ঢাকা ১২ আগষ্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

'খুন ও গুম' হওয়া শাহজাহানকে জীবিত উদ্ধার করলো সিআইডি

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলমাকান্দা
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২২ ১৯:৫৪:৫৩ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২২ ১৪:২৪:০১
'খুন ও গুম' হওয়া শাহজাহানকে জীবিত উদ্ধার করলো সিআইডি

নেত্রকোণায় শাহজাহান কবির নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার পর তার লাশ গুম করার অভিযোগে স্ত্রী ও স্ত্রীর বাবাকে (শ্বশুর) আসামি করে দায়েরকৃত মামলায় ভিকটিমকে (শাহজাহান কবির) জীবিত উদ্ধার করেছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)।

রোববার (৩ জুলাই) সিআইডি'র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার সাইয়েদ আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জীবিত উদ্ধার শাহজাহান কবির নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার বাদে আমতৈল গ্রামের মৃত ইন্নছ আলী ছেলে। তাকে জামালপুরের নুরুন্দি শৈলেরকান্দা পীরের মাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করে সিআইডি। 

মামলার বাদি হলেন শাহজাহানের ছোট ভাই আবুল খায়ের। তিনি তার ভাইকে হত্যা শেষে গুম করে অন্যত্র লুকিয়ে ফেলার অপরাধে নেত্রকোণায় আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে ভাই নিখোঁজের বিষয়ে কলমাকান্দা থানায় একটি জিডিও করেন তিনি।

এ মামলার আসামিরা হলেন- শাহজাহানের স্ত্রী মিলি আক্তার (২২) ও শাহজাহানের শ্বশুর ফজলু মিয়া (৫০)। তাদের বাড়ি উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কয়রা গ্রামে । 

নেত্রকোণার সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার সাইয়েদ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, মামলাটি তদন্তভার সিইডি দায়িত্ব পাবার পর বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়। গোপন তথ্যে বের হয়ে আসে শাহজাহান জামালপুরে অবস্থান করছেন। গত শুক্রবার শৈলাকান্দা পীরের মাজার এলাকা থেকে তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হই। 

শাহজাহান আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দীতে তিনি পরিবারে অশান্তি ও কলহের কারণে মানসিক শান্তির জন্য পরিবারকে না জানিয়ে স্বেচ্ছায় সেখানে চলে গেছেন বলে জানান।

এদিকে এ মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, আমার ক্লাইন্ট যাতে সম্পত্তিতে ভাগ বসাতে না পারে এজন্য ফাঁসাতে বাদিপক্ষ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নাটক সাজিয়েছেন। বাদিপক্ষের লোকজনসহ শাহজাহান নিজেও জানেন তার স্ত্রী ও শ্বশুরকে হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে। জীবিত জেনেও তারা ক্লায়েন্টকে সামজিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। গত ৯ জুন মামলার তারিখে আমার ক্লায়েন্ট আদালতে হাজিরাও দিয়েছেন। আগামী তারিখে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কি হবে তা নির্ধারণে কথা জানান তিনি।

আদালতের নির্দেশের চলতি বছরের এক মার্চ রাতে হত্যা মামলাটি কলমাকান্দা থানায় রেকর্ডভূক্ত করা হয়। ওইদিনই আবুল খায়ের তার ভাবী ও তাওই (ভাবীর বাবা) এর বিরুদ্ধে শাহজাহানকে হত্যা ও গুম করার অপরাধ এনে নেত্রকোণার আদালতে মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: পেছালো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

এজাহারের বর্ণনা মতে, মিলি আক্তার ও শাহজাহান নিজেরাই বিয়ে করেছেন। সে সম্পর্কে বাদির ভাবী মিলি আক্তার। বাদির ভাবী বাপের বাড়ি যাবার কথা বলে অন্যত্র রাত্রীযাপন করেন। দুশ্চরিত্রা, কলহাপ্রিয়া ও বহুগামী নারী এবং বহু পুরুষের সাথে সম্পর্কে লিপ্ত এগুলো বাদির ভাই সমর্থক করতো না। তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মনোমালিন্য হতো। এসব বিষয় নিয়ে মিলি আক্তার রাগ করে বাপের বাড়ি চলে যান। 

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১৫ জানুয়ারী বিকেলে মিলি আক্তারের ফোনে পেয়ে শাহজাহান তার শ্বশুরবাড়ি যাবে বলে বাড়ি থেকে বের হন। বাদি জানতে পারেন শ্বশুরবাড়িতে যাত্রীযাপন শেষে পরের দিন আলী ওসমানকে (বাদির ভাই) ফোনে ভাবী জানায় তার স্বামীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে প্রথমে নিখোঁজের জিডি ও পরে আদালতে হত্যা মামলা করেন আবুল খায়ের।


একাত্তর/আরবিএস  

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

বাতাস যখন ভয়ঙ্কর-২

১ মাস ১০ দিন আগে