ঢাকা ১২ আগষ্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

অধ্যক্ষ লাঞ্ছিতের ঘটনায় তদন্ত কমিটির রিপোর্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি, নড়াইল
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২২ ২২:৩৯:৫২ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২২ ২২:৫৯:৫৩
অধ্যক্ষ লাঞ্ছিতের ঘটনায় তদন্ত কমিটির রিপোর্ট

নড়াইলের মীর্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দিয়েছে। শনিবার (২ জুলাই) রাত ৮.৪৫টায় তদন্ত কমিটির আহবায়ক নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের হোসেন চৌধুরী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের কাছে এ রিপোর্ট জমা দেন।

তদন্ত কমিটির আহবায়ক নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, গত ১৮ জুন নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজে একটি ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসন থেকে আমাকে আহবায়ক করে ৩সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করে দেন। আমরা সেই বিষয়ে তদন্ত সম্পন্ন করে জেলা প্রশাসক স্যারের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। তবে প্রতিবেদনে কারা জড়িত বা কাদের নাম এসেছে সেটা বলার সুযোগ নেই। যেহেতু মামলা হয়েছে সেজন্য কারো নাম বলা সম্ভব নয়। আমি এর বেশী আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।

এদিকে, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত অপর একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন শনিবার জমা দেওয়ার কথা থাকলেও এ নিউজ  লেখা পর্যন্ত তদন্ত কমিটির মিটিং চলছে।

২৮ জুন নড়াইলের মীর্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রী কলেজের ঘটনায় রবিবার (২৬ জুন) অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের হোসেন চৌধুরীর নেৃতৃত্বে তিন সদস্য এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রিয়াজুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।  

উল্লেখ্য, নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহুল দেব রায় নিজের ফেসবুক আইডিতে নূপুর শর্মার ছবি ব্যবহার করে লেখেন-প্রণাম নিও বস ‘নূপুর শর্মা’ জয় শ্রীরাম। এ পোস্ট দেয়ার পর গত ১৮ জুন সকালে কলেজে আসেন রাহুল। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জানান। এক পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজের সব শিক্ষকদের পরামর্শে রাহুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করেন। 

এরই মধ্যে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে কলেজ চত্বরে থাকা শিক্ষকদের তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জসহ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছোঁড়ে। ঘটনার সময় দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। 

এসময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এক পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে কলেজ চত্বরে থেকে বের করা হয়। 

এদিকে এ ঘটনায় মামলায় গ্রেপ্তারকৃত চারজনকে পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়ে জুডিশিয়্যাল ম্যাজিষ্ট্রেট আমাতুল মোর্শেদার আদালতে আবেদন করেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাহামুদুর রহমান। আদালত আসামীর উপস্থিতি রোববার  (৩ জুলাই) রিমান্ড শুনানীর জন্য দিন ধার্য্য করেছেন। 


একাত্তর/এসএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১০ দিন আগে