ঢাকা ০৬ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

একাত্তর জার্নাল

হেফাজতের নানান কর্মসূচিতে শিশুদের ‘ব্যবহার’

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মে ২০২১ ০৭:৪৭:২২ আপডেট: ০২ মে ২০২১ ১৫:৫৫:০২
হেফাজতের নানান কর্মসূচিতে শিশুদের ‘ব্যবহার’

হেফাজত ইসলামের কর্মসূচিতে শিশুদের ‘অবাধ ব্যবহার’-এর অভিযোগ রয়েছে। ২০১৩ সালে দু’দফায় শাপলা চত্বরে এবং চলতি বছরের ২৬ মার্চ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে মোদি সফরের বিরোধীতা করে দেশজুড়ে চালানো হামলা-ভাঙচুরে শিশুদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। গণমাধ্যমের বিভিন্ন ছবিতে শিশুদের আন্দোলনের সামনের দিকে দেখা যায়। ‘শিশু আইন ২০১৩’ পাশ হলেও তা হেফাজত নেতাদের টনক নড়াতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গেল কয়েক বছরে শিশুদের সহিংসতায় ব্যবহারের অভিযোগে এখনো কোন মামলা হয়নি।

২ মে (রোববার) ফারজানা রুপার সঞ্চালনায় একাত্তরের নিয়মিত আয়োজন ‘একাত্তর জার্নাল’ অনুষ্ঠানে আমাদের নতুন সময় পত্রিকার সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, হেফাজত ইসলাম শিশুদের রোজগারে ‘ব্যবহার’ করে। শিশুদের পাড়ায় পাড়ায়, ঘরে ঘরে চাঁদা সংগ্রহ, দান সংগ্রহের জন্য পাঠানো হয়। এর মাধ্যমে মানুষের অনুভূতি আদায় করেন নেতারা। এছাড়া শিশুদের দিয়ে ‘কোরবানি’র কাজ করানো হয়। তাদের এসময় (কোরবানির সময়) ছেড়ে দেওয়া হয়। যার ফলে তাদের মধ্যে নির্মমতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তারা নিজেরা পশুগুলোকে জবাই করে। ঠিক একইভাবে রাজনৈতিক কোন ইস্যুতে এসব ‘অস্ত্র’ নিয়ে মাঠে নেমে পড়ে শিশুরা।

চিলড্রেন’স চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (সিসিবি ফাউন্ডেশন) চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল হালিম বলেন, আইনের ১৫৩/খ ধারায় বলা হয়েছে- শিশুদের যদি কোন মিটিং, মিছিলে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় তাহলে অভিযুক্তদের দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। শিশু আইনের ৮০ ধারায় বলা হয়েছে, শিশুদের স্বার্থ বিরোধী বা শিশুদের শোষণমূলক কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

মনোবিদদের মতে, সংঘাত, সহিংসতা কিংবা ঘৃণা উসকে দেয় এমন কর্মসূচিতে শিশুর শারীরিক ক্ষতির চেয়ে মানসিক ক্ষতি বেশি হয়। মনে মনে হিংসা আর বিদ্বেষ নিয়ে বড় হওয়া এসব শিশুরা ভবিষ্যতে হয়ে উঠতে পারে অপরাধীও।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তাজুল ইসলাম একাত্তরকে বলেন, শিশুদের স্বার্থবিরোধী কোন কাজে প্রথম কয়েকমাস তারা তীব্র উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, হতাশা, বিষন্নতা ও ফোবিয়ায় ভোগে। কয়েকমাস পরেও শিশুদের এই ট্রমাগুলো রয়ে যায়। বিভৎসতার চিত্রগুলো অনেকের মধ্যে বিষন্নতা নিয়ে আসে। আত্মহত্যার চিন্তাও চলে আসে অনেকের। এছাড়া আরও অনেক ধরনের মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ইসলামী চিন্তাবিদ অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার বলেন, যখন একই বিষয়ে দু’জন চিন্তাবিদ দুইভাবে ব্যাখ্যা দেন এবং বিতর্ক তৈরি হয় তখন অনুসারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। সরকারের কাছে আমরা প্রস্তাব করেছিলাম দুইধরনের বই না পড়িয়ে সবাইকে এক ধরনের শিক্ষা দেওয়ার। কিন্তু সে প্রস্তাব কাজে আসেনি। এককভাবে হেফাজত ইসলামের সিদ্ধান্তের ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তারা (হেফাজত ইসলাম) বাচ্চাদেরকে ব্যবহার করছে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। আমাদেরও মাদ্রাসা আছে, আমরা কখনো কোন শিশুকে ব্যবহার করিনি।



মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন