ঢাকা ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৯

এক পাসওয়ার্ডে আটকে আছে ইভ্যালির গ্রাহকদের টাকা

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২২ ২২:৪৫:১৮
এক পাসওয়ার্ডে আটকে আছে ইভ্যালির গ্রাহকদের টাকা

চলতি মাসের শেষে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বর্তমান আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনা করে অডিট রিপোর্ট আদালতে উপস্থাপন করা কথা থাকলেও সার্ভারে এক পাসওয়ার্ডেই আটকে আছে গ্রাহকের দায়-দেনা ও সম্পদের বিস্তারিত তথ্য।

এদিকে পাসওয়ার্ড  জানতে প্রতিষ্ঠানটির সিইও মো. রাসেলের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি লিখিত দিয়েছেন, ‘পাসওয়ার্ডটি তার মনে নেই’।

শুক্রবার (১ জুলাই) বিকেলে ধানমন্ডির ইভ্যালি কার্যালয়ে এ তথ্য জানান ইভ্যালির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

তিনি বলেন, আমাদের নিয়োগ করা অডিট প্রতিষ্ঠান এ মাসের শেষে রিপোর্ট জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন।

ইভ্যালির সাপ্লাইয়ার আর ক্লায়েন্ট দুই ধরনের পাওনাদার আছে উল্লেখ করে সাবেক এ বিচারপতি বলেন, ইভ্যালির দুটি গোডাউনে প্রায় ২৫ কোটি টাকার পণ্য আছে। এছাড়া নয়টি কাভার্ডভ্যান ও পাঁচটি গাড়ি আছে। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই।

তিনি বলেন, বর্তমানে ইভ্যালির যে অর্থের তথ্য পাওয়া গেছে এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের যে অবস্থা তা দিয়ে গ্রাহকদের পাওনা টাকা পরিশোধ করা সম্ভব নয়।

ইভ্যালির সার্ভার সচল করার চেষ্টা করা হয়েছে জানিয়ে মানিক বলেন, রাসেলের কাছ থেকে পাসওয়ার্ড উদ্ধার করা যায়নি। মূল সার্ভার সচল না হলে গেটওয়েতে থাকা ২৫ কোটি টাকা ছাড় করবে না ব্যাংকগুলো। পাওনাদারদের তথ্য না পাওয়ায় ২৫ কোটি টাকার পণ্য থাকলেও তা গ্রাহকদের দেওয়া যাচ্ছে না।

সাবেক এ বিচারপতি বলেন, আমরা দেশের এটুআই, সিআইডিসহ একাধিক আইটি এক্সপার্টদের সঙ্গে বসে পাসওয়ার্ডটি উদ্ধারের চেষ্টা করেছি, কিন্তু সম্ভব হয়নি। সার্ভারটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা অ্যামাজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা শুধু একটি কথাই বলেছে ‘পাসওয়ার্ড ছাড়া কোনো তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ইভ্যালির শেয়ার হস্তান্তর করতে হলে পরিচালনা বোর্ডের কাছে আসল কাগজপত্র জমা দিতে হবে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমান বোর্ড কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: সুখকর হলো না এক্সপ্রেসওয়েতে টোল আদায়ের প্রথম দিন

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বোর্ডের সদস্য সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল আহসান, মাহবুবুল করিম, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফখরুদ্দিন আহম্মেদ, আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।

উল্লেখ্য, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক গুলশান থানায় ইভ্যালির মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরদিন বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। 

গত ২১ এপ্রিল চেক প্রতারণার ৯ মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেলকে জামিন দেন আদালত। ওই দিন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পান তিনি। তবে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় কারামুক্ত হতে পারেননি রাসেল। শামীমা নাসরিন বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

১০ দিন ২ ঘন্টা আগে