ঢাকা ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

আরেকটি দুর্ভিক্ষ এড়াতে সবার একতা চায় ডব্লিউটিও

কাবেরী মৈত্রেয়, জেনেভা থেকে
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২২ ১৩:৩২:৪৮ আপডেট: ১৪ জুন ২০২২ ১৩:১৯:২৬
আরেকটি দুর্ভিক্ষ এড়াতে সবার একতা চায় ডব্লিউটিও

বিশ্বে সংঘাত এড়াতে উন্নত দেশগুলোর একগুঁয়েমি ত্যাগ করার আহবান জানানোর মধ্য দিয়ে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১২তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। 

উদ্বোধনী সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার মহাপরিচালক এনগোজি ওকানজো- আইওয়ালা জানান, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বে যে দুর্ভিক্ষের অবস্থা হয়েছে, তা থেকে বাঁচতে বিশ্ব একতা দরকার।

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত সদর দপ্তরে বসে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা- ডব্লিউটিও এর মন্ত্রী পর্যায়ের ১২তম বৈঠক। 

এমনিতে এই বৈঠক প্রতিবারই নিষ্ফল আলোচনায় শেষ হয়। তার ওপর এবার করোনার কারণে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের বৈঠকটি পিছিয়ে যখন শুরু হলো তখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। 

যুদ্ধ, মহামারী আর বাণিজ্যিক কৌশল নির্ধারণে সদস্য-দেশগুলোর মতপার্থক্য- এই তিন কারণে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যের ৯০ শতাংশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডব্লিউটিওর সম্মেলনে বিষাদের ছায়া।

সম্মেলনের উদ্বোধনী সংবাদ সম্মেলন এবং মন্ত্রীদের বৈঠকে ডব্লিউটিও মহাপরিচালক এনগোজি আইওয়ালা রাখঢাক ছাড়াই বলে ফেললেন, ক্ষমতাধর দেশগুলো যেন জেদ করে সবাইকে হতাশায় ডুবিয়ে না দেয় কেননা, দুনিয়া ব্যাপী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এখন বড় মাথা ব্যথা। 

বিশ্ব এক কঠিন সময় পার করছে উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, মানুষ বাঁচানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাণিজ্য নীতি আর কৌশল বাস্তবায়নে সদস্য দেশগুলোর রাজনৈতিক বিরোধ কষ্ট দিচ্ছে তাকে। 

আইওয়ালা আরও বলেন, বিশ্ব বর্তমানে করোনা মহামারী, খাদ্য ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক সংঘাতের মতো একাধিক সংকটের মুখোমুখি। সব পক্ষকে একসাথে এসব সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে। এই পরিস্থিতিতে কোনো সদস্য একা থাকতে পারে না।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রধান হুশিয়ারি দিয়ে জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে যে খাদ্যসংকট শুরু হয়েছে হস্তক্ষেপ করা না হলে তা কয়েক বছর থাকতে পারে। গম ও সার সংকটে বিশেষভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশগুলো।

এদিকে স্বল্পোন্নত দেশের লজ্জা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠে গেছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য ও বিনিয়োগে কিছু সুবিধা হারানোর শঙ্কার সাথে সাথে পশ্চিমা দেশের বাজারে রপ্তানি সুবিধা, কৃষি বিশেষ করে মৎস্যখাতে ভর্তুকি দেয়া, উন্নত দেশ থেকে কম খরচে ওষুধ উৎপাদনে সহযোগিতা পাওয়া অগ্রাধিকার বাংলাদেশের জন্য।

এসব বিষয়কে সামনে রেখেই এবারের সম্মেলনে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশও। উন্নয়নশীল কাতারে পৌঁছে যাওয়া বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা নিয়েই যত চিন্তা সরকারের। এ জন্য ডব্লিউটিওর কাছে দাবি করা হয়েছে অবাধ ও শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বহাল রাখার।

আরও পড়ুন: রিফাত দেখছেন কালো টাকা আর সাক্কু দেখছেন বাহারকে

সম্মেলনে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেয়া বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ ২০২৬ সালের পর যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলো শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়, সেটি আমাদের মূল দাবি ছিলো। এরপর এখন করোনা-পরবর্তী বিশ্বে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে, সেটা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

চার দিনের সম্মেলনের শতাধিক সেশনে বাণিজ্য বিষয়ে বিভিন্ন দর কষাকষিতে অংশ নেবে ১৬৪ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা। তবে সবার দৃষ্টি আমেরিকা ও চীনের দিকে। কারণে এই ধনী দেশের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ কতটা প্রশমিত হয় সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। 


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

৫ দিন ১ ঘন্টা আগে