ঢাকা ১৮ আগষ্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯

কারো থেকে ভিক্ষা নেই না, ঋণ নেই, শোধও করি: হাসিনা

‘ওদের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যাবো পদ্মা সেতুতে। দুই-একটাকে চুবানি খাওয়াতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২২ ২১:৩৭:১৩
কারো থেকে ভিক্ষা নেই না, ঋণ নেই, শোধও করি: হাসিনা

পদ্মা সেতু নির্মাণে যারা বিরোধিতা করেছেন ও বিভিন্ন নেতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন তাদেরকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ওদের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যাবো পদ্মা সেতুতে। দুই-একটাকে চুবানি খাওয়াতে হবে।

বুধবার (২২ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সরকার প্রধান বলেন, সবার জানা উচিৎ, বাংলাদেশ কখনও ভিক্ষা নেয় না, ঋণ নেয় এবং সুদসহ সেই ঋণের টাকার পরিশোধও করা হয়। 

সিলেট অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে আসার ২৪ ঘন্টার মাথায় বুধবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলমান বন্যা পরিস্থিতি এবং ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শাপলা হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যে পারি সেটা প্রমাণ করতে পেরেছি। এতেই আমরা খুশি। এর বেশি নয়। আর যারা যারা বিরোধিতা করেছে। তারা বুঝতেছে। আমরা ওদের দাওয়াত দিচ্ছি। ওদের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যাবো পদ্মা সেতুতে। দুই-একটাকে চুবানি খাওয়াতে হবে।

পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করলেও বাংলাদেশের নামে বরাদ্দকৃত টাকা তারা ফেরত নিতে পারেনি এমন তথ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন  বিশ্বব্যাংক কোনো অনুদান দেয় না। আমরা লোন নেই। যে টাকা বাংলাদেশের নামে স্যাংশন হবে সেটা নষ্ট করার কোনো রাইট তাদের নেই। পদ্মা সেতু থেকে টাকা তারা বন্ধ করছে কিন্তু ওই টাকা আমরা উদ্ধার করতে পেরেছি। এই টাকা আমরা অন্যান্য প্রজেক্টে ব্যবহার করেছি।

বিশ্বব্যাংক কোনো দেশের একটি প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দিলে দেশটি চাইলে অন্য প্রকল্পে ব্যবহার করতে পারে এমনটি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা কিন্তু করা যায়। তা কিন্তু অনেকে জানেন না। জানিনা কেন জানেন না। আমাদের যারা অর্থনীতিবিদ- যারা কাজ করে তারা কেন মাথায় রাখে না। এরা (বিশ্বব্যাংক) দাতা নয়। আমরা তাদের থেকে ভিক্ষা নেই না। ব্যাংকের একটি অংশীদার হিসেবে আমরা লোন নেই এবং সুদসহ সেই লোন পরিশোধ করি।

তিনি আরও যোগ করেন, কাজেই আমার নামে, বাংলাদেশের নামে যে টাকা হবে সেই টাকা তাকে (বিশ্বব্যাংক) দিতে হবে, সে বাধ্য। এ টাকা কোনদিন কাজেই একটা প্রজেক্টের টাকা বন্ধ হয়ে গেলে ওমনি টাকা নিয়ে চলে যাবে সেটা কিন্তু যেতে পারে না। জ্ঞানীগুণীরা বলেন টাকা বন্ধ হয়ে গেছে। কিসের জন্য? আমরা তো লোন নিচ্ছি। যে লোন বাংলাদেশের নামে স্যাংশন হবে সেই লোন কোন না কোনভাবে তাকে দিতে হবে। এটা না দিয়ে পারে?

তিনি বলেন, আমি ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে ওই দাতা-দাতা কথাটি বন্ধ করেদিলাম। আমি বলেছি কিসের দাতা। এরা তো উন্নয়ন সহযোগী। আমি লোন নিই। সেই লোন সুদসহ পরিশোধ করি। এটা ঠিক যে সুদের হার কম। কিন্তু সুদসহ তো টাকা আমরা পরিশোধ করছি। আমরা তো ভিক্ষা নিচ্ছি না।

গণমাধ্যমেরও এ বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা কিন্তু কারও থেকে ভিক্ষা নেই না, ঋণ নেই। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পরিশোধ করি। এটুকু সুবিধা স্বল্প সুদে। আমাদের কেউ করুণা করে না। আমরা কারও করুণা ভিক্ষা নেইনি। এ রকম অনেক প্রজেক্ট। 

সরকার প্রধান বলেন, আমাকে অফিসার বুঝাচ্ছে- এই ডেট ফেল হলে ওই টাকা ল্যাফস হয়ে যাবে। কিন্তু আমি তো বলেছি নো। এই টাকা তো ল্যাফস হওয়ার কথা নয়। আমি এই প্রজেক্ট সাপোর্ট করতে পারি না। প্রজেক্ট আমি করবো না- কারণ যে কাজ করার কথা ছিল সে কাজ আমি করবো না। আমি তো করিনি। আমি বাতিল করে দিয়েছি। বাতিল করে পরবর্তী সময়ে অন্যভাবে সেই টাকা দিয়ে কাজ করেছি। একনেক মিটিংয়ে আমি চেয়ার করি। আমাকে ওটা বুঝিয়ে হয় না।

তিনি আরও বলেন, এক সময় আমরা কনসোর্টিয়ামের মিটিংয়ে প্যারিসে যেতাম। আমি বললাম প্রত্যেক দিন আমরা যাবো কেন? ওরা এসে এখানে টাকা দিয়ে যাবে। আমি শুরু করলাম। আমরা ঢাকায় মিটিং করেছি। এই টেকনিক্যাল জিনিসগুলো জানা দরকার। আমাদের জুজুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।

পদ্মা সেতু ইস্যুতে বিশ্বব্যাংক বা বিরোধিতাকারীরা দুঃখ প্রকাশ করেছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমার কথা হলো নিজের ভাড় ভালো না, গোয়ালার ঘি'র দোষ দিলে লাভ কী? বিশ্বব্যাংককে আমি কী দোষ দেবো। তারা বন্ধ করলো কাদের প্ররোচনায়। সেটা তো আমাদের দেশেরই কিছু মানুষের প্ররোচনায় তারা বন্ধ করেছিল। এটাই তো বাস্তবতা। 

আর যারা বিভিন্ন কথা বলেছেন তাদের কিছু কথা আমি উঠালাম। কথা আরও আছে। সেখানে আমার তো কিছু বলার দরকর নেই। এটা তারা নিজেরাই বুঝতে পারবে যদি তাদের অনুশোচনা থাকে। আর না থাকলে আমার কিছু বলার নেই। আমার কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।

তিনি বলেন, বরং আমি ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই এজন্যই যে, এ ঘটনা ঘটেছিল বলেই আমি সাহস নিয়ে নিজেদের টাকায় নিজেরা পদ্মা সেতু করার ফলে আজ বাংলাদেশের সম্মান ফিরে এসেছে। নইলে আমাদের দেশের বিষয়ে সবার একটা পারসেপশন ছিল। একটা মানসিকতা ছিল যে আমরা অন্যের অর্থায়ন ছাড়া কিছুই করতে পারবো না। 

এই যে পরনির্ভরশীলতা, পুরমুখাপেক্ষিতা আমাদের মধ্যে ছিল। একটা দৈন্যতা ছিল। বিশ্বব্যাংক যখন টাকাটা তুলে নিয়ে গেল অনন্ত আমরা সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। সেই অচলায়তন ভেঙে আমরা একটা আত্মমর্যাদাশীল-আমরা যে পারি সেটা প্রমাণ করতে পেরেছি।


একাত্তর/এআর

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১৬ দিন আগে