ঢাকা ১২ আগষ্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে হবে সেতু, উড়াল সেতু: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২২ ১৩:০৪:২৪ আপডেট: ২৮ জুন ২০২২ ১৬:৫৮:৩১
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে হবে সেতু, উড়াল সেতু: প্রধানমন্ত্রী

বন্যায় পানিপ্রবাহ দূর করতে সিলেট-সুনামগঞ্জের অনেক সড়ক কেটে ফেলা হয়েছে। কিছু সড়ক ভেঙে গেছে। বন্যায় ভেঙে ও কেটে ফেলা সড়কের ওপরে নতুন করে উড়াল সড়ক, কালভার্ট অথবা ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। এসব স্থানে নতুন করে সড়ক নির্মাণ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। মঙ্গলবার (২৮ জুন) শেরে বাংলানগরস্থ এনইসি সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত একনেক সভা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বন্যায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজারের অনেক সড়ক কেটে ফেলা হয়েছে পানি বের করার জন্য। এছাড়া কিছু সড়ক ভেঙে গেছে। তাই এসব সড়কের জায়গায় নতুন করে সড়ক নির্মাণ করা যাবে না। এসব জায়গায় সেতু, উড়াল সড়ক অথবা কালভার্ট নির্মাণ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। সড়ক সেতু ভেগে গেছে। হাওর বা প্লাবন এলাকায় সড়ক নয় ব্রিজ অথবা কালভার্ট করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পানি চলাচলে যেন বাঁধা সৃষ্টি না হয়। সিলেট এলাকায় পুনর্বাসনের জন্য নতুন করে প্রকল্প নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক এলাকায় তাই পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হবে। একনেক সভায় নিয়ে আসা হবে।

আরও কোথায় ওভারপাস বা আন্ডার পাস দরকার তা খুঁজে বের করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। নৌরুটে কালভার্ট নয়, ব্রিজ নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ২ হাজার ২১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরে ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ৩৪১ কোটি টাকা পাওয়া যাবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ তথ্য জানান।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো-

যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ; মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ; কুষ্টিয়া (ত্রিমোহনী)-মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ (আর-৭৪৫) আঞ্চলিক মহাসড়কের ৮১তম কি.মি. রেলবাজার রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ; চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়ীয়া-পাথরঘাটা মহাসড়কের (জেড-৮৭০১) পিরোজপুর অংশের জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত বেইলি সেতুর স্থলে পিসি গার্ডার সেতু ও আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ; কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ (১.৬০ কি.মি. থেকে ৩২ কি.মি. পর্যন্ত) সড়ক প্রশস্তকরণ; জামালপুর শহরের গেটপাড় এলাকায় রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ (১ম সংশোধিত); বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা সদরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধিত); ঢাকা সেনানিবাসে এমইএস (মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস) এর ভৌত অবকাঠামো সুবিধা সম্প্রসারণ; কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন।

একাত্তর/এসএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১০ দিন আগে