ঢাকা ১৬ মে ২০২১, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

মমতার বিজয়ে ‘ফাটাকেষ্ট’ নীরব

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২১ ০৮:৩৫:৫৮ আপডেট: ০৪ মে ২০২১ ২১:২৬:১৮
মমতার বিজয়ে ‘ফাটাকেষ্ট’ নীরব

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রচারের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন তারকা অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী ছিলেন । বিধান সভায় বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তিনি রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন- এমনটাও ছিল অনেকের জল্পনা। নির্বাচনী ফল ঘোষণার আগের দিনও রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে এ জল্পনার মাত্রা যেন আরো একটু বাড়িয়ে দিয়েছিলেন মিঠুন। যদিও রোববার ভোটের ফল ঘোষণার পর লোকচক্ষুর আড়ালেই থাকছেন তিনি।  

রোববার ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, বিধানসভার ২৯২ আসনের ভেতর মাত্র ৭৪টি আসন পেতে যাচ্ছে বিজেপি।  অন্যদিকে মমতার তৃণমূল আসন পাচ্ছে ২১৬টি। 

ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে তুণমূলের জয়ে মমতাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সিংসহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা। তবে নীরব ভূমিকায় দেখা গেছে মিঠুনকে। 

রোববার বিজেপির পরাজয় বা নির্বাচনী ফলাফল ঘিরে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোতে। 

ভোটের ফল ঘোষণার আগেরদিন শনিবার দুপুরে রাজভবনে গিয়েছিলেন মিঠুন। সাক্ষাৎ করেছিলেন রাজ্যপালের সঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, রাজ্যে ক্রমবর্ধমান কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য রাজ্যপাল নিজেই মিঠুনকে ডেকে নিয়েছিলেন। মিঠুনের দাবি, রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতে ছিল না রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য।

এর আগে মমতার আহ্বানে মিঠুন একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই মিঠুন গত ৭ মার্চ যোগ দেন কলকাতায় বিজেপি আয়োজিত ব্রিগেডের বিশাল সমাবেশে। মোদির হাত ধরে নাম লেখান গেরুয়া শিবিরে।

এর পরে তিনি বেলগাছিয়ার ভোটার হন। নির্বাচনে মনোনয়ন না নিলেও বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের প্রধান মুখ হিসেবে  নামেন রাজপথে। 

নির্বাচনী প্রচারে মিঠুন বলেছিলেন, ‘আমি বাঙালি। বাংলাকে ভালোবাসি। আমার স্বপ্ন বাংলাকে গড়ে তোলা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে আমি মোদির উন্নয়নের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছি। বাঙালির অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। লড়াই চলবে। এই দাদা কখনো পালিয়ে যায়নি। যাবেও না। বাংলার উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দেব আমি।’

অনেক সমাবেশেই তিনি শুনিয়েছেন তাঁর ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’ সিনেমার জনপ্রিয় সংলাপ, ‘মারব এখানে, লাশ পড়বে শ্মশানে।’ নির্বাচন প্রচারের প্রায় পুরোটা সময়জুড়ে বিজেপির মাঠ মাতিয়ে রাখলেও ফলাফলের দিন মিঠুন থাকলেন পুরোপুরি নীরব। 


একাত্তর/এসএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন