ঢাকা ১২ আগষ্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

মানিকগঞ্জে আগুন দিয়ে গৃহবধূকে হত্যা মামলায় তিনজনের দণ্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২২ ২০:৪২:৩২
মানিকগঞ্জে আগুন দিয়ে গৃহবধূকে হত্যা মামলায় তিনজনের দণ্ড

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় কেরোসিন ঢেলে শরীরে আগুন দিয়ে এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে স্বামীসহ তিন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দিয়েছেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (২৯ জুন) বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম তানিয়া কামাল এই রায় দেন।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, শিবালয়ের দক্ষিণ শালজানা গ্রামের বিল্লাল হোসেন, তার প্রথম স্ত্রী ফাহিমা এবং মা ছিপারন বেগম।

এর মধ্যে বিল্লাল হোসেনকে সাত বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া ফাহিমা ও ছিপারনকে চার বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌসুঁলি (পিপি) নূরুল হুদা রুবেল জানান,  ২০০৬ সালে প্রথম স্ত্রী ফাহিমা থাকা অবস্থায় বিল্লাল হোসেন একই গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে শিখা আক্তারকে (২০) বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে বিল্লালের প্রথম স্ত্রী ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকতো। এ ছাড়া শিখাকে যৌতুক হিসেবে টাকা-পয়সা আনতে চাপ দিতেন বিল্লাল ও তার পরিবারের লোকজন। তবে এতে রাজি না হওয়ায় শিখাকে মারধর করতে সতীন, স্বামী ও শাশুড়ি।

এই কলহের জেরে ওই বছরের ২০০৬ সালের ১৫ আগস্ট বিকেলে স্বামী, সতীন ও শাশুড়ি মিলে শিখার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে তার শরীর ঝলসে যায়। পরে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিখার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় শিখার বাবা আবুল কাশেম বাদি হয়ে বিল্লাল হোসেন, ফাহিমা, ছিপারন, দুলাল হোসেন, আবদুল খালেককে আসামি করে শিবালয় থানায় হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনায় ২০০৬ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দেন।

এ মামলায় বিচারকাজ চলাকালে ২০ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

আরও পড়ুন: সাভারে শিক্ষক পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি জিতু গ্রেপ্তার

সকল সাক্ষ্য ও প্রমাণাদির ভিত্তিতে ওই তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাদের এই কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড করেন ট্রাইব্যুানালের বিচারক। এ ছাড়া এ মামলায় আসামি দুলাল ও খালেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।


একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১০ দিন আগে