ঢাকা ০৬ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

'সর্বোচ্চ গুরুত্ব' দিলে ১ মাসেই আসতে পারে মুনিয়ার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন: ডা. সোহেল মাহমুদ

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মে ২০২১ ১০:৫১:৪৯ আপডেট: ০১ মে ২০২১ ১২:৪৫:২৫

কলেজছাত্রী মোসারত জাহান মুনিয়ার ‘আত্মহত্যার’ ঘটনায় দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। পুলিশ প্রাথমিক সন্দেহের ভিত্তিতে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। বলা হচ্ছে ‘প্ররোচিত হয়েই আত্মহত্যা করেছেন’ কলেজছাত্রী মুনিয়া। এ পরিস্থিতিতে জানা গেল ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ দেওয়া হলে আগামী ২০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই আসতে পারে মুনিয়ার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। বিষয়টি একাত্তর জার্নালে উপস্থিত হয়ে নিশ্চিত করেছেন ডা. সোহেল মাহমুদ।

১ মে (শনিবার) ফারজানা রুপার সঞ্চালনায় একাত্তরের নিয়মিত আয়োজন একাত্তর জার্নাল অনুষ্ঠানে ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ দেওয়া হলে কতোদিনে এমন ঘটনার (মোসারত জাহান মুনিয়ার ‘আত্মহত্যা’) ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যেতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. সোহেল বলেন, পুলিশ মামলাটির বেশ কিছু বিষয়ে জানতে চেয়েছে। ধর্ষণের কোন আলামত রয়েছে কি-না, কোন কিছু খাওয়ানো হয়েছে কি-না এবং শরীরের কোথাও কোন দাগ রয়েছে কি-না তাও দেখা হচ্ছে।

‘সর্বশেষ ডিএনএ অ্যানালাইসে জন্য পাঠানো হয়েছে। সবগুলো রিপোর্ট পাওয়ার পর এগুলোর তথ্য একত্রিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তদন্তকারী চিকিৎসক দিতে পারবেন। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হলে এতে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ দিন সময় লাগতে পারে। তবে, ধাপে ধাপে সব কাজ শেষ হতে সময় কম-বেশি লাগতে পারে।’

এ সময় মোসারত জাহান মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান বলেন, সুরহাতালের রিপোর্ট অনুযায়ী এবং লক্ষণ দেখে আমার মনে হচ্ছে এটা হত্যা, আত্মহত্যা নয়। এখনও পর্যন্ত তদন্তের কোন বিষয়ে আমি জানতে পারিনি। যা সামনে আসছে তার বিষয়ে আমাকে তদন্তকারী পুলিশ সদস্যরা জিজ্ঞাসা করেছেন। সায়েম সোবহান আনভীর তাকে (মোসারত জাহান মুনিয়া) মার্চে বিয়ে করবে বলে নিয়ে গিয়েছিল। তারপর তিনি (আনভীর) কি করেছে। এরপর লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। মুনিয়া যাই হোক না কেন, তাই বলে তাকে কেউ মেরে ফেলবে? তাকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে। এই হত্যার বিচার, সঠিক তদন্ত চাই আমরা।

পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নুসরাত জাহান বলেন, আমি পুলিশের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। তারা বিভিন্ন সময়ে যেসব বিষয় ভাইরাল হচ্ছে, আমাকে সেসব নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। পিয়াসা নামক মহিলা যেহেতু বাড়ির মালিককে ফোন দিয়েছিল, 'মুনিয়া ঢাকায় কিভাবে এলো? তাকে তো আমরা বের করে দিয়েছিলাম'। তখন মুনিয়া আমাকে বলেছিলো ‘আমাকে মেরে ফেলা হতে পারে’, আনভীর আমাকে ‘বকা’ দিয়েছে কেন আমি ফ্লাটের মালিকের বাসায় ইফতার করেছি।

সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়ার পরেও আনভীরকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না প্রশ্ন রেখে মুনিয়ার বোন বলেন, এতকিছুর পরেও কেন আনভীরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছেনা? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, উনি (সায়েম সোবহান আনভীর) দেশেই আছেন। তাহলে কেন তাকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসন কোন উদ্যোগ নিচ্ছেনা? আমি সঠিক তদন্ত ‘ভিক্ষা’ চাই। সঠিক বিচার চাই।

অ্যাডভোকেট আইনুন নাহার সিদ্দিকা একই অনুষ্ঠানে বলেন, বিচার সবারই পাওয়ার কথা। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্ত হোক। সঠিক বিচার হোক। পুলিশ যেহেতু মোসারত জাহান মুনিয়ার ‘আত্মহত্যার’ ঘটনাটি তদন্ত করছে, আমাদের কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কোন কিছু আমাদের চোখে অনুচিত মনে হলে আমরা তা আদালতের নজরে আনব।

প্রসঙ্গত, সোমবার (২৬ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি ভবন থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় কলেজছাত্রী মোসারত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওইদিন রাতেই বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ অভিযোগে মামলা করে তরুণীর পরিবার।

এজাহারে বলা হয়েছে, সায়েম সোবহান আনভীর ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে মুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু বিয়ে না করে তিনি উল্টো ‘হুমকি’ দিয়েছিলেন মুনিয়াকে।

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন