ঢাকা ১২ আগষ্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

যে কারণে পদ্মা সেতু বিশ্বের প্রকৌশল বিষ্ময়

নয়ন আদিত্য, একাত্তর
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২২ ২০:৪০:১৭ আপডেট: ২৪ জুন ২০২২ ২০:৪০:৩৬
যে কারণে পদ্মা সেতু বিশ্বের প্রকৌশল বিষ্ময়

পদ্মা সেতুকে কেন অনন্য স্থাপনা বলা হচ্ছে, কেনই বা এই সেতুর নির্মাণযজ্ঞের দিকে তাকিয়ে ছিল দুনিয়ার প্রকৌশলীরা। কতগুলো চ্যালেঞ্জ পাড়ি দিতে হয়েছে এই সেতু নির্মার্ণে।

সেসবকে বিবেচনায় নিয়েই এরিমধ্যে বিদেশের বিভিন্ন নামী দামি জার্নালে পদ্মা বহুমুখী সেতুকে আখ্যায়িত করেছে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং মার্ভেল’ বা প্রকৌশল বিষ্ময় হিসাবে।

লাতিন অঞ্চলের আমাজান নদীর পর পদ্মা সেতুতে বলা হয় বিশ্বের সবেচয়ে খরস্রোতা নদী। সেই কারণে জন্মের পর থেকেই এই নদী দেশের কাছে পরিচিত সর্বনাশা পদ্মা, প্রমত্ত পদ্মা।

ভরা মৌসুমে প্রতি সেকেন্ড দেড় লাখ কিউবিক মিটার পানি প্রবাহিত হয়। ফলে দ্বিতীয় খরস্রোতা নদী হলেও পানি প্রবাহের দিক থেকে এটি সব নদীকে ছাড়িয়ে গেছে।

এমন খরস্রোতা নদীকে বশে এনে সেতু নির্মাণ ছিলো বিরাট এক চ্যালেঞ্জ, কারণ পাইল ছাড়া তো আর কোন অবকাঠামো দাঁড়ায় না, আর পদ্মা সেতুর জন্য সেটিই ছিলো বড় চ্যালেঞ্জ।

সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা জন্য ১২০ মিটারের এককেকটি পাইল করার পরিকল্পনা করা হয়। তবে সেখানেও জট বাঁধে। অর্ধেকের বেশি পিলারের তলার মাটি নরম।

আর নরম মাটি মানেই মাটি দেবে যাবার ভয়। ফলে পরিবর্তন করতে হয় পাইলের নকশা। বদলে যায় পাইল বসানোর কৌশল। অনেক গবেষণা আর পরামর্শে পর সমাধান হয় এ সমস্যারও।

পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর পাইলের সেতু হলো পদ্মা। মূল সেতুতে পাইল আছে ২৬৪টি। একেকটি পিলারের নীচে আবার ছয় থেকে সাতটি করে পাইল বসানো হয়েছে।

এই পাইল নদীর তলদেশের মাটি থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪১২ ফুট গভীরে বসানো হয়েছে। বিশ্বে আর কোনো সেতুতে এতো গভীরে পাইল বসানোর দরকার হয়নি।=

এসব পাইলের ওপরই নির্মাণ করা হয় পিলার। এর ওপর বসানো হয় ইস্পাতের স্প্যান। পদ্মা সেতুতে স্প্যানের ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব জোড়া লাগিয়ে তৈরি হয়েছে যান চলাচলের পথ।

ছোট-বড় কিছু কাজের শেষ পর্যায়ে পিচ ঢালাই দিয়ে সড়ক তৈরি করে যানবাহন চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হয় সেতু। ২৫ জুন উদ্বোধনের মাধ্যমে বিশাল এই কর্মযজ্ঞ শেষ হতে চলেছে।

পাইলতো বসানো গেলো, নদীকে শাসন করা, সেটাও বিরাট এক কর্মযজ্ঞ। গেলো ১০০ বছরের স্যাটেলাইট ইমেজ বলছে কতোটা ক্ষ্যাপা পদ্মা নদী।

এই পদ্মা নদী কখনই তার গতিপথ এক মূখী থাকেনি। ফলে নদী ভরাট না করেই নদী শাসনের ব্যবস্থা নেয়া হয়। সমস্যা সমাধানে দেশীয় পদ্ধতি ব্যাবহার করা হয়।

পদ্মা বহুমুখী সেতু যে কয়েকটি উদাহরণ তৈরি করেছে, তার মধ্যে নদী শাসন একটি অন্যতম অধ্যায়। খরস্রোতা পদ্মাকে শাসন করা অসম্ভব বলেই মনে করতো অনেকে।

পদ্মার মত গভীর নদীর নীচে শক্ত মাটির খোঁজ পেতেই অনেক সময় লেগে যায়। তারপর স্লপ তৈরি করার জন্য এক হাজার কেজি ওজনের একেকটি পাথর আনা হয় ভারত থেকে।

শুধু তাই নয় পদ্মা সেতুর পাইলের জন্য হ্যামার তৈরি, স্প্যান বহন করার পরিকল্পনা এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করাও বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো।



একাত্তর/এসএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১০ দিন আগে