ঢাকা ১২ আগষ্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

সাঙ্গ হলো মাওয়া ফেরিঘাটের বহু বছরের কর্মচাঞ্চল্য

নয়ন আদিত্য, মাওয়া থেকে ফিরে
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২২ ২০:০১:১১ আপডেট: ২৪ জুন ২০২২ ২০:০৩:২১
সাঙ্গ হলো মাওয়া ফেরিঘাটের বহু বছরের কর্মচাঞ্চল্য

বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের বাকি আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যাত্রায় ঘুচবে ফেরিঘাটের ভোগান্তি। বন্ধ হবে ফেরিঘাটের কোলাহল, প্রাণচাঞ্চল্য।

সেতু উদ্বোধনের আগে এরিই মধ্য মাওয়া ঘাট থেকে পদ্মা পাড়ি দিয়েছে শেষ ফেরি। সেই সাথে অবসান হলো মাওয়াঘাটের প্রায় চল্লিশ বছরের কর্মযজ্ঞ। 

এরপর হয়তো আর যাত্রীবাহী কোন বাহনকে আর মাওয়াঘাটের ফেরি পার হতে হবে না। জরুরি প্রয়োজনে দুই একটি ফেরি হয়তো ঘাটে থাকবে। 

কিন্তু ঘাটকে ঘিরে আগের সেই কর্মচাঞ্চল্য আর থাকবে না। শেষ ফেরিতে যারা পদ্মা পার হলেন; তাদের কাছে এ যেন এক ইতিহাসের অংশ হওয়া। 

ঢাকার পথে যাত্রায় পদ্মার মাওয়া-জাজিরা প্রান্তে যুগের পর যুগ দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। দুর্ভোগ অনেক সময়ে হয়েছে প্রাণঘাতী। 

পদ্মা পাড়ি দিতেও প্রাণহানি হয়েছে অসংখ্য। মহামারীর সময়ে লকডাউনের সময় পদ্মা পারের দুই ঘাটই ছিলো প্রতিদিনের শিরোনাম। সেই দৃশ্য হয়তো আর চোখে পড়বে না। 

মাওয়া ঘাটে অবসান হলো দীর্ঘ প্রায় চল্লিশ বছরের ফেরি যুগের। শনিবার থেকে এই ঘাটে যাত্রী পারাপারের জন্য আর কোন ফেরি চলবে না। 

তাই সেতু উদ্বোধনের আগের দিন শুক্রবার ফেরিতে একটু জায়গা পেতে হাকডাকের ছবি বলে দিলে দিচ্ছিলো ৪০ বছরের পুরনো ঘাটের প্রাণচাঞ্চল্য এখন ইতিহাস হবার পথে। 

বোরবার ভোর ছয়টা থেকে যান চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে পদ্মা সেতুতে। এরিমধ্যে ঘাটে কমেছে যাত্রী আর ফেরির সংখ্যা। আর কয়েকজন যাত্রী নিয়ে ঘাট ছাড়ছে লঞ্চগুলো।

যানবাহন শূন্য পদ্মা আর কর্মচাঞ্চল্যহীন ঘাট বিষন্নতা ছড়ালেও, যারাই পারাপার হতে এসেছেন তাদের ছিলো অন্যরকম অনুভূতি। ভয়ঙ্কর যাত্রার শেষ দিনে তাই বিজয়ের হাসি যাত্রীদের মুখে।

মাওয়া-জাজিরায় কয়েক হাজার মানুষ কর্মরত ছিলেন, সেতু হলে তাদের কি হবে? এমন প্রশ্নে মোটেও বিচলিত নন স্থানীয়রা। বলছেন, সংকট হবে সাময়িক। 

সেতুকে ঘিরে নতুন যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হবে তাতে নিশ্চয়ই তাদেরও কোন না কোন কাজ জুটে যাবে। হয়তো শুরু হবে আরও ভালো ও নতুন পেশায় নতুন করে পথ চলা। 

সেখানের লোকজন বলছেন, পদ্ম সেতু চালু হওয়ার পরেও স্থানীয়ভাবে চালু থাকবে ফেরি ও লঞ্চ পরিবহন ব্যবস্থা। তবে ঢাকা থেকে দক্ষিণের পথে যাত্রায় প্রায় সবাই ব্যবহার করবেন পদ্মা সেতু।

আরও পড়ুন: প্রতিদিন পদ্মা সেতু দিয়ে পার হবে ৭৫ হাজার গাড়ি

১৯৮৭ সাল থেকে মাওয়া-মাঝিঘাট ও চরজানাজাত রুটে ফেরি চালু হয়। পরে পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু হলে মাওয়া থেকে শিমুলিয়ায় ঘাট হস্তান্তর করা হয়। 

এরপর শিমুলিয়া-বাংলাবাজার, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ও মঙ্গল মাঝির ঘাটে লঞ্চ–ফেরি চলাচল করে। প্রতিদিন এই দুটি নৌ রুটে রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, বরিশাল, খুলনা, বাগেরহাটসহ ১৯ জেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ চলাচল করতো।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১০ দিন আগে