ঢাকা ১২ আগষ্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

আধুনিক নির্মাণ কৌশলে যেসব রেকর্ড গড়লো পদ্মা সেতু

নয়ন আদিত্য, একাত্তর
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২২ ২১:৩১:৪০
আধুনিক নির্মাণ কৌশলে যেসব রেকর্ড গড়লো পদ্মা সেতু

বিশ্বের সবচেয়ে গভীরতম পিলার, পাইলিংয়ের কাজে ভিম শক্তিশালী হ্যামার কিংবা ৯৬ হাজার কিলো-নিউটনের বিয়ারিংয়ের ব্যবহার; এই সবই পদ্মা সেতুর রেকর্ড। 

নির্মাণ শৈলীর দিক থেকে পদ্মা সেতুর এই তিনটি রেকর্ড, বিশ্বে উদাহরণ তৈরি করেছে। আর এ কারণেই নানা দেশের প্রকৌশলীদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলো এই সেতুর নির্মাণ প্রক্রিয়া। 

৪২টি পিলারের উপর ৪১টি স্প্যানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে পদ্মা সেতু। এই সেতু নির্মাণের প্রথম থেকেই প্রমত্তা পদ্মার সাথে রীতিমতো যুদ্ধ করে কাজ এগিয়ে নিতে হয়েছে। 

নদীর তলদেশ ও মাটির বৈচিত্রতার করণেই ৪২টি পিলারের মধ্যে ২২টির নকশায় আনতে হয় পরিবর্তন। কারণ, পূর্ব অনুমতি হিসাবে আরও বেশি গভীরে পাওয়া যায় শক্ত মাটি।

পদ্মা সেতুর জন্য তৈরি করা ১২০ মিটারের একেকটি পিলার তৈরা করে বিশ্বের সবচেয়ে গভীরতম পিলারের রেকর্ডটিও এখন পদ্মার দখলে। 

যে হ্যামার দিয়ে এই পিলার মাটির গভীরে স্থাপন করা হয়েছে, সেটি তৈরি হয়েছে জার্মানিতে। এর আগে বিশ্বে এতো শক্তিশালী হ্যামার ছিলো না।  

দোতলা সেতুর একেকটি স্প্যানের ওজন তিন হাজার দুই টন। এতো বেশি ভার বহনে সক্ষম কোন ক্রেনও বিশ্বে ছিলো না। এই ক্রেনটিও তৈরি হয়েছে শুধু পদ্মা সেতুর কাজে।

এর উপর বসানো হয়েছে সড়কের স্ল্যাব। মাঝে বসবে ট্রেনের লাইন। এই দুই পথে যখন ট্রেন ও যান চলাচল শুরু হবে তখন হবে কম্পন ও ওজনের ভারজনিত প্রতিক্রিয়া।

সেটি ধরে রাখার সঙ্গে সর্বোচ্চ ৯ মাত্রার ভূমিকম্পেও সেতু যাতে ঠিক থাকে সে জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ৯৬ হাজার কিলো-নিউটনের একেকটি বিয়ারিং। এটিও একটি বিশ্ব রেকর্ড। 

এই সেতুর জন্য পদ্মার দুই পাড়ে ১২ কিলোমিটার নদী শাসন করা হয়েছে। যেখানে এক টন ওজনের একেকটি পাথর ব্যাবহার করা হয়েছে। 

৮০০ কেজি ওজনের একেকটি জিও ব্যাগ ব্যাবহার হয়েছে। নদীর চেহারা না পাল্টে এতোবড় নদী শাসন করাটাও আরেকটি বিশ্ব রেকর্ড। 

পদ্মা সেতুতে অভিজ্ঞ বিদেশী প্রকৌশলীদের সঙ্গে কাজ করেছেন দেশের তরুণ প্রকৌশলীরাও। এটিকেও বড় অর্জন বলছেন প্রকৌশলীরা। 

তাদের এই দক্ষতা ভবিষ্যতে আরও বড় কোন কাজে লাগাতে পারবে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার সুযোগ পাবে নতুন প্রজন্ম।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে ভাষণেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশাবাদ জানান, বিশ্বজুড়ে প্রকৌশল বিদ্যার পাঠ্য বইয়ে পদ্মা সেতুর নির্মাণ পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত হবে। 

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণ পদ্ধতি বিশ্ব জুড়ে প্রকৌশল বিদ্যার পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এটা একটা আশ্চর্য সৃষ্টি। এটা অনেক মানুষের শেখার সুযোগ রয়েছে। 

বিশাল এ কর্মযজ্ঞ থেকে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের দেশের প্রকৌশলী ও কর্মীরা যে জ্ঞান লাভ করেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও অনেক স্থাপনা তারা করতে পারবেন। 

অন্য দেশেও সহযোগিতা করতে পারবেন সেই সক্ষমতা আজ আমরা অর্জন করেছি। বিশ্বের সেরা প্রযুক্তিতে নির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন পদ্মা সেতু।

আরও পড়ুন: পদ্মা সেতুতে প্রমাণ হলো বাংলাদেশ পারে: শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রকৌশলী কর্মী ও বিদেশি পরামর্শ নিয়ে এ সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছি। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের গুণগত মানে কোনো আপস করা হয়নি। 

এই সেতু নির্মিত হয়েছে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণ দিয়ে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে। নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে। 

পদ্মা সেতুর পাইল বা মাটির গভীরে বসানো ভিত্তি এখন পর্যন্ত বিশ্বের গভীরতম। সর্বোচ্চ ১২২ মিটার গভীর পর্যন্ত এই সেতুর পাইল বসানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন সরকার প্রধান।



একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১০ দিন আগে