৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। 

কিন্তু কাজের মান এবং পরিকল্পনা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন এলাকার লোকজন। বলছেন, ভাঙনের মুখে জিওব্যাগ কিংবা ব্লগ না দিয়েই অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ চলছে। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করছে নিম্নমানের। আর তাই তারা মনে করছেন, এমন উদ্যোগে শঙ্কা আরও বাড়বে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, এমন কিছু অভিযোগ পেয়েছেন তারা। শিগগরই ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কাজ হবে। 

তিনি আরও বলেন, গত বছর এবং এর আগের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত চালিতাবুনিয়ার কিছু ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা ছিল। সেখানে ৬ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের টেন্ডার করা হয়। সেই কাজ চলমান আছে। আগামী এক মাসের মধ্যে কাজগুলো ঠিকাদারদের হস্তান্তর করবে। 

একাত্তর/ এনএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন