ঢাকা ১২ আগষ্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

আরো বন্যার সম্ভাবনা, সতর্ক থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

সৌমিত্র মজুমদার, একাত্তর
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২২ ২০:৪৬:৩৩ আপডেট: ২১ জুন ২০২২ ০০:১০:২৬
আরো বন্যার সম্ভাবনা, সতর্ক থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

আগামী সপ্তাহে সিলেট অঞ্চলে আবারও বাড়তে পারে বন্যার পানি। তাই সব কর্মকর্তাকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। বন্যা দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি দেখতে মঙ্গলবার সিলেট-সুনামগঞ্জ সফরে যাচ্ছেন সরকার প্রধান। 

বন্যায় ডুবেছে সিলেট, সুনামগঞ্জ এলাকা। দুর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছে মানুষ। দীর্ঘ ইতিহাসে সিলেট অঞ্চলে এতো ভয়াবহ বন্যা এর আগে দেখেনি বাংলাদেশ। 

দুর্গত মানুষের সাহায্যে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীসহ সবগুলো বাহিনী। সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে ও মানুষের পাশে দাড়াতে মঙ্গলবার সিলেট যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই পরিস্থিতিতে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বন্যার সব শেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। জানানো হয়, সিলেটে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। 

তবে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে আগামি কয়েকদিন ভারি বৃষ্টি হতে পারে। তাই উপদ্রুত এলাকায় আবারো পানি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্দেশনার কথা সাংবাদিকদের জানান।

তিনি বলেন, সিলেটের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির উন্নতিতে সন্তুষ্ট না হয়ে দেশে নতুন করে সম্ভাব্য আরও বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস যেমন দেখছি, তাতে একেবারে অসম্ভব কিছু না যে, পরে আবার এ রকম বন্যা হতে পারে। আসামে ম্যাসিভ বন্যা হয়েছে, কিন্তু আসামের পানি ওইভাবে আসেনি, যেভাবে মেঘালয়ের পানি আসছে।

সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসকদের বলে দেওয়া হয়েছে। কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকদেরও বলা হয়েছে, আসামের পানি এলে তারা যেন রেডি থাকেন, যোগ করেন তিনি।

বন্যাকবলিতদের পাশে দাঁড়াতে ও তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে প্রধানমন্ত্রী সিলেট সফরে যাচ্ছেন জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বন্যার মতো এ ভয়াবহ দুর্যোগকালীন নির্দেশনা মোতাবেক সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সবাইকে একসঙ্গে বসে বন্যা মোকাবিলায় কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, একইসঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকতেও বলা হয়েছে। কৃষিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, এরপর বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে যেন ভাসমান বীজতলার প্রস্তুতি নেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানে যে পানি এসেছে সেটা মেঘালয় দিয়ে এসেছে। মেঘালয় দিয়ে আসার কারণে একটা স্পেসিফিক জোনে পানি বেশি ছিল। আসাম ও ত্রিপুরায়ও কিছু বৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু সেটার ইম্প্যাক্ট ঠিক আমাদের এখানে সেভাবে পড়েনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এবার বন্যায় যেভাবে পানি এসেছে গত ৫০-৬০ বছরের মধ্যে তা হয়নি। যে পানি এসেছে, সেটা সামলানো কঠিন। 

পানি এতো দ্রুত এসেছে যে, কাউকে প্রস্তুত হওয়ার মতো সুযোগও দেয়নি। আমাদের সৌভাগ্য যে, শুরু থেকে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়নি।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সিলেটের বন্যায় সবচেয়ে প্রশংসিত বিষয়, সেখানকার মানুষের ধৈর্য। সিলেটে মানুষ ধৈর্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিচ্ছে, মানুষ কোথাও ক্ষুব্ধ হয়নি।

একাত্তর/এআর


মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১০ দিন আগে