ঢাকা ১৮ আগষ্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯

‘পদ্মা সেতুকে বাংলার মানুষ শেখ হাসিনার সেতু বলেই জানবে’

পদ্মা সেতু ইঞ্জিনিয়ারিং মার্ভেল, সবচেয়ে ব্যয়সাশ্রয়ী: মোজাম্মেল বাবু

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২২ ২০:০৬:১৫ আপডেট: ২২ জুন ২০২২ ২১:২৫:২৯
‘পদ্মা সেতুকে বাংলার মানুষ শেখ হাসিনার সেতু বলেই জানবে’

বহুল প্রত্যাশার পদ্মা বহুমুখী সেতুকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং মার্ভেল’ বা প্রকৌশল বিস্ময় হিসাবে উল্লেখ করে সিনিয়র সাংবাদিক ও প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বাবু বলেছেন, পদ্মা সেতু ৪২টি পিলারের উপর দাঁড়িয়ে থাকলেও, এটির আসল পিলার হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় সংকল্প। 

বুধবার (২২ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শাপলা হলে চলমান বন্যা পরিস্থিতি এবং ২৫শে জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, আজকে কোন প্রশ্ন নয়, আজকে ধন্যবাদ বলার দিন। 

পদ্মা সেতুর নির্মাণ প্রক্রিয়ার নানা দিক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জেষ্ঠ পুরোকৌশলী মোজাম্মেল বাবু এই অবকাঠামোকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং মার্ভেল’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্ব পরিমণ্ডলে পদ্মা সেতু তার নির্মাণশৈলী ও ডিজাইন কমপ্লেক্সিটির জন্য, পদ্মার মতো উন্মত্ত নদীকে বশে আনতে, নদী শাসনে আধুনিক প্রযুক্তির নানাবিধ প্রয়োগের বিভিন্ন ঘটনার জন্য ইতিমধ্যেই একটি প্রকৌশল আশ্চর্য বা ইঞ্জিনিয়ারিং মার্ভেল হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে এই বিরাট কর্মযজ্ঞের সাথে জড়িত প্রতিটি মানুষকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই।

আরও পড়ুন: দেশের মানুষ পাশে ছিলো বলেই পদ্মাসেতু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

পদ্মা বহুমুখী সেতুর নির্মাণ ব্যায় নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনার উত্তর দেন এই সিনিয়র সাংবাদিক। সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ, জমি অধিগ্রহণ খরচ সহ ব্যায়ের নানা দিক বিশ্লেষণ করে খরচের খ্যাতগুলো উল্লেখ করে মোজাম্মেল বাবু বলেন, পদ্মাসেতু নির্মাণের খরচ নিয়ে অনেক কথা বলা হয়, শুধু যদি সংযোগ সড়কগুলোর দিকে লক্ষ করা হয় দেখা যাবে এই সেতুর আশেপাশে ১৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক করা হয়েছে, যেটার খরচ একেবারেই আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে। এটাকে সেতুর খরচের সাথে যুক্ত করে হিসাব করা যাবে না।

ভূমি অধিগ্রহণের খরচটি ভুলভাবে সমালোচনাকারিরা মূল সেতুর খরচের সঙ্গে যুক্ত করে ফেলে উল্লেখ করে এই প্রকৌশলী বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের জন্য স্থানীয়দের জমির মূল দামের চাইতে তিন থেকে ছয় গুণ বেশি অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এটাও প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতা। তিনি বাংলার মানুষের কল্যাণের জন্যই টাকাটা দিয়েছেন। এটাও মূল সেতুর খরচের ভেতর হিসেব করা উচিত হবে না। পদ্মা সেতুর মূল খরচ ১২ হাজার কোটি টাকা।

পদ্মা সেতুকে ইতোমধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে ব্যায় সাশ্রয়ী স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে মোজাম্মেল বাবু বলেন, বিশ্ব পরিমণ্ডলে বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং জার্নাল ও ম্যাগাজিনে ইতিমধ্যেই এই সেতুর বিভিন্ন নির্মাণ জটিলতাকে বিচার করে পদ্মা সেতুকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যায় সাশ্রয়ী স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করেছে।

যারা বিদেশি ষড়যন্ত্রে এই সেতুর বিরোধিতা করছে তাদের উদ্দেশ্যে মোজাম্মেল বাবু বলেন, যারা বিদেশি ডলারে বেতন পান, তারা মূলত তাদের প্রভুদের প্রতি নিজেদের আনুগত্য প্রকাশের উদ্দেশ্যেই পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করছে। তাদের কাছে জাতি কিছু আশাও করে না। 

এই ষড়যন্ত্রকারীরাই এখন সুর বদলাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখন অনেক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এসে বিরোধীরা বলছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি খুঁজে বের করা কষ্টকর।


পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণে সাফলতার জন্য দেশবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা শুধু ৪২টি পিলার এবং ৪১টা স্প্যান দেখি। কিন্তু এই সেতু প্রকল্পের সবচেয়ে বড় পিলার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় সংকল্প। এই সংকল্প আর রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা না থাকলে এই সেতু আমরা কখনোই নির্মাণ করতে পারতাম না। 

নিজের নামে সেতুর নাম করতে না দেওয়াকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদান্যতা উল্লেখ করে সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু বলেন, অনাগতকাল ধরে পৃথিবী এবং বাংলার মানুষ এই সেতুকে শেখ হাসিনার সেতু বলেই জানবে।


একাত্তর/এআর

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১৬ দিন আগে