ঢাকা ১৭ আগষ্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯

গোয়েন্দাদের ঘুম হারাম করে এখনো ফেরার ‘ক্রিপ্টোকুইন’

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২২ ২২:৫৩:১৮
গোয়েন্দাদের ঘুম হারাম করে এখনো ফেরার ‘ক্রিপ্টোকুইন’

রুজা ইগনাতোভা। গোয়েন্দাদের দুনিয়ায় ‘ক্রিপ্টোকুইন’ নামে পরিচিত এই নারী। তার বাড়ি বুলগেরিয়াতে। ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা জালিয়াতিতে তিনি বিশ্বসেরাদের একজন।

আমেরিকার কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা- এফবিআই রুজা ইগনাতোভাকেকে এখন হন্যকে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে। দুদিন আহে তার নাম যুক্ত হয়েছে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ এর শীর্ষ দশের তালিকায়। 

কারণটাও ভয়াবহ। ভুয়ো বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান খুলে মাত্র তিন বছরের মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাপিশ করে দিয়েছেন এই বুলেগেরিয় সুন্দরী। 

আর এর সবাই তিনি করেছেন ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে। যার কারণে তাকে ‘ক্রিপ্টোকুইন’ নামে অভিহিত করা হয়। পাঁচ বছর আগে হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে যান রুজা। 


এরপর থেকে তাকে হন্য হয়ে খুঁজছে এফবিআই। বিনোয়াগকারীদের রাতের ঘুম হারাম করে দেয়া এই নারীর জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি আছে আমেরিকারতে। কিন্তু ধরা যাচ্ছে না।

বুলগেরিয়ার পাশাপাশি জার্মান নাগরিক রুজার বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলার লোপাটের অভিযোগ তুলেছে এফবিআই। এ কারণে তার সম্পর্কে তথ্য দিলেই মিলবে এক কোটি টাকা পুরস্কার। 

শুধু এফবিবাই নয়, ইন্টারপোল-ইউরোপেল তাবৎ বিশ্ব গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় আছেন রুজা। ইউরোপে চষে বেড়িয়েও তার কোন নাগাল পাচ্ছেন না বাঘা বাঘা গোয়েন্দারা। 

৪২ বছরের রুজার জন্ম হয়েছিল বুলগেরিয়ার সোফিয়ায়। তবে ১০ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে জার্মানির স্রামবার্গ শহরে চলে যান তিনি। সেখানেই বেড়ে ওঠা এবং পড়াশোনা করা।

রুজাকে পাকড়াও করতে না পারার পেছনে কারণও আছে। অন্য সব পেশাদারি অপরাধীর মতো তিনি নন। উচ্চশিক্ষিত এবং আইনের মারপ্যাঁচ সম্পর্কে তার রয়েছে বিশেষ দক্ষতা। 


জার্মানির একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের উপর পিএইচডি করেছেন রুজা। আর উচ্চশিক্ষা শেষ করে তিনি ম্যাকিনস- এর মতো বহুজাতিক সংস্থায় চাকরিও করেছেন।

২০১২ সালে বাবা প্লামেন ইগনাতোভের সঙ্গে মিলে একটি জার্মান কোম্পানি দখলের পর তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। সেই মামলায় জেল হয় বাবা ও মেয়ের। 

আর এতেই কপাল খুলে যায় রুজার। কারাগারে বসে হাত পাকিয়ে ফেলেন ক্রিপ্টোকারেন্সিতে। খুলে বসেন একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান। শুরু হয় বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করা। 

১৪ মাস পর জেল থেকে বের হয়েই শুরু করেন প্রতারণার ব্যবসা। ওয়ানকয়েন নামে ক্রিপ্টো কারেন্সির কারবার শুরু করেন তিনি। আর খুব দ্রুত এই কারবার বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেন রুজা। 

বিনিয়োগকারীরা যত লোককে তার ক্রিপ্টোকারেন্সি সংস্থায় টেনে আনতে পারবেন, তাঁদের তত লাভ হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রুজা। আর এই ফাঁদে পরেছে বেশিরভাগ ক্লায়েন্ট। 

পরে জানা যায়, ওয়ানকয়েন নামের ক্রিপ্টোকারেন্সির (ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেনদেনের ডিজিটাল মুদ্রা) আসলে শেয়ারবাজারে কোনও মূল্যই ছিল না। 

এমনকি, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্লকচেন নামে যে ইন্টারনেটভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ হয় এবং যার মাধ্যমে গেলে বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকে, সেই সুরক্ষাও ছিল না ওয়ানকয়েনের।


পশ্চিমা গোয়েন্দারা মনে করেন, ওয়ানকয়েন আসলে ক্রিপ্টোকারেন্সির ছদ্মবেশে থাকা একটি ভুয়া কোম্পানি, যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি টাকা লুটেছেন রুজা।

বিশ্ব জুড়ে ৩০ লক্ষ বিনিয়োগকারীকে শুধুমাত্র মোটা অঙ্কের কমিশনের লোভ দেখিয়ে তাঁর ভুয়ো সংস্থায় টেনে এনেছিলেন রুজা।

২০১৪ থেকে ২০১৬ এই তিন বছরেই রুজা কোটি কোটি ডলার নিজের কব্জায় আনতে সক্ষম হন রুজা। বিনিয়োগকারিরা যখন বুঝতে শুরু করলেন প্রতারণা, তখনই গা ঢাকা দেন রুজা। 

আরও পড়ুন: ইউক্রেনকে আরো অস্ত্র-গোলাবারুদ দিচ্ছে আমেরিকা

স্মার্ট ও সুন্দরী রুজাকে গত পাঁচ বছরে কেউ দেখেছে এমন কোন তথ্য হাজির করতে পারেনি গোয়েন্দারা। তাহলে কোথায় গেলেন তিনি, এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে। 

২০১৭ সালে বুলগেরিয়ার সোফিয়া থেকে গ্রিসের যাওয়ার বিমানে উঠেছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে পাঁচ কোটি টাকা। তারপর থেকে লাপাত্তা রুজা ইগনাতোভা।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১৫ দিন আগে