ঢাকা ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

মানুষের প্রিয় রংয়ের পেছনের মনস্তত্ত্ব

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২২ ১৫:৩৮:০১
মানুষের প্রিয় রংয়ের পেছনের মনস্তত্ত্ব

‘আপনার প্রিয় রং কী?’- ছোটবেলা থেকে জীবনে কমপক্ষে একবার এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়নি  এমন মানুষের দেখা মেলা ভার। তবে একেক বয়সে গিয়ে সাধারণত এই প্রশ্নের উত্তর ভিন্ন হতে দেখা যায় বেশিরভাগ মানুষেরই। 

কেন মানুষের নির্দিষ্ট একটি প্রিয় রং থাকে, আর কেন তা বিভিন্ন বয়সে বদলায়- বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন মার্ক এলউড। 

১৯৯৩ সালে ক্রেয়ন প্রস্তুতকারক কোম্পানি ক্রেয়লা যুক্তরাষ্ট্রে একটি জরিপ চালায়। সেখানে বাচ্চাদেরকে তাদের প্রিয় রং সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। 

বেশিরভাগ শিশুই নীল রংয়ের একটি প্রচলিত শেডকে তাদের প্রিয় রং হিসেবে বেছে নেয়। তবে ওই জরিপে উঠে আসা তালিকার শীর্ষ দশে জায়গা পায় নীল রংয়ের আরও তিনটি শেড। 

এর সাত বছর পর আবারও এই জরিপটি চালানো হলে সেবার তালিকায় জায়গা করে নেয় নীল রংয়ের সাতটি শেড। বাকি তিনটি রং ছিল বেগুনি, সবুজ ও গোলাপি। 

রোড আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক লরেন ল্যাব্রেক মার্কেটিংয়ে রংয়ের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেন। নীল রংয়ের এই জনপ্রিয়তা দেখে মোটেও বিস্মিত নন তিনি।

তার মতে, দেশ ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে বড় হয়ে যাওয়ার পর বেশিরভাগ মানুষেরই পছন্দের রং দাঁড়ায় নীল। এর কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই- নীল রং স্রেফ মানুষের খুবই পছন্দের। 


একদম ছোট শিশুদের স্বাভাবিকভাবেই রং নিয়ে তেমন কোনো স্পষ্ট পছন্দ থাকে না। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে পছন্দের রং নিয়ে তাদের মধ্যে ধারণা স্পষ্ট হতে থাকে। এখানে প্রভাব ফেলে তাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ও এর সাথে তাদের সম্পর্ক। 

চার থেকে ১১ বছর বয়সী ৩৩০ জন শিশুর উপরে চালানো এক গবেষণায় দেখা যায়, শিশুরা ‘ভালো’ চরিত্র আঁকার সময় নিজেদের প্রিয় রং আর ‘খারাপ’ চরিত্র আঁকার সময় কালো রং ব্যবহার করে থাকে। এখান থেকে ধারণা করা হয় রংয়ের সাথে মানুষের আবেগ-অনুভূতির পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। 

আবার মেয়ে শিশুর পোশাক ও খেলনার ক্ষেত্রে গোলাপি রংয়ের আধিক্য এবং ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে নীলের প্রাধান্যও বড় হবার পর প্রিয় রং বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে থাকতে পারে। 

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষেরই প্রিয় রং দেখা যায় নীল বা এর কোনো শেড। আর সবচেয়ে কম পছন্দের রংয়ের তালিকার শীর্ষে আছে গাড় হলদে-বাদামি রং। 

উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ক্যারেন শ্লসের মতে, রংয়ের সাথে জড়িয়ে থাকা মানুষের ব্যক্তিগত ইতিহাস প্রিয় ও অপ্রিয় রং বেছে নেয়ার ওপর প্রভাব ফেলে। এ কারণেই একই রংয়ের বিভিন্ন শেড বিভিন্ন মানুষের কাছে প্রিয়, আবার বিভিন্ন বয়সে একই মানুষের প্রিয় রংও পাল্টে যায়।  

প্রতিদিন জীবনযাপনে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হবার কারণে বা ইচ্ছে করে যোজনের কারণে বিভিন্ন রংয়ের সঙ্গে মানুষের নতুন নতুন সম্পর্ক তৈরি হয়। আর এ কারণেই তাদের পছন্দ পরিবর্তন হয়। 

তবে বেশিরভাগ মানুষের পছন্দের রং কেন নীল- এই প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শ্লস বলেছেন, আমাদের আশেপাশের অনেক পজিটিভ বস্তুর রং নীল, যেমন পরিষ্কার আকাশ কিংবা শান্ত সাগর। সে কারণেই নীল রং মানুষের পছন্দ। আবার পচে যাওয়া খাবারের রং হলদে বাদামি হওয়ায় সেটির রং সঙ্গত কারণেই মানুষের পছন্দ নয়। 

আবার নারী ও পুরুষের পছন্দের রং আলাদা হওয়ার পেছনে বিবর্তনবাদী ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছেন অনেকে। তাদের মতে, শিকার ও সংগ্রহ প্রধান সমাজে নারীরা বেরি জাতীয় ফল সংগ্রহ করতো। যার ফলে সেসব ফলের রং তাদের বেশি পছন্দ। 

তবে এই ধারনাকে উড়িয়ে দিয়ে এক্সপেরিমেন্টাল কালার সাইকলজিস্ট ডমিসেলি জোনাউস্কাইট বলেন, নারী ও পুরুষের পছন্দের রং ভিন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে বিবর্তনের কোনো প্রভাব নেই, বরং এক্ষেত্রে সামাজিক বিভিন্ন উপাদানই প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। 


একাত্তর/এসজে 

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

৪ দিন ২৩ ঘন্টা আগে