ঢাকা ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

বিএনপির নেতা হিসাবে কে নির্বাচন করবেন, জানতে চান হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২২ ২২:১০:১৫ আপডেট: ২২ জুন ২০২২ ২৩:৩৪:৪১
বিএনপির নেতা হিসাবে কে নির্বাচন করবেন, জানতে চান হাসিনা

কোন দল জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করলে, কে তাদের সরকারের প্রধান হবে- সেটা জনগণ আগে থেকেই জানতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দল বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে জানতে চেয়েছেন, তাদের (বিএনপি) নেতা হিসেবে কে নির্বাচনে অংশ নেবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার তাঁর কার্যালয়ের শাপলা হলে চলমান বন্যা পরিস্থিতি এবং ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। দেশে চলমান রাজনীতি নিয়ে এ সময় খোলামেলা কথাও বলে আওয়ামী লীগের সভাপতি।

‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, যখন একটি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, জনগণের তাদের উপর এই আস্থা থাকতে হয়। নির্বাচনে তারা জয়লাভ করলে কে তাদের সরকারের প্রধান হবে-সেটা জনগণ আগে থেকেই জানতে চায়।

তিনি বলেন, জনগণ প্রথম থেকেই এটা বিবেচনা করে। এটা শুধু আমাদের দেশেই ঘটে না, বরং বিশ্বব্যাপীই এমনটা হয়ে থাকে। তাদের (বিএনপি) নেতা হিসেবে কে নির্বাচনে অংশ নেবে। তারা কি তাদের নেতা হিসেবে জনগণকে পলাতক (তারেক রহমান) দেখাবে? তিনি তো দেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।

সহজেই ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেতে কত টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছে এমন প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, কিভাবে একজন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামী ব্রিটিশ নাগরিক হল- তা যদি আপনারা বের করতে পারেন, তবে সব কিছু বেরিয়ে আসবে।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, তাই, তারা (বিএনপি) কিভাবে নির্বাচনে অংশ নিবে এবং এক্ষেত্রে গণতন্ত্রের ভুলটা কোথায়? তাদের দল এখনো বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছে, যাদের এখন আর কোন সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই।    

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়া, অবশিষ্ট রইল বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো-যেগুলো অব্যহতভাবে বিভক্ত হতে হতে ছোট থেকে আরো ছোট হয়ে গেছে এবং এখন দলগুলো কখনো ডান দিকে কখনো বা বাম দিকে ঝুঁকে যায়।

তিনি প্রশ্ন করেন, তাই, আমাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কে আছে? সররকার প্রধান একটি শক্তিশালী দল গঠন করে নির্বাচনের মাঠে নামার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আসুন নির্বাচনের ময়দানে নামি এবং জনগণকে বেছে নিতে দেই।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার কথা স্পষ্ট। এখানে আপনারাই দেখতে পাচ্ছেন যে- আমার জন্য সেখানে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমি কখনোই এভাবে প্রধানমন্ত্রী হতে চাই না।

তিনি আরো বলেন, তিনি ১৯৯১ সালেও প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। কারণ, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ তাঁকে জাতীয় পার্টি ও জামাতের সাথে জোট বেঁধে সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা তার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আমি সেভাবে ক্ষমতায় যেতে চাইনি।

তিনি আরো বলেন, তখন আমি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ক্ষমতায় যেতে পারিনি। যখন আমার কাছে সম্পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে, তখনই আমি সরকার গঠন করব। আমার দেশের উন্নয়নে একটি সরকার গঠন করার ইচ্ছে। 

তিনি ১৩ বছরের আগে দেশের দৃশ্যপট স্মরণ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ১৯৯৬ থেকে ২০০১ মেয়াদে দেশের উন্নয়নের ভিত গড়ে তোলেন এবং পরে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপির আমলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয় এবং লুটপাট, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, বাংলাভাইয়ের উত্থান ঘটে। তখন জরুরি পরিস্থিতিতে (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) আসে। তিনি আরো বলেন, প্রকৃতপক্ষে, জাতির জীবন থেকে মূল্যবান আটটি বছর নষ্ট হয়।

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগের পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলো যে, বাংলাদেশকে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রি করতে হবে। কিন্তু, আমি তাদের স্পষ্টভাবে বলেছিলাম যে বাংলাদেশের জনগণ এই গ্যাসের মালিক। তাই যখন আমার দেশের প্রয়োজন মিটবে, দেশের উন্নয়ন হবে, ৫০ বছরের গ্যাসের মজুদ নিশ্চিত হবে তখনই আমি বাড়তি গ্যাস বিক্রি করব, বলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত, তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রীকে গ্যাসের ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করে বাংলাদেশের গ্যাসের মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটা আমার দোষ ছিল যে আমি আমার দেশের সম্পদ রক্ষা করতে চেয়েছিলাম। সে কারণেই আমাকে ক্ষমতা গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখা হয়। আমি যে কোনভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী হতে চাইনি।

তিনি আরও বলেন, তিনি জনগণের ভোট কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চান না। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি সেই ব্যক্তি যিনি সামরিক স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, আন্দোলন করেছেন, জেল-জুলুম, বোমা, গ্রেনেড হামলা ইত্যাদি করেছেন। আমি গণতন্ত্র রক্ষা করতে এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি বলেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে দেশে যে পরিবর্তন এসেছে তা দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের (বিএনপি) জন্য কান্নাকাটি করে লাভ নেই। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশে কি বিএনপির একজন যোগ্য নেতা নেই যাকে তারা দলের চেয়ারম্যান করতে পারে। 

সরকার প্রধান বলেন, আওয়ামী লীগ এই উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল, যেটি গণমানুষের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। কিন্তু, আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর জন্মস্থান কোথায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি দুই দলই সামরিক স্বৈরশাসকদের দ্বারা অভ্যুত্থান ও সামরিক আইনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।


একাত্তর/এআর

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

৪ দিন ২৩ ঘন্টা আগে